অভিশপ্ত গ্রাম ও বহুরূপীভ্যাম্পায়া। (পর্ব:১-৫) গল্পটি আপনাদের অবশ্যই ভাল লাগবে।এটা আমার নিজের লিখা প্রথম গল্প।

গল্পের নাম:-অভিশপ্ত গ্রাম এবং বহুরূপী
ভ্যাম্পায়ার।

লেখক:[url=http://free.facebook.com/ucchbasa]উচ্ছ্বাস[/url]

————————–
পর্ব-(১-৫)
অনেক দিন ধরে কোনো গ্রাম এলাকায় ঘুরতে
যাওয়া হয়না।এবার ঠিক করলাম সুনামগঞ্জ এ
গিয়ে হাদীদের গ্রামের বাড়ি থেকে
হায়দারপুর থেকে একবার ঘুরে আসব।আমরা ৩
জন(রাব্বি, আমি,সাব্বির) মিলে মিলে
রবিবার সকাল ১০ টায় রওনা দিলাম মোহনগঞ্জ
থেকে।প্রায় ৬/৭ ঘন্টা জার্নিরর পর আমরা
সুনামগঞ্জ পৌছলাম।কিন্তু সমস্যা হল এখান
থেকে গ্রামে কোনো গাড়ি যায় না।তাই
কোনো উপায় না পেয়ে আমরা হাটতে
থাকলাম।দূর থেকে দেখা যায় একটা রিক্সা
আসছে।সাব্বির রিক্সাটাকে দাড় করানোর
চেষ্টা করল।রিক্সাটি থামানোর পর
ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলাম যে,হায়দারপুর
যাবে কি না?তারপর রিক্সার ড্রাইভার বলল
আপনারা ৪ জন।ভাড়া কিন্তু বেশি দিতে হবে।
রাব্বি জিজ্ঞাসা করল-আমরা ৪ জন কোথায়?
আমরা ত তিন জন।রিক্সা ওয়ালা তখন
আয়নাতে নিজের চেহারা দেখিয়ে বলে এই
যে দেখুন আপনাদের আরেকজন সঙ্গী রিক্সায়
উঠে বসে আছে।আমি রিক্সা ওয়ালার দিকে
কিছুক্ষন তাকিয়ে দেখলাম বেটার চোখ লাল
হয়ে আছে।(তার মানে নিশ্চই মদ খেয়ে মাতাল
হয়ে আছে)।রিক্সা ওয়ালার সাথে রাব্বি
তখনি ভাড়া নিয়ে ঝগড়া শুরু করে দিল।(আমরা
কিন্তু আগে থেকেই জানি যে,রাব্বি একটা
হাড় কিপটা।তাই ঝগড়া করাটা
স্বাভাবিক।)তারপর আমি রিক্সা ওয়ালার
দিকে ইশারা করে বুঝিয়ে দিলাম যে সে
মাতাল।রাব্বি তখন একটু শান্ত হল।তারপর
আমরা রিক্সা ওয়ালার নাম জিজ্ঞাসা
করলাম।তার নাম জিসান।
এভাবে কথা বলার মাধ্যমে জানতে পারলাম
সে হাদীদের গ্রামেরই লোক।
প্রায় ২০/২৫ মিনিট পর আমরা হাদীর বাড়ির
সামনে এসে নামলাম।তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে
গেছে।তারপর জিসান(রিক্সা
ওয়ালা)আমাদের সাবধানে থাকতে বলব।কেন
বলল সেটা জানি না।সাব্বির কিছুটা দূরে
লক্ষ্য করল ঝুপের আড়াল থেকে কে যেন
আমাদের দেখছে।সাব্বির সে দিকে ভাল করে
দেখতে গেলে অমনি ওখান থেকে কিছু একটা
সরে গেল।এখন অনেক ক্লান্ত লাগছে আমি আর
সাব্বিরের কথায় কান দিলাম না।তখনি
দেখলাম হাদী বাড়ির ভিতর থেকে আসছে,
সে এসে আমাদের ব্যাগ গুলো ঘরে নিয়ে গেল।
আমরা ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে
পড়লাম।কিন্তু সাব্বিরকে কেন জানি চিন্তিত
দেখাচ্ছে।সে এখনো বুঝতে পারছেনা
যে,ঝুপের আড়ালে কি ছিল.?সে এত টুকুই বলল
যে,ওটা নাকি মানুষের মত আবার মানুষের মতও
নয়।তারপর আমরা চিন্তা করতে থাকলাম
চিন্তা করতে করতে একসময় ঘুমিয়ে গেলাম।
.
.
.
.
.
.
আসলে কি ছিল ঝুপের আড়ালে…..?
………….
পর্ব-২
সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা ফ্রেশ হয়ে
নিলাম।তখনি দেখতে পেলাম হাদীর আম্মু
আমাদের জন্য নাস্তা নিয়ে আসছে।আমরা
সবাই নাস্তা করে গ্রামে ঘুরতে বের হলাম।
অনেক সুন্দর গ্রাম। যা বলার মত না।এভাবে
গ্রাম দেখতে দেখতে কিছু মানুষের সাথে
পরিচিত হয়ে নিলাম।সেখানে আবার নতুন কিছু
বন্ধুও জুটিয়ে ফেললাম।আকির এবং দদেবরাজ
তাদের দুজনকেই আমাদের সাথে নিলাম।
দেখতে দেখতে গ্রামের একেবারে শেষ
মাথায় চলে আসলাম।আর এখন প্রায় দুপুর হয়ে
গেছে। তাড়াতাড়ি বাড়ী ফিরতে হবে।মনে হয়
আঙ্কেল,আন্টি (হাদীর বাবা-মা) খুব চিন্তা
করছে।তাই আমরা আকির এবং দেবরাজকে
বিদায় দিয়ে বাড়ি ফিরার জন্য পা
বাড়ালাম।তখনি দেখলাম জিসান(রিক্সা
ওয়ালা)আমাদের দিকেই আসছে।
এসে বলল –
–স্যার আপনারা কি গ্রাম দেখতে আইছেন.?
(জিসান)
আমরা সবাই জবাব দিলাম হুম।
-তা কেমন দেখলেন আমাদের গ্রাম?(জিসান)
-খুব ভাল।(আমি)
-স্যার আপনাদের একটু সাবধান করতে চাই।
আপনারা ভুলেও সন্ধ্যায় ঘর থেকে বের হবেন
না।(জিসান)
-রাব্বি সাথে সাথে জবাব দিল।কেন?
-কারন গ্রামটা ভাল না।এই গ্রামে প্রতি
অমাবস্যায় একটা করে যুবক ছেলে হারিয়ে
যায় এবং তার পরে দিন সকালে সেই
ছেলেটির লাশ পাওয়া যায়।
হাদী এবং রাব্বি জিসান(রিক্সা ওয়ালা)এর
কথা শুনে খুব ভয় পেয়ে গেল।আমি আর সাব্বির
এত কিছু পাত্তা না দিয়ে চলে আসতে
চাইছিলাম।তখনি পিছন থেকে জিসান ডাক
দিল।বলল-স্যার আপনারা রিক্সায় উঠে পড়ুন।
আমি আপনাদের পৌছে দিচ্ছি।আমরা সবাই
রিক্সায় উঠে পড়লাম।প্রায় ১০ মিনিট পর
আমরা বাড়ীর সামনে এসে পড়লাম।আমরা
দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে একটু ঘুমিয়ে
গেলাম।প্রায় বিকাল ৫ টা বাজে আমরা ঘুম
থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।তারপর একটু
ঘুরার জন্য বের হলাম। পথেই আকির এবং
দেবরাজকে পেয়ে গেলাম।তাদেরকেও
আমাদের সাথে নিলাম।ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা
হয়ে গেল।প্রায় ৭ টা বাজে।তাই আমরা
ফেরার জন্য প্রস্তুত হলাম।যখনি আমরা ঘুরে
দাড়ালাম তখন সামনে কিছু একটা দেখলাম।
কিন্তু যা দেখলাম তা দেখে মনে হল…..
——
পর্ব ৩
এক হুজুরের মত লোক আমাদের দিকে এগিয়ে
আসছে।আমরা তাকে দেখে খুব অভাক হলাম।
তিনি তিনি আমাদের সবাইকে সাবধান করে
দিলেন যে,এই গ্রামে নাকি অশুভ শক্তি আছে।
আর আমরা যেন খুব সাবধানে থাকি।এই কথা
বলে উনি যেন কোথায় মিলিয়ে গেলেন।
আমরা আর ওসব পাত্তা না দিয়ে চলে
আসলাম।বাড়ীতে এসে দেখি খাবারের খুব
আয়োজন চলছে।আমরা সবাই রাতের খাবার
খেয়ে ঘুমাতে চলে গেলাম।
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি
বাইরে হৈচৈ আওয়াজ হচ্ছে।কেন হচ্ছে তা
দেখার জন্য বাইরে গেলাম।গিয়ে দেখি একটা
লাশ পড়ে আছে।লাশটাকে ঘিরে আছে অনেক
মানুষ।সাব্বির লক্ষ্য করল যে,লাশের ঘাড়ে
দুটো ফোটো দেখা যায়।যে রকম কোনো
প্রাণী কামড় দিলে হয়।রাব্বি হঠাৎ বলে উঠল
এটা নিশ্চই কোনো ভ্যাম্পায়ারের কাজ।
আমরা তাকে বাধা দিয়ে ঘরে চলে আসলাম।
সারাদিন এই বিষয় নিয়ে অনেক চিন্তা
করলাম।তাই খুব মাথা ধরে গেছে।বিকালে
চিন্তা করলাম গ্রামের ভিতর একটু ঘুরতে যাব।
এর মধ্যে হাদী আমাদের রুমে প্রবেশ করল।সে
নাকি আজ আমাদের একটি মেয়ের সাথে
দেখা করাতে নিয়ে যাবে।তাই আমরা
যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম।আকির এবং
দেবরাজকেও আমাদের সাথে নিলাম।পথে
হাটতে হাটতে জিসানের (রিক্সাওয়ালা)
সাথে দেখা। তারপর আমরা গ্রামের উত্তরের
দিকে রওনা দিলাম।কিন্তু এ ত দেখা যায়
রাস্তাই শেষ হচ্ছে না।একসময় আমরা গ্রামের
শেষ প্রান্তে চলে আসলাম।দেখলাম এখানে
একটা ছোট কুঁড়েঘর রয়েছে।সেখানে একটা
মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।হাদী আমাদের ইশারায়
বুঝিয়ে দিল এটাই সেই মেয়ে।আমরাত
মেয়েটিকে দেখে খুব অভাক।কারন গ্রামে এত
সুন্দর মেয়ে থাকতে পারে.? তার উপর আমার
খুব স্মার্ট। কিছুক্ষন পর মেয়েটি আমদের
দিকে ফিরে তাকাল।কিন্তু না,জিসানের
দিকে তাকিয়ে আছে।দেবরাজ মনে মনে খুব
রাগান্বিত হল।কারন সে ভেবেছিল যে,সে
মেয়েটিকে প্রপোজ করবে।কিন্তু মেয়েটি শুধু
জিসানের (রিক্সা ওয়াল) দিকে তাকিয়ে
আছে।তারপর আমরা চলে আসলাম।বিকালের
দিকে জিসান আমদের সাথে দেখা করতে এল।
সে বলল-মেয়েটি নাকি তাকে দেখা করার
জন্য ডেকেছে।আমরাও তাকে দেখা করার
জন্য পাঠিয়ে দিলাম।কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেল
জিসানের কোনো খবর নেই।তাই আমরাও ঘর
থেকে বের হলাম তাকে খুজার জন্য।পথে
আমার সেই হুজুরকে দেখতে পেলাম তিনি
আমাদের থামিয়ে দিয়ে বললেন আজ
অমাবস্যার রাত।তোমাদের ঘর থেকে
বেরোনো ঠিক হয় নি।তখনি আমি বলে উঠলাম।
কে আপনি?আর কেনই বা আমাদের বিরক্ত
করছেন.?তখন তিনি বলতে লাগলেন………
——–
পর্ব-৪
আমার নাম অলি পাগলা।আমি তোমাদের
বারবার বিরক্ত করি কারন তোমরা যেন
সাবধানে থাক।কারন তোমাদের উপর এই
গ্রামের অনেক কিছু নির্ভর করছে।আজ থেকে
চার বছর আগে এই গ্রামটি একটি আভিশপ্ত
গ্রামে পরিনত হয়েছে।আর তখন থেকেই প্রতি
অমাবস্যার রাতে একটি করে যুবক ছেলে
নিখোজ হয়ে যায় এবং তাদের লাশ কয়েক দিন
পর কারো কারো বাড়ির সামনে দেখা যায়।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম এই গ্রামটি অভিশপ্ত
হল কি করে..?(আমি)সেটা ত আমি জানি না।
এটা এখন তোমাদের খুজে বের করতে হবে।
আমি তোমাদের প্রথমেই দেখে বুঝেছিলাম
তোমরা অনেক সাহসী ছেলে।তোমরাই পারবে
এই গ্রামকে অভিশাপ মুক্ত করতে।এখন তোমরা
ঘরে ফিরে যাও।এই অমাবস্যার রাতে
তোমাদের বাইরে থাকা ঠিক হবে না।কারন
কোন দিক দিয়ে কোন বিপদ আসে কেউ বলতে
পারে না।তখন অলি পাগলা আমাকে একটা
ছুড়ি দিলেন।আর বললেন এটা তোমাদের
কাজে লাগবে।আমি আর কোনো কথা না বলে
ছুড়িটা নিয়ে নিলাম।তারপর আমরা বাড়িতে
ফিরে এলাম।এসে হাদীর বাবা-মা কে সব কিছু
খুলে বললাম।কিন্তু আমাদের কথা শুনে তিনি
যেন চমকে উঠলেন।তখন আমি বলে উঠলাম-
আপনারা যখন জানেন গ্রামে এরকম সমস্যা
হচ্ছে তাহলে আপনারা এই গ্রাম ছেড়ে অন্য
কোথাও চলে যাচ্ছেন না কেন.?তখন হাদীর
বাবা- মা বলে উঠল যে-গ্রামের সব মানুষই
নাকি এই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিল।
কিন্তু গ্রামের এক তান্ত্রিক বলে যে-কেউ
যদি গ্রাম ছাড়তে চায় তাহলে তারা সবাই
নির্বংশ হয়ে যাবে।এই কথা শুনে কেউ আর
গ্রাম ছাড়তে রাজি হয় নি।আর বললেন-তোমরা
অলি পাগলাকে কিভাবে চিন।সে ত আজ
থেকে প্রায় ২ বছর আগে মারা গেছে।কিন্তু
হাদীর বাবা- মায়ের কাছে অলি পাগলার
কথা শুনে ত মনে হল আমরা আকাশ থেকে
পড়লাম।তার মানে আমরা এতক্ষন মৃত মানুষের
সাথে কথা বলছিলাম।কথা গুলো চিন্তা
করলেই যেন শরীরের ভিতর অন্য রকম এক
অনুভূতি হয়।আমরা আর এসব কথা না বাড়িয়ে
খেতে চলে গেলাম।তারপর সারা রাত আমরা
এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে লাগলাম।কারন
শুধু শুধু একটা মৃত মানুষ আমদের সাথে কেন
দেখা করবে বারবার।আর আমরাই বা কিভবে
এই গ্রামকে অভিশাপ মুক্ত করব.?এসব কথা
চিন্তা করতে করতে মনে হল জিসানত
(রিক্সাওয়ালা)এখনো আমাদের সাথে দেখা
করল না।তাহলে কি সে তার বাড়িতে চলে
গেছে.?এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে
ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতে পারলাম না।
পরের দিন সকালে হৈচৈ শব্দে ঘুম ভাঙ্গল।
আমি সাব্বির আর রাব্বিকে ঘুম থেকে ডেকে
তুললাম।তারপর আমরা সবাই ফ্রেশ হয়ে বাইরে
গেলাম।কিসের হৈচৈ শব্দ হচ্ছে দেখার জন্য।
গিয়ে দেখি জিসানের (রিক্সাওয়ালা) লাশ
পড়ে আছে।আমরা কিছুটা অভাক হলাম।কারন
সে ত গতকাল পপীর সাথে দেখা করতে
গিয়েছিল।তাহলে আজ তার এই অবস্থা কেন.?
তারপর আমরা সবাই মিলে পপীর সাথে দেখা
করতে গেলাম।তাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা
করলাম।কাল রাতে জিসান(রিক্সাওয়ালা)
তার সাথে দেখা করতে এসেছিল কিনা।পপী
সাথে সাথে জবাব দিল -এসেছিল কিন্তু পরে
চলে গেছে।আমরা আর কিছু জিজ্ঞাসা
করলাম না।আমরাও সেখান থেকে চলে
আসলাম।আমার কেন জানি মেয়েটার উপর
সন্দেহ হচ্ছে।যাওয়ার সময় পিছন ফিরে দেখি
মেয়েটা আমদের দিকে রাগান্বিত চোখে
তাকিয়ে আছে।মনে হচ্ছে আমাদের যেন তার
চোখের আগুনে শেষ করে দিবে।তারপর আমরা
বাড়িতে এসে সিদ্ধান্ত নিলাম যে,ঐ
তান্ত্রিকের সাথে একবার দেখা করা উচিৎ।
পরের দিন আমরা গ্রামের দক্ষিনের দিকে
প্রায় শেষ প্রান্তে তান্ত্রিকের সাথে দেখা
করার জন্য গেলাম। গিয়ে দেখলাম তান্ত্রিক
নেই।আমরা তান্ত্রিকের ঘরটা ভালোভাবে
দেখলাম।তান্ত্রিকের পুজো করার জায়গায়
কিছু চুল দেখতে পেলাম।মনে হল কোনো
মেয়ের চুল।এখন তান্রিকের উপরও কিছুটা
সন্দেহ হল।পরে আমরা বাড়িতে ফিরে
আসলাম।আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে- আমি আর
সাব্বির তান্রিকের উপর নজর রাখব। আর হাদী
আর রাব্বি মেয়েটির উপর নজর রাখবে।পরের
দিন সকালে আবার দেখলাম সেখানে
দেবরাজের লাশ পড়ে আছে।ব্যপারটা যেন
দিন দিন রহস্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
তাই পরের দিন আমরা যে যার মত বেড়িয়ে
পড়লাম।আমি আর সাব্বির গেলাম তান্রিকের
উপর নজর রাখতে। আর রাব্বি আর হাদীকে
পাঠিয়ে দিলাম মেয়েটির উপর নজর রাখতে।
………
পর্ব-৫
রাব্বি আর হাদী গ্রামের উত্তরের একেবারে
শেষ মাথায় চলে গেল পপির উপর নিজর
রাখতে।আর আমি আর সাব্বির চলে গেলাম
গ্রামের দক্ষিন দিকে তান্ত্রিকের উপর নজর
রাখতে।কিন্তু সাব্বির আর আমি তান্রিকের
কুড়েঘরে গিয়ে দেখলাম যে,তান্ত্রিক ঘরে
নেই।আর ঐ দিকে রাব্বি আর হাদী গিয়ে
দেখে পপি বাড়িতে নেই।হাদী আর রাব্বি
আমাদের এই ব্যাপারটি জানানোর জন্য
আমাদের সামনে আসল।হাদী কিছু বলতে যাবে
অমনি আকির সামনে এসে আমাদের বলল-আমি
যখন বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম তখন
পপীকে দেখলাম তান্ত্রিকের রূপ নিতে।এই
কথা শুনে আমি নিশ্চিত হলাম তান্ত্রিক আর
পপী দুজনই একই ব্যক্তি।আর পপিই হল সেই
ভ্যাম্পায়ার।আমরা আবার সেই তান্ত্রিকের
কুঁড়েঘরে গেলাম। গিয়ে দেখলাম তান্ত্রিকের
পাশে একটি ছেলের দেহ অজ্ঞান অবস্থায়
পড়ে আছে।আর সেই দেহটিকে নিয়ে তান্রিক
যজ্ঞ করছে।আমরা দেখতে লাগলাম
তান্ত্রিকের কাণ্ডকারখানা। এক সময়
দেখলাম তান্ত্রিকের শরীরে রঙ ধীরে ধীরে
পরিবর্তন হচ্ছে।কিছুক্ষন পর সে আমাদের
চোখের সামনেই ভ্যাম্পায়ারের রূপ নিল।আর
আমরা তা লুকিয়ে দেখছি।তখনি নিজেদের
উপর ঘৃণা চলে আসল।কারন আমাদের চোখের
সামনে একজন মরতে বসেছে আর আমরা তা
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি।তাই আর কোনো
কথা না ভেবে আমি ভ্যাম্পায়ারের উপর
ঝাপিয়ে পড়লাম।সেই সময় সাব্বির,হাদী আর
রাব্বি মিলে ছেলেটির শরীর অন্য একটা
সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে গেল।এদিকে আমাকে
সাহায্য করার জন্য আকির এগিয়ে আসল।
ভ্যাম্পায়ারটি আমাকে ছেড়ে আকিরের উপর
ঝাপিয়ে পড়ল।কিন্তু ভ্যাম্পায়ারকে কিভাবে
মারব তার কোনো উপায় পাচ্ছিনা।যা দিয়েই
আঘাত করছি সেটা আর তার শরীরে লাগছে
না।মনে হচ্ছে ভ্যাম্পায়ারের উপর আমি পানি
ছিটাচ্ছি।তখন আমিও আকিরকে বাচানোর
জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লাম।ভ্যাম্পায়ারটি আমার
দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত হাসি হাসতে লাগল।
তখন সে আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়ল।
ভ্যাম্পায়ারটি আসতে আসতে আমার ঘাড়ের
কাছাকাছি তার মুখটি আনতে লাগল তার দুটো
দাত নিমেষে বড় হয়ে গেল।আমি আমার মৃত্যুর
কথা চিন্তা করতেছি।চোখের সামনে সবার
চেহারা ভেসে উঠছে।আল্লাহকে স্মরন করতে
লাগলাম আর বলতে লাগলাম-আল্লাহ তুমি
আমার মৃত্যুটা এভাবে দিলে।তখনি মনে হল
একটা কন্ঠ শুনতে পেলাম।মনে মনে ভাবতে
লাগলাম আমার মৃত্যুটা এমন ভাবে হয়ে গেল
যে বুঝতেই পারলাম না।
কিন্তু না চোখ খুলে দেখি আমি বেচে আছি।
আর আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অলি
পাগলা।সে বলল আমি কিছুক্ষনের জন্য
ভ্যাম্পায়ারকে আটকে রাখতে পারব এরপর
আবার সে আমার হাত থেকে মুক্তি পেয়ে
যাবে।তখনি ভ্যাম্পায়ারটি অলি পাগলাকে
দূরে ছুড়ে ফেলে দিল।যখন ভ্যাম্পায়েরটি
আবার আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ল তখন ওপাশ
থেকে অলি পাগলা বলে উঠল-আমি যে
তোমাকে ছুড়িটা দিয়েছিলাম ওটা
ভ্যাম্পায়ারের কপালের মাঝে আগাত কর।
অমনি আমি আমার প্যান্টের পকেট থেকে
ছুড়িটা বেড় করে ভ্যাম্পায়েরর কপালে
ঢুকিয়ে দিলাম।তখনি দেখলাম ভ্যাম্পারটি
আমাকে দূরে ফেলে দিয়ে নিজে চটপট করছে।
নিমেষে আমাদের চোখের সামনে
ভ্যাম্পায়ারটি পুড়ে ছাই হয়ে গেল।আর অলি
পাগলা তখন আমাদের সবাইকে একসাথে
ডেকে বলল-আজ তোমাদের জন্যই এই গ্রামটি
অভিশাপ থেকে এবং ঐ বহুরূপী ভ্যাম্পায়ারের
হাত থেকে মুক্তি পেল।তখন আমি জিজ্ঞাসা
করলাম-আপনি যখন সব কিছুই জানতেন তখন
আপনি কেন ভ্যাম্পায়ারটিকে মারেন নি.?
অলি পাগলা মাথা নিচু করে বলতে লাগল –
আমি একজন অশরীরী। তাকে কোনো কিছু
করার মত ক্ষমতা আমাদের মত অশরীর কাছে
নেই।ভ্যাম্পায়ারটিকে যদি কেউ কেউ মারতে
পারে তারা হল তোমাদের মত সাহসী
ছেলেরা।আমরা আরো কিছুক্ষন কথা বলার পর
অলি পাগলা আমাদের চোখের সামনে অদৃশ্য
হয়ে গেল।তারপর আমরা বাড়িতে এসে
আরামের একটা ঘুম দিলাম।আর চিন্তা করতে
লাগলাম আবারো হয়ত নতুন কোনো কিছু
অপেক্ষা করছে আমার জন্য।সকালে ঘুম থেকে
উঠে আমরা হাদীর বাবা-মায়ের কাছ থেকে
বিদায় নিয়ে চলে আসলাম আমাদের প্রিয়
মোহনগঞ্জে।
—-সমাপ্ত—-
……………
গল্পটি কেমন অবশ্যই জানাবেন।
প্রথম প্রকাশ হয় ফেইসবুকে।

Share This:

This Post Has 4 Comments

Close Menu

Content

Share This: