কাপ্তাই ভ্রমন

গন্তব্য এবার কাপ্তাই। কায়াকিং করব। বৃহস্পতিবার রাতে সবাই অফিস সেরে জড়ো হলাম ফকিরাপুল বাস স্ট্যান্ড এ। সবাই ভীষণ টায়ার্ড। অফিসের ঝামেলা মাথা থেকে এখনো বিদায় হয়নি। অনেকটা এক্সহস্টেড হয়েই দাঁড়িয়ে আছি বাস এর অপেক্ষায়। বাসে উঠে খুব একটা কথা হল না নিজেদের মধ্যে। মাঝে পাখির মোড় থেকে সামি জয়েন করল আমাদের সাথে। পাঁচজনের যাত্রা এখন কাপ্তাই এর উদেশ্যে।
পৌঁছেই পরটা আর ডিম ভাজি দিয়ে জমপেশ নাস্তা করা হয়ে গেল। বাসে বসে যদিও প্রচণ্ড ঠাণ্ডা লাগছিলো। জানালার গ্লাস কুয়াশায় ভিজে ছিল কিন্তু নামার পর দেখলাম তেমন ঠাণ্ডা নেই। বেশ আরামদায়ক একটা পরিবেশ। বাস কাউন্টারে জানলাম কিছুক্ষণ পর একটা বাস ছাড়বে যা ইকো পার্ক ঘুড়িয়ে দেখাবে। মাঝের সময়টা আমরা এ চললাম নৌকা ভ্রমণে। নৌকা থেকে নেমে বাসের সময় হয়ে গেল। যাচ্ছি ইকো পার্ক এ। রাস্তাটা খুব ই সুন্দর। চারিদিকে সবুজ গাছ গাছালিতে ভরপুর। ঠাণ্ডা বাতাসে সা সা করে বাস ছুটছে। আমরা সবাই নিমেষেই চাঙ্গা হয়ে গেলাম। তরতাজা এক অনুভূতি সবাইকে ভরিয়ে দিল।
ইকো পার্ক অনেকক্ষণ ঘুরলাম। কেবল কার টা যদিও নষ্ট ছিল। পুরো পার্ক টাই ঘুরে ঘুরে দেখলাম। সবাই যখন হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত তখন ফিরলাম। গন্তব্য এবার কায়াকিং ক্লাব।
ক্লাবে পৌঁছে দুপুরের খাবারের খোঁজ নিলাম। অর্ডার দিয়ে বসলাম। কোরাল মাছের ঝোল, সিম ভর্তা, করলা ভাজি, ডাল। এত মজার খাবার আমার মুখে আজও লেগে আছে। আমরা হাপুস হুপুস করে খেয়ে নিলাম। সামনেই কাপ্তাই লেক দেখতে দেখতে আমরা খাচ্ছি। দারুণ একটা ভিউ আর সাথে এত মুখরোচক খাবার! আর কি লাগে!
আমরা তিনটা বোট বুকিং দিলাম। অপেক্ষা করছি বোট খালি হবার। আমরা কেউই সাঁতার জানি না নৌকা কীভাবে চালাতে হয় তা তো আরও দূরের ব্যাপার। বোট রেডি হয়ে গেলে আমাদের ডাক এল। এবং কোন রকম ইন্সট্রাকশন ছাড়াই আমাদের বোটে উঠিয়ে দিল। সময় এক ঘণ্টা।
হতভম্ব আমরা এখন কায়াক বোট এ। আমার আর সোমের নৌকা টা প্রথমেই এক কোনায় আঁটকে গেল। সামি, পলি ওদের টা অবশ্য সোজাই এগলো। ওরা ঠিক সামলে নিল। আমাদের টাই ব্যাল্যান্স করতে একটু সময় নিল। কিন্তু কিছুক্ষণ ঘুরপাক খেয়ে ঠিক সামলে নিলাম। কীভাবে চালালে ঠিক মত এগোবে বুঝে ফেললাম। এরপর আর আমাদের থামায় কে। ভীষণ মজা পেয়ে গেলাম। অন্যদের বোট গুলো ধরলাম এগিয়ে। দুইজন ই খুব মজা পাচ্ছিলাম। পুরো লেকে এখন আমাদের অবাধ বিচরণ। ইচ্ছেমত ডানে, বামে, সোজা যেতে পারছি এটাই খুব মজা দিচ্ছিল আমাদের দুইজনকেই। দেখতে দেখতে কীভাবে যে এক ঘণ্টা পার হয়ে গেল। মনে তো হচ্ছিল আরও কিছুক্ষণ চালাই। বোট জমা দিয়ে আমরা উঠে এলাম।
অসাধারণ একটা দিন। কায়াক ক্লাব থেকে এসে আমরা কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পেও ঘুরে এলাম। রাতের আঁধারে বেশ লাগল জায়গাটা।
ফিরে এলাম বাস স্ট্যান্ড এ। ঢাকা ফিরতে হবে। আবার অফিস, আবার নিত্য জীবন যাত্রা। তবে সাথে থাকবে সুন্দর কিছু স্মৃতি।

Share This:
Close Menu

Content

Share This: