অবহেলা নয়

পরিবারের একটাই মেয়ে, নাম নিশিতা । চুতর্থ শ্রেণীতে পড়ে। বাবা চাকরিজীবী। নিশিতার মা নেই। মা নিশিতার জন্মের আগেই মারা যান। বাবাই নিশিতার খেয়াল রাখেন। নিশিতার সব ভালো লাগা তার বাবা। নিশিতা হাটতে পারে না। হইলচেয়ারে চলা ফেরা করে। নিশিতার মধ্যে রয়েছে দারুন প্রতিভা। হাতে অনেক সুন্দর ছবি আঁকতে পারে সে। তার এতো সুন্দর প্রতিভার জন্য তার বাবাই দায়ী। বাবাই নিশিতাকে যখন ছবি আঁকার প্রতি অনেক উৎসাহ দিতে থাকে তখন ই নিশিতা সাথে সাথে তার রং পেন্সিল নিয়ে আঁকতে থাকে। আঁকতে আঁকতে বাবাকে বলে , দেখো তো বাবা আমার কোন ছবিটি বেশি সুন্দর হয়েছে ?! মেয়ের হাসি আর উৎসাহ দেখে বাবা নিজেও অনেক উৎসাহিত হন। স্কুলে সবাই নিশিতার বন্ধু কিন্তু একজন ছিল তার নাম অর্ণব। খুবই অন্য প্রকৃতির। নিশিতা হইলচেয়ারে চলে বলে তাকে নিয়ে অনেক মজা করে। এমন কি নিশিতার ছবি আঁকা দেখে যখন সব বন্ধুরা প্রশংসা করে তখন তার মনে রাগ হয়। সামনে স্কুলে ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে। সেটি নিয়ে স্কুলে এখন সাজ সাজ ভাব। ছাত্ৰ ছাত্রীরা সবাই যার যার ছবি আঁকা আঁকি নিয়ে ব্যাস্ত। নিশিতার এক সহপাঠী নাম আকাশী। অর্ণব আকাশী সাথে কথা বলতে বলতে বললো , তুই ওই প্রতিবন্ধী মেয়ের সাথে কি করিস ? ওর সাথে তোর কাজ কি ? আকাশী একটু বিরুক্ত হয়ে বললো , দেখ অর্ণব , নিশিতা যাই হোক ও আমাদের সবার বন্ধু। আর তুই তাকে এইভাবে দেখতে পারিস না। আকাশী এই বলে চলে গেলো। অর্ণব মুখ বাঁকা করে বললো , দেখা যাবে কে সেরা। এর পর স্কুলে ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেলো। সবাই যার যার রং পেন্সিল নিয়ে যার যার পছন্দ মতো ছবি আঁকা শুরু করে দিলো। একদম ঠিক সময়ে ছবি আঁকা শেষ হলো। এখন পুরুষ্কার বিতরণীর পালা ! সবাই যার যার জায়গায় বসে আছে। পুরুষ্কার বিতরণীর পর্বে শুরুতেই নাম উঠলো নিশিতার ! ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় নিশিতা হয়েছে প্রথম !!! নিশিতা প্রথমে বিশ্বাসী করতে পারছিলো না ! নিশিতার জন্য এতো একটি বড় জিনিস অপেক্ষা করছে ! নিশিতা পুরুষ্কার পেয়েই বাবাকে অনেক শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। মেয়ের এই সাফল্য দেখে বাবা আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না। সব বন্ধুরা নিশিতার সাথে ছবি তুলার জন্য উৎসাহী হচ্ছে ! অর্ণব অনুতপ্ত হয়ে নিশিতার কাছে এলো। বললো , আমি এতো দিন বুঝতে পারি নি। আসলেও এই রকম অবহেলা করাটি মোটেও ঠিক না। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমার কাজটি করা মোটেও ঠিক হয় নি। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও। অর্ণব তার ভুল বুঝতে পেরেছে তাই নিশিতা একটু মলিন হাসি দিয়ে বললো , তুমি তোমার ভুল বুঝতে পেরেছো এতে আমরা সবাই খুশি ! চলো আজ থেকে ভাব। আমরা সবাই বন্ধু ! অর্ণব অনেক খুশি হলো। তার পর সবাই হাসি দিয়ে একটি ছবি তুললো !

Share This:

ROSY BEGUM

আমি রসিক মানুষ। ভালোবাসি ফেইসবুক চালাতে , ম্যাগাজিন পড়তে আর ঘুমাতে।
Close Menu

Content

Share This: