অন্যের মতো নয়।

পাতা সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে। মা বাবা মিলে পাতার পরিবার। পাতার অনেক ভালো গুণ আছে তা হলো কবিতা আবৃত্তি। পাতা যখন তার কবিতার বই থেকে কবিতা আবৃত্তি করে তখন বাবা তা মন দিয়ে শুনে।আর হাসিমুখে বলেন , বাহ।  চমৎকার ! খুশি হয়ে বলেন , কবিতাটি কার মা ? তখন পাতা খুশি হয়ে বাবাকে বলেন , বাবা কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের ! বাবা তখন বলেন , খুব ভালো হয়েছে ! পাতা তখন বাবার কথায় খুশি হয়। পাতার মা পাতাকে রোজ স্কুলে আনা নেওয়া করেন। পাতার পড়াশুনা কি লাগবে না লাগবে সবকিছুই তার মা বাবা দেখেন। একদিন পাতাদের পরীক্ষার ফল বের হয়েছে ! পাতা পরীক্ষায় ভালো করেছে কিন্তু পাতার মা তাতে তেমন সন্তোষ না মা পাতাকে জিজ্ঞেস করলেন , তোমাদের ক্লাসে আর কে কে ভালো করেছে ? পাতা মা কে বললো, মা একজন খুবই ভালো ফল করেছে ! পাতার মা কিছুটা অবাক হয়ে বললেন , কে সে ? পাতা মা কে বললো , তার নাম অনিতা। আমাদের ক্লাসে পরে। মা বললেন , ও দেখতে কেমন ? পাতা অনিতার বর্ণনা দিলো। মা তার বর্ণনা শুনে মুগ্ধ হলেন আর অনিতাকে দেখার ইচ্ছে জাগলো। একদিন অনিতার সাথে পাতার মায়ের কথাও হয়ে গেলো ! তারপরের দিন সকালে পাতার মা পাতাকে চুল আচড়াতে আচড়াতে বললেন , এত বড় চুল রেখে কোন লাভ আছে ! অনিতাকে দেখেছিস ? কি সুন্দর ছোট চুল তার ! তার মতো চুল করবি। বড় চুল রেখে কোনো দরকার নেই। পাতা তার মায়ের কথা শুনতে থাকে। তারপরের দিন মা কে বললো , মা আমার না রং পেন্সিল শেষ হয়ে গিয়েছে। মা বললেন , এভাবে কথা বলছিস কেন ? অনিতাকে দেখেছিস ? তার কথার মধ্যে কি সুন্দর একটা মাধুর্য আছে ! শুনতেই অনেক ভালো লাগে। তুই তার মতো করে কথা বলবি। পাতা মায়ের কথা শুনে। তারপর রাতের বেলা বাবা এলেন পাতার কাছে খুশি মনে পাতাকে বললেন , পাতা ! এসো খেতে এসো ! আজ তোমার পছন্দের কাজলী মাছের তরকারি রান্না হয়েছে ! পাতা বসে থাকে ! বাবা পাতাকে ধরে বলেন , কি হয়েছে মা ? মন খারাপ ? পাতা বাবাকে বলে , না বাবা। বাবা বলেন , আমি তো জানি আমার মেয়ে মন খারাপ করার মতো মেয়ে নয়। আমার মেয়ে হচ্ছে খুবই অন্য রকম একদম তার মতো ! বাবার কথায় পাতা কিছুটা খুশি হয় ! এরপরের দিন পাতার মা পাতাকে বললেন , আজ অনিতা সাথে কথা হয়েছে ? পাতা মা কে বললো , তেমন না মা। পাতার মা পাতাকে বললেন , সে কি ? তুই তার ফোন নাম্বার আনিস নি ? পাতা বললো , আমার মনে ছিল না মা। পাতার মা পাতার কথা শুনে কিছুটা রাগ হলেন আর বললেন , এটা একটা কথা হলো ? শোন ক্লাসে সবসময় অনিতার সাথে মিশে থাকবি। আর কারো সাথে না হোক অনিতার সাথে থাকবি সবসময়। তার মতো করে চলবি। সবসময় তার সাথে কথা বলবি। একদম তার সাথে উঠবস করবি। সে যেখানে বসে একদম সেই খানে বসবি। সে যেগুলি করে একদম সে গুলি করবি। কথা পরিষ্কার ? পাতা মায়ের কথায় চুপ থাকে। তারপরের দিন স্কুলে পাতার মায়ের সাথে অনিতা মায়ের কথা হয়। পাতার মা অনিতার মা কে দেখে বললেন , ভাবি ! আপনি ? অনিতার মা খুশি হয়ে বললেন ,হ্যা ভাবি ! ভালো আছেন ? পাতার মা খুশি হয়ে বললেন , জি ভাবি ! তারপর অনিতার মায়ের সাথে পাতার মায়ের অনেক কথা চললো। তারপরের দিন পাতার মা পাতার হাতের লেখা দেখে বললেন , তোর হাতের লেখা এ রকম কেন ? অনিতাকে দেখেছিস ? হাতের লেখা কি সুন্দর তার ? তার মতো করে লিখবি। পাতা চুপ করে থাকে। তারপরের দিন পাতা সকাল বেলায় কবিতা আবৃত্তি করছিলো হঠাৎ মা এসে বললেন , আচ্ছা ! অনিতা কি কোনো সাংকৃতিক প্রতিযোগিতায় নাম লিখায় নি ? তার কি পছন্দ ? পাতা মা কে বললো , মা ওর নাচ পছন্দ ! অনেক সুন্দর নাচতে পারে ! পাতার কথায় মা বললেন , তাহলে তুই ও নাচ কর। পাতা মা কে বললো , মা ! আমার কাছে কবিতা আবৃত্তি ভালো লাগে ! মা পাতাকে বললেন , আমি তো বলছি তুই নাচ শিখবি ! দেখছিস না অনিতার মতো মেধাবী ছাত্রী নাচ ভালো লাগে ! তাহলে আমি বলছি তুই নাচ শিখবি। মা তার কথা বলে চলে গেলেন। তারপরের দিন পাতাকে তার মা নাচের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন ! কিন্তু পাতার নাচের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। স্কুলে থেকে এসে পাতা মন খারাপ করে বসে রইলো। বাবা পাতাকে আদর করে বললেন , কি হয়েছে মা ? পাতা বাবার দিকে তাকিয়ে রইলো। বাবা বললেন , মা ! কিছু হয়েছে ? পাতা বাবাকে বললেন , বাবা ! আমার মনে হয় আর আবৃত্তি করা হবে না ! বাবা অবাক হয়ে বললেন , কেন মা ? কি হয়েছে ? পাতা বাবাকে সব খুলে বলে। বাবা পাতাকে হাসি মুখে বলেন , মা ! মা রা তো এরকম চাবেই ! মা রা তো সবসময় তার সন্তানের ভালো টাই চান ! পাতা বাবাকে বললো , কিন্তু বাবা ! আমার যে আবৃত্তি প্রিয় ! বাবা হাসিমুখে বললেন , তা তো জানি মা ! তুমি অবশ্যই আবৃত্তিতে নাম লিখাবে ! আমার বিশ্বাস তুমি অবশ্যই ভালো করবে ! বাবার কথায় পাতা অনেক খুশি হয় ! তারপরের দিন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেলো ! পাতা করলো আবৃত্তি আর অনিতা করলো নাচ ! সবশেষে বের হলো ফলাফল ! দেখা গেলো আবৃত্তিতে পাতা হয়েছে প্রথম এবং নাচে অনিতা হয়েছে দ্বিতীয় ! ব্যাপারটি দেখে পাতার মা অবাক হয়ে গেলেন। হঠাৎ তার অনিতার মায়ের সাথে দেখা হলো ! অনিতার মা পাতার মা কে দেখেই খুশি হয়ে বললেন , আরে ভাবি ! কেমন আছেন আপনি ? আপনার মেয়ের কবিতা আবৃত্তি শুনলাম ! খুব ভালো লেগেছে ! পাতার মা বললেন , ভাবি ! দোয়া করবেন। তারপর পাতার মা অনিতার মা কে বললেন , ভাবি ! আপনার মেয়ের নাচ দেখেও অনেক ভালো লাগলো ! তারপর অনিতার মা বললেন , আসলে ভাবি সব কিছু নির্ভর করে নিজের ইচ্ছের উপর. নিজের যদি ইচ্ছে না থাকে তাহলে কোনো কাজ ই করা সম্ভব না। তারপর পাতার মা বললেন , তারপর ও মা বাবাদের তো একটা চাহিদা থাকতে পারে। অনিতার মা বললেন , তা তো অবশ্যই। কিন্তু প্রথমেই দরকার নিজের মতো করে থাকাটা। শুধু নিজের একার ইচ্ছে থাকলেই হবে না সাথে ছেলে মেয়েদেরকেও নিজের মতো করে চলতে দিতে হবে। আগে জানতে হবে তাদের মতামত। আর ভাবি ! আমার মেয়ে অনিতা ওকে আমি সবসময় ওর মতো করে চলতে দিয়েছি ! ওর যা ভালো লাগে যা পছন্দ তাই করতে দিয়েছি আর ভাবি আমি মনে করি যে সব বাচ্চাদের নিজের পছন্দটাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পাতার মা মন দিয়ে অনিতার কথা শুনছিলেন। আর মনে মনে ভাবছিলেন। তারপরের দিন পাতার মা পাতাকে আদর করলেন আর হাসিমুখে বললেন , মা ! তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস। পাতা কিছু বুঝতে না পেরে বললো , কেন মা ? মা বললেন , মা রে আমি আসলে কিছু বুঝতে পারি নি। আসলে সবার আগে নিজের যে একটা মত থাকে নিজের যে একটা ইচ্ছে আছে সেটি আমি জানতাম না। আমি অন্যের মতো করে তোকে গড়তে চেয়েছিলাম। তুই আমার চোখ খুলে দিয়েছিস। তারপর পাতার জন্মদিন চলে এলো ! অনিতা এলো পাতার জন্মদিনে ! এবং পাতাকে তার পছন্দের বই উপহার দিলো ! পাতা তাতে অনেক খুশি হলো ! তারপর সবাই মিলে হাসি দিয়ে একটা ছবি তুলে ফেললো !

Share This:

ROSY BEGUM

আমি রসিক মানুষ। ভালোবাসি ফেইসবুক চালাতে , ম্যাগাজিন পড়তে আর ঘুমাতে।
Close Menu

Content

Share This: