অর্ক ও সেই ছেলেটি

নাম অর্ক, পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। একদিন খুব সকালে অর্ক স্কুলের দিকে যাচ্ছিলো। হঠাৎ অর্ক তার স্কুলের গেটের সামনে একটি অনাহারী ছেলেকে দেখতে পেলো । অনাহারী ছেলেটিকে সবসময় দেখা যায় স্কুলের গেটের সামনে ভিক্ষে করতে। অর্ক ছেলেটির দিকে তাকায়। ছেলেটি অর্কের দিকে তাকিয়ে কিছু বুঝতে না পেরে তার দুটি মিটি মিটি চোখে হাসে। ক্লাস শেষে অর্ক সেই ছেলেটিকে দেখলো গেটের সামনে বসে আছে। ছেলেটিকে দেখে অর্কের তার সাথে কথা বলতে অনেক ইচ্ছে হলো। অর্ক সেই ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার নাম কি ? ছেলেটি বললো , সবুজ। অর্ক বললো , তোমাদের পরিবারে কে কে আছে ? ছেলেটি বললো , মা আসে আর আমি। তারপর অর্ক বললো , তুমি ভিক্ষে করো কেন ? অর্কের কথা শুনে সেই ছেলেটি বললো , মায়ের অনেক অসুখ। ডাক্তার দেখানো লাগবো। ডাক্তার দেখাইতে মেলা টেকা। এতো টেকা কোথায় পামু? এই বলে ছেলেটির চোখে পানি চলে এলো। তার চোখে পানি দেখে অর্কের কিছুটা মন খারাপ হলো। অর্ক তার খাবারের টাকাটি সেই ছেলেটিকে দিয়ে দিলো। ছেলেটি অর্কের দিকে তাকিয়ে থাকলো। পরের দিন টিফিনের সময় অর্ক সেই ছেলেটিকে দেখলো। বললো , তুমি সারাদিন এইভাবে বসে থাকো। তোমার ক্লান্ত লাগে না ? ছেলেটি অর্কের কোথায় কিছুটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো ,কেলান্ত লাগলে চলবো ? অর্ক ছেলেটিকে বললো , তুমি কিছু খেয়েছো ? ছেলেটি অর্কের দিকে চেয়ে থাকলো। তারপর বললো , খাওন ?! কতদিন পোলাও দিয়া গরুর মাংস খাই না ! অর্ক ছেলেটির কথা শুনে বললো , তুমি এখন খাবে ? অর্ক ছেলেটিকে তার টিফিনটি দিলো। ছেলেটি অবাক হয়ে বললো , আপনি খাইবেন কি ?! অর্ক বললো , আমি খেয়েছি। তুমি খাও। অর্ক ছেলেটির খাওয়া আপন মনে দেখতে লাগলো। দুপুরবেলা স্কুল ছুটি হলো। স্কুল ছুটি হওয়ার পর অর্ক সেই ছেলেটিকে বললো , চলো আজ তোমাকে আমার বাসায় নিয়ে যাবো ! ছেলেটি অর্কের কথায় কিছুটা বিস্মিত হলো। তারপর বললো , আপনের বাসায় ?! অর্ক বললো , হ্যা ! তারপর অর্ক অনেক আগ্রহ নিয়ে ছেলেটিকে নিয়ে এলো ! ছেলেটি অর্কের বাসা দেখে বললো , এতো বড় বাসায় আপনেরা থাকেন ?!অর্ক বললো , হ্যা !!! তোমার যখন প্রয়োজন হবে তখন ই তুমি চলে আসবে আমার বাসায় ! সেই ছেলেটি অর্কের কথায় মনে মনে অনেক খুশি হলো ! তারপর একদিন ছেলেটি অর্কের বাসায় এলো খাবারের জন্য। ছেলেটি আসায় অর্ক অনেক খুশি হয়েছে ! হঠাৎ তার মা ব্যাপারটি লক্ষ্য করলো। মা বললো , অর্ক ? ছেলেটি কে ? অর্ক মা কে অনেক উৎসাহের সহিত বললো , মা ওর নাম সবুজ ! ও আমার অনেক ভালো বন্ধু ! মা বললো , তাকে এই খানে কে ডেকেছে ? মায়ের কথায় অর্ক বললো , মা আমি ! মা রাগ হয়ে বললো , অর্ক . তুমি যাও পড়তে বসো। অর্ক বললো , কিন্তু মা , মা বললো , যাও ! অর্ক গেলো। অর্কের মা রাগ হলো সেই ছেলেটির প্রতি। রাগ হয়ে বললো , আই ছেলে ! তুমি এইখানে কিসের জন্যে এসেছো ? ছেলেটি কোনো কথা বললো না। অর্কের মা রাগ হয়ে বললো , কথা বলছো না কেন ? আমি যাতে ওর সাথে তোমাকে দেখতে যেন না দেখি ঠিক আছে ? তারপর বাড়ির পাহারাদার ডেকে ছেলেটিকে বের করে দেওয়া হলো। ছেলেটিকে বের করে দেওয়ার পর ছেলেটিকে আর কোথাও পাওয়া যায় নি। অর্ক বার বার চেয়ে থাকে স্কুলের গেটের দিকে কিন্তু ছেলেটিকে দেখতে পায় না। বাসার কলিংবেল বাজলে মনে করে ছেলেটি এসেছে। কিন্তু তা নয় ! অর্ক চেয়ে থাকে বাসার রাস্তাটির দিকে যদি ছেলেটি আসে ! কিন্তু আসলে তা নয়। . অর্ক প্রতিদিন ছেলেটির জন্য অপেক্ষা করে ছেলেটিকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু ছেলেটিকে কোথাও দেখা যায় না। কোথায় না খুঁজা হয় নি ? বস্তি , রাস্তাঘাট এমনকি পার্ক সব সব জায়গায় খুঁজা হয়েছে। কোথাও পেলো না। একদিন অর্ক আর তার মা মিলে রিকশায় করে কোথায় যেন যাচ্ছিলো। হঠাৎ রাস্তায় অনেক ভিড় লক্ষ্য করলো ! এতো ভিড় কেন অর্ক তা দেখতে চাইলো। সাথে সাথে মা এর সঙ্গে রিকশা থেকে নেমে পড়লো। ভিড় সরিয়ে অর্ক দেখলো সেই ছেলেটি !!! যাকে সে দিনরাত খুঁজেছিলো ! হ্যা সেই ছেলেটি !!! কিন্তু ওর এই অবস্থা কেন ? রক্তাত্ব শরীর ! পরে জানা গেলো এটি এক্সিডেন্ট। অর্ক অনেক কেঁদে দিলো। অর্কের মা মন খারাপ করে রইলো। নিজেকে তার অনেক অপরাধী মনে হলো। মনে মনে বললো , আমি কেন ছেলেটির সাথে এমন করলাম ? ছেলেটিতো আমার নিজের ছেলেও হতে পারতো। তারপর আর দেরি না করে ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো।

 

পৃথিবীর সবাই সমান। মানুষে মানুষে কখনো প্রভেদ করতে নেই। সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই এই গল্পের মুল ভাবনা।

 

Share This:

ROSY BEGUM

আমি রসিক মানুষ। ভালোবাসি ফেইসবুক চালাতে , ম্যাগাজিন পড়তে আর ঘুমাতে।
Close Menu

Content

Share This: