ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা সাজেশন(এসএসসি পরিক্ষা-২০১৯)

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

সাজেশন

এসএসসি পরিক্ষা-২০১৯

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা একটি আবশ্যিক বিষয় অর্থাৎ সকল শিক্ষার্থী যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী তাদের জন্য এই বিষয় টা আবশ্যিক এখন সে যেই বিভাগের ই হোক না কেন ।

 

দেখা গেছে প্রতিবছর এই বিষয়ে অনেক অনেক শিক্ষার্থীদের A+ আসে নি । যার কারণে তাদের সব বিষয়ে A+ আসছে না যাকে অনেকেই গোল্ডেন বলে। আর এর একমাত্র কারণ হতে পারে এই বিষয়ের প্রতি অনিহা । বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তো তাদের বিজ্ঞান এর বিষয় গুলো নিয়ে এত মগ্ন হয়ে পড়ে যে তারা বাকি বিষয় গুলো যেমধ ইসলাম ধর্ম, সমাজ যাকে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় । ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা কোনো বিষয় হল এই ভেবেই অনেক শিক্ষার্থী এটা পড়ে না । ঐ যে বলে না একটা কথা বাড়ির গুরু উঠানের ঘাস খায় না । আমরা যেই ধর্মের অনুসারী সেই ধর্ম নিয়ে আমাদের নেই কোনো চর্চা । অজানা দিয়ে ভরপুর । দুই বছরের পরিক্ষার আগের রাত ছাড়া কে যে কত এই বইটা পড়ে তা সত্যি ভাবার বাইরে । থাক সেদিকে না যাই সাজেশন টার দিকে যাই ।

প্রতিবছর সারাদেশে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এক প্রশ্ন হয়ে আসছে । যার কারণে এর সাজেশন তৈরি করা যেমন সহজ তেমনি কঠিন । অনেক গুলো অপশন থাকলে যেমন একটা বেছে নেয়া কঠিন আবার তেমনি অনেক গুলো থাকায় সহজ হয় তেমনি এই ক্ষেত্রে তার বিপরীত টা হয়েছে ।

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা সাজেশন

প্রথম অধ্যায়(আকাইদ ও নৈতিক জীবন)

গত বছর এই অধ্যায়ের যেই অংশ গুলো থেকে প্রশ্ন হয়েছে সেগুলো ছিল শিরক ,পরকালের শাস্তি,ইসলাম , রিসালত, খাতামুন নাবিয়্যিন এই কয়েকটা জায়গা থেকে । তাই এবার খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুলো হলো ইমান, তাওহিদ , নিফাক,কুফর, আসমানী কিতাব , শিরক( পর পর তিন বছর এখান থেকে প্রশ্ন আসায় এবার আসতেও পারে নাও পারে তবে পড়ে যাওয়া টা বুদ্ধিমানের কাজ হবে । পরকালীন জীবন বা আখিরাত টাও অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ । প্রথম অধ্যায় টা খুব গুরুত্ব পূর্ণ এখান থেকে দুইয়ের অধিক ও সৃজনশীল থাকতে পারে । তাই এই অধ্যায়ের উপর একটা ভালো প্রস্তুতি থাকা খুব প্রয়োজনীয় বলে আমি মনে করি ।

দ্বিতীয় অধ্যায়(শরিয়তের উৎস)

এই অধ্যায়ের সব থেকে গুরুত্ব পূর্ণ অংশই হলো শরিয়তের চারটি অংশ ও তাদের ব্যাখ্যা গুলো । গত বছর এই চারটি অংশ নিয়ে একটা খন্ডাঃশ প্রশ্ন হয়েছিল । পরপর কয়েকবার সুন্নাহ অংশ থেকে প্রশ্ন আসছে তাই এবার ইজমা কিয়াস থেকে আসতে পারে । তবে এই অধ্যায়ের সূরা থেকে গত বছর কোনো প্রশ্ন হয় নি তাই এবার কোনো একটি বা দুইটি মিলে একটা প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা অনেক । হাদিস গুলো মনে রাখা উচিৎ হঠাৎ করে প্রশ্ন আসতে পারে কোন হাদিসের সাথে মেলে উদ্দীপক টি । এরপর আহকাম সম্পর্কিত পরিভাষা এটাও গুরুত্বপূর্ণ । কারণ গত দুই বছর এখান থেকে কোনো প্রশ্ন আসে নি ।

তৃতীয় অধ্যায় (ইবাদত)

এবার এই অধ্যায় টা অনেক গুরুত্ব পূর্ণ । কয়েকটি প্রশ্ন অর্থাৎ সৃজনশীল প্রশ্ন থাকতে পারে এখান থেকে । কারণ গত বছর এখান থেকে শুধু যাকাত এসেছিল । তাই এবার এখান থেকে কয়েকটি বিষয় আসতে পারে তা হল হজ্জ, সাওম, ইলম , শিক্ষা ও নৈতিকতা , জিহাদ ও সন্ত্রাস বাদ । এই অধ্যায় টা এবারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ তাই সবার উদ্দেশ্যে আমার একটা কথাই বলা যে এই অধ্যায়ের প্রতিটা অংশ পারলে ভালো করে পড়ে যাওয়া কারণ যেকোনো স্থান থেকে প্রশ্ন আসতে পারে এমনকি আগের বছরের প্রশ্ন ও আসতে পারে । কারণ গত ১৫ সাল থেকে সব গুলো প্রশ্ন দেখলে দেখা যায় প্রশ্ন অনেকবার ই আগের বছরের টা দিয়েছে । তাই ভালো করে পড়বেন এই অধ্যায় টা ।

চতুর্থ অধ্যায় (আখলাক)

এই অধ্যায়ের মূল বিষয় ই হলো আখলাক বা চরিত্র । এর দুটি অংশ মূলত । আখলাকে হামিদা বা উত্তম চরিত্র আর আখলাকে যামিমা বা খারাপ চরিত্র । এবার এই অধ্যায়ের গুরুত্ব পূর্ণ অংশ হলো ওয়াদা পালন,  আমানত ,মানবসেবা , হিংসা, ফিতনা ফাসাদ, কর্মবিমূখতা । এই অধ্যায় থেকেও একটা না একটা সৃজনশীল থাকেই তাই এই অধ্যায়টা খুব গুরুত্ব পূর্ণ । তাই বলবো এই অধ্যায়টাও ভালো করে করতে পড়তে ।

পঞ্চম অধ্যায়(আদর্শ জীবনচরিত)

এই অধ্যায় থেকে খুব কম সৃজনশীল আসে । আসলেও একটা দুটো সর্বোচ্চ থাকে । এই অধ্যায়ের সব থেকে গুরুত্ব পূর্ণ হলো মহানবীর জীবন, হযরত উমর(রাঃ), উসমান (রাঃ), আলি(রাঃ), আবু বক্কর(রাঃ) । বাকি অংশ গুলো থেকে তেমন প্রশ্ন হয় না । এগুলো বহুনির্বাচনীর জন্য প্রয়োজনীয় ।

বহুনির্বাচনী

পুরো বই পড়া হলো এর একমাত্র সাজেশন। গত দুই বছর কোনো সূরার আয়াত দিয়ে বলে নি এটা কোন সূরার আয়াত । তবে ১৬ ও ১৫ সালে এমন প্রশ্ন এসেছিল তাই এবার আসতে পারে । তাই এবার সূরার আয়াত যেগুলো অংশ অংশে দেয়া আছে অধ্যায়ের তার ছোট ছোট আয়াত গুলো মনে রাখার চেষ্টা করতে হবে । আর এছাড়া কার কোন বই ,কার উপাধি কি, কাকে কি বলা হয়, ইতিহাস, অর্থ , প্রতিশব্দ আসতে  পারে । পুরো বইটা ভালো করে একবার পড়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে কারণ এইটা বহুনির্বাচনী ঠিক হলে একদম এক মার্ক । নাম্বার কাটা কোনো জায়গা নেই বহুনির্বাচনীতে । কিন্তু সৃজনশীল উত্তরে সঠিক হলেও পরিক্ষক চাইলে কম দিতে পারেন ।

ক ও খ এর জন্য

এর জন্য প্রত্যেক অধ্যায়ে আরবী শব্দ গুলোর অর্থ, কার উপাধি কি কেন বলা হয়, কোথায় অবতীর্ণ, স্ত্রীর নাম, বক্তব্যের মাধ্যমে কি প্রকাশ পেয়েছে এরকম প্রশ্ন অধিকাংশ সময় আসে ।

টিপস

এই বিষয়টা যতটা সহজ ততটাই কঠিন। সৃজনশীল প্রশ্ন গুলোর উত্তরে একটু বুঝার কম বেশির কারণে অধিকাংশ সময়ে উত্তর অন্যদিকে চলে যায় উদ্দীপক থেকে । তাই উত্তর প্রদান করার পূর্বে ভালো করে উদ্দীপক টি পড়ে নিবেন এবং প্রশ্ন কি বলেছে তা দেখে নিবেন তাহলে ইনশাআল্লাহ ভালো করবেন । উপরের সাজেশনস অনুসরণ করুন ইনশাআল্লাহ সুনিশ্চিত কমন পাবেন (85%) । পরিক্ষার আগের রাতে ভালো করে বইটা একবার পড়ে যাবেন । মনে রাখবেন এটা আপনার দশ বছরের সাধনার পরিক্ষার ।

ধন্যবাদ

-রংধনু

Share This:

রংধনু

আমি আসিফ আমান জিহাদ । একজন শিক্ষার্থী যে নতুন কিছু শিখতে শেখাতে ও জানাতে পছন্দ করে। এবং সর্বদা কথা কাজ তথ্য দিয়ে মানবতার পাশে থাকতে চাই
Close Menu

Content

Share This: