আমি পড়ালেখায় ভাল করতে চাই এখন আমাকে কি করতে হবে?কিভাবে আমি ভাল রেজাল্ট করতে পারি?

জেনে নিন পড়াশোনায় মনোযোগী হবার কিছু উপায়ঃ
০১. মনস্থিরঃ অমনোযোগীতা আনতে পারে এমন সব বিষয় মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।আপনার পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু হাতের কাছেই রাখুন যাতে বারবার উঠতে না হয়।অনেকের বারবার ফোন আসে পড়ার সময়। খুব বেশি দরকার না হলে ফোন বন্ধ করে রাখতে পারেন।পড়তে বসার অন্তত ৫ মিনিট আগে থেকে মনস্থির করুন
০২. শিক্ষকতাঃ
আপনি যে বিষয় পড়বেন সেটা অন্য কাউকে শিক্ষা দিন।এমন কাউকে শিক্ষা দিন যে বিষয়টা সম্পর্কে জানেনা।শিক্ষকতা নিজের জ্ঞান আহরণের জন্য সবচেয়ে উত্তম উপায়।যেমন- আপনি যদি গণিত কম বোঝেন বা গণিত নিয়ে পড়তে চান ভবিষ্যতে আপনার উচিত এখন থেকেই গনিতের উপর শিক্ষা দান করা।এতে আপনার নিজেরও চর্চা থাকবে বিষয়টির উপর।
০৩. ইন্দ্রিয় সক্রিয়ঃ
আপনার সব ইন্দ্রিয় সক্রিয় করুন।আপনি একটি বিষয় যতই পড়ুন না কেন সারাদিন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি তা মনে রাখতে পারবেন না অথবা বুঝবেন না যতক্ষণ না আপনি বিষয়টি আপনার চারপাশের কিছুর সাথে সম্পৃক্ত করতে পারছেন।চারপাশের জিনিসের সাথে আপনি আহরণ করা জ্ঞান মিলিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুন।
০৪. সংযোগঃ
প্রত্যেকটি বিষয়, ধারণার মাঝে সংযোগ স্থাপন করতে শিখুন।একটি আরেকটির সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আপনার নিজের জ্ঞানের পরিধিও অনেক বাড়বে
০৫. নতুন ধারণা ও পরিচিত ধারণার মাঝে সংযোগঃ
আপনি যখন নতুন কোন বিষয় বা তথ্য সম্পর্কে জানবেন তখন তা আপনার বর্তমানের পরিচিত কোন জানা তথ্য বা ধারণার সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করুন।এতে পরীক্ষার সময় আপনার সে নতুন তথ্য ভুলে যাবার আশঙ্কা কম থাকে
০৬. মস্তিষ্কের উপর চাপ না দেয়াঃ
পরীক্ষার আগে কিছুদিন পড়লে আপনার মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়তে পারে।তাই সবসময় অল্প অল্প পড়ার মাঝে থাকবেন।এতে করে আপনার উপর কোন মানসিক চাপও থাকবেনা আর আপনি পরীক্ষার আগে একটু রিভিশন দিলেই আপনার প্রিপারেশন হয়ে যাবে।
০৭. তথ্যের ধরনঃ
পড়ার সময় প্রত্যেকটি তথ্যের ধরন বোঝার চেষ্টা করুন।যেমন- যে তথ্য দেয়া আছে সেটা কি গাণিতিক তথ্য, নাকি ঐতিহাসিক কোন তথ্য, নাকি কোন ব্যক্তি বা দেশ সম্পর্কে তথ্য এসব বিষয়ে ভালো করে বুঝে তারপর মুখস্ত করতে হবে।না বুঝে মুখস্ত করলে তা কোনদিন মনে থাকবেনা
০৮. সুদৃঢ় জ্ঞানের ভিতঃ
সব সময় পুস্তকি বিদ্যার সাথে সম্পৃক্ত করলে হবেনা।অন্যান্য বিভিন্ন বই থেকে আহরিত জ্ঞানের সাথেও সম্পৃক্ত করতে হবে।সেজন্য দেশ ও দেশের বাইরের অনেক লেখকের বই পড়ার অভ্যাস সব সময় রাখতে হবে।এটা শুধু মাত্র বিনোদনের জন্য নয়, বরং অনেক কিছু সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করা যায় আর নিজের জ্ঞানের ভিত্তিটা অনেক মজবুত ও শক্ত করে গড়ে তোলা যায় যাকে ভিত হিসেবে ধরে আপনি আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে নিতে পারেন
০৯. নিজস্ব রীতিঃ
যখন কোন বিষয় পড়বেন তখন নিজের একটা আলাদা রীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করুন আর বিষয়টির একটি ছবি আপনার মনের মধ্যে এঁকে নিন।এতে বিষয়টি আপনার খুব সহজেই মনে থাকবে
১০. নোটঃ
আপনার পড়ার মূল লক্ষ্য হবে সেটাকে বুঝে জ্ঞান আহরণ করা আর পরীক্ষায় ভালো করা।কিন্তু আপনি যদি নাই বোঝেন তাহলে ভালো করার প্রশ্নই আসেনা।তাই যে বিষয়টি বুঝবেন না তার পেছনে একটু বেশি মনোযোগী হন।প্রয়োজনে খাতায় লিখে,নোট করে বোঝেন।কারণ না বুঝে মুখস্ত করলে সেটা বেশিক্ষণ মনে রাখা কোন ছাত্রের পক্ষেই সম্ভব নয়।
১১.পড়া নিবার্চনঃ
স্থির করুন কী পড়বেন।আর তার আগে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করে নিন কেন পড়ছেন অর্থাৎ পড়ালেখার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।
১২.ফ্রেশ মাইন্ডঃ
যদি ঘুম ঘুম লাগে তবে পড়তে বসবেন না।পত্রিকা পড়ে বা মজার কিছু করে ঘুম তাড়ানোর চেষ্টা করুন।এটা মনে রাখবেন, ঘুম চোখে পড়লে শুধূ সময়ই নষ্ট হবে।কোনো কাজে আসবে না।এর চেয়ে ঘুমানোই ভালো।ঘুম চলে গেলে বই নিয়ে বসে যান।এবার দেখুন মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারছেন।
১৩.বুঝে পড়ূনঃ (repeat)
যা পড়ছেন ভালোভাবে
বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন।না বুঝে পড়লে কাজে আসবে না।আরেকটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে, যত অল্প কিংবা বেশি পড়েন না কেন, তা যেন মনযোগ সহকারে হয়।তাই পড়ার পরিবেশটা যেন সুন্দর হয়।লক্ষ রাখুন,সুন্দর মানে কিন্তু ব্যয়বহুল নয়।পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সৌন্দর্য অমূল্য।মনোযোগ আপনার বাড়বেই।পড়ায় মন বসাতে যে কাজগুলো করতে পারেন আপনি- ক. লক্ষ্য ঠিক করুন : আপনার লক্ষ্য নিশ্চয় ঠিক করাই আছে।সেক্ষেত্রে আপনি আপনার লক্ষ্যটিকে মনে করে আবার ঝালাই করুন।আপনি চাইছেন এবারের পরীক্ষায় যে করেই হোক একটা আকাক্ষিত পয়েন্টে নিয়ে যাবেন আপনার রেজাল্ট।এই লক্ষ্যে পূরণ করতে একটু নিবিষ্ট হন।দেখবেন আপনার মাঝে একটা জিদের উদ্ভব হয়েছে এবং আপনি আবারো পড়ায় মনোযোগ দিতে পারবেন।
১৪. পড়তে বসার আগে একটু চিন্তা করুনঃ
কী পড়বেন, কেন পড়বেন, কতক্ষণ ধরে পড়বেন।প্রত্যেকবার পড়ার আগে কিছু টার্গেট ঠিক করে নিন।যেমন, এত পৃষ্ঠা বা এতগুলো অনুশীলনী পড়ব।
১৫. বিষয়ের বৈচিত্র্য রাখুনঃ
নিত্য নতুন পড়ার কৌশল চিন্তা করুন।
১৬. এনার্জি লেভেলের সঙ্গে আগ্রহের একটা সম্পর্ক আছে।এনার্জি যত বেশি মনোযোগ নিবদ্ধ করার ক্ষমতা তত বেশি হয়।আর অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীর দিনের প্রথমভাগেই এনার্জি বেশি থাকে।তাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যে পড়াটা দিনে ১ ঘন্টায় পড়তে পারছে সেই একই পড়া পড়তে রাতে দেড় ঘণ্টা লাগছে।তাই কঠিন, বিরক্তিকর ও একঘেয়ে বিষয়গুলো সকালের দিকেই পড়ুন।পছন্দের বিষয়গুলো পড়ুন পরের দিকে।তবে যদি উল্টোটা হয়, অর্থাৎ রাতে পড়তে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাহলে সেভাবেই সাজান আপনার রুটিন।
১৭. একটানা না পড়ে বিরতি দিয়ে পড়বেন।কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা ২৫ মিনিটের বেশি একজন মানুষ মনোযোগ দিতে পারে না।তাই একটানা মনোযোগের জন্যে মনের ওপর বল প্রয়োগ না করে প্রতি ৫০ মিনিট পড়ার পর ৫ মিনিটের একটা ছোট্ট বিরতি নিতে পারেন।কিন্তু এ বিরতির সময় টিভি, মোবাইল বা কম্পিউটার নিয়ে ব্যস্ত হবেন না। যা হয়তো ৫ মিনিটের নামে দুঘণ্টা নিয়ে নিতে পারে।
উপরের স্টেপ গুলা মেনে চললে আপনি ও হতে পারেন একজন সেরা শিক্ষার্থী।আমরা ও সেটাই চাই।
(উপরের তথ্যগুলোর মধ্যে কিছূ তথ্য নেওয়া হয়েছে বিস্ময়.কম থেকে)
আপনারা ভাল থাকুন,এটাই আমাদের কাম্য।
সাইবার বাংলার সাথে থাকুন,ভাল থাকুন।ধন্যবাদ।

Share This:

Shakil

আমি ব্লগ এর জগতে নতুন।তাই লেখার হাত ও এখনো অনুন্নত,উন্নত করার চেষ্টায় আছি প্রতিনিয়ত।।আর তখন ই উন্নত হবে, যখন আপনারা আমার পোস্ট সম্পর্কে মন্তব্য করবেন।সেটা খারাপ হোক বা ভালো।
Close Menu

Content

Share This: