কিছু পরিবর্তন

এক ছেলে ছিল।নানান সময়ে তার বাবার কাছে সে নানান ধরণের জিনিস আব্দার করতো। বাবা আমার এটা নেই সেইটা নেই।সবার আছে শুধু আমার ই নেই আমার ওটা চাই সেটা চাই। কখনো দামি আবার কখনো বা কম দামি।বাবাও চেষ্টা করতো তার সব চাহিদা পূরণ করতে। হঠাৎ একদিন তার বাবা তাকে ডেকে বললো,”আজ তোর যত চাহিদা আছে বল, আমি সব পূরণ করবো ।”ছেলে তো মহা খুশি।প্রথমে দম বন্ধ করে বলা শুরু করলো।শেষ মেস ছুটে গেল খাতা কলম আনতে,সব কিছু একটা খাতায় সুন্দর করে নোট করে ফেললো।তারপর বাবা সহ সে বাসা থেকে বের হলো সব কিছু কিনতে।তার লিস্ট এ যেমন ছিল খাওয়ার জিনিস ঠিক তেমনি খেলনা সহ অনেক কিছু।তো রাস্তায় তার বাবা তাকে একটা ছোটো শিশুকে দেখিয়ে বললো,”আচ্ছা বাবা বলতো ঐ যে শিশুটা দাঁড়িয়ে আছে ও কি চাচ্ছে?” ছেলেটি বললো, “দেখে তো মনে হচ্ছে একটু কিছু খেতে চাচ্ছে।” তারপর তারা দুজনে সেই রাস্তার ক্ষুধার্থ শিশুটির কাছে যায় এবং জিজ্ঞেস করে যে তোমার কি চাই?,,শিশুটি কিচ্ছু চাইলো না শুধু বললো ,”স্যার,আমাকে শুধু ৫ টা টাকা দেন,আমি একটা রুটি খাবো।”বাবা তখন ই শিশু টাকে ৫ টাকা দিয়ে দিলো।ছেলে দাঁড়িয়ে সব কিছু দেখছিলো।তারপর তারা দুজনে হাটতে শুরু করলো। ফুটওভার ব্রিজ এ উঠতে গিয়ে দেখলো এক অন্ধ লোক ছেড়া পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি পরে একটি বাটি নিয়ে বসে আছে।বাবা ৫ টাকা সে বাটিতে ফেলে দিয়ে গেলো।তারপর ছেলে তার বাবাকে ডেকে বললো,”বাবা বাসায় যাবো।” বাবা,”সে কি!!!তুই তোর জিনিস কিনবি না?” “না বাবা পরে,আজ না।” “আচ্ছা ঠিক আছে চল তাহলে।”রিকশায় করে তারা বাড়ির পথে যাচ্ছে।ছেলে,”আচ্ছা বাবা ঐ শিশুটা কি পারতো না তখন তোমার কাছে ২০ টাকা চাইতে?কিন্তু সে ৫টাকা চাইলো কেনো?” “কারণ তার ক্ষিদে মিটাতে ঐটুকু ই পর্যাপ্ত ছিল।” “আচ্ছা বাবা ,ঐ লোকটা কতো খারাপ অবস্থায় ছিলো তাও কিচ্ছু চাচ্ছিলো।” “হুম,ঠিক।” ছেলে,”বাবা আমি এখন থেকে আর কোনো অযথা আবদার করব না।আমি অনেক ভালো আছি।রাস্তার সেই শিশু আর রাস্তায় বসে থাকা সেই লোকটার চেয়ে।ওদের অভাব থাকলেও চাহিদা নেই।কিন্তু আমার সব থেকেও আমার চাহিদার শেষ নেই।আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি বাবা।” বাবা তখন কিচ্ছু বললো না।শুধু মনে মনে হেসে গেলো।কারণ সে জানতো যে এমন ই হবে।

আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা আমদের থেকেও অনেক খারাপ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।একবেলা খেতে পেলে হয়তো পরেরদিন না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।সবার ই অভাব আছে।কিন্তু আমরা মনে করি যে আমদের অভাব গুলো অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।কিন্তু আমরা যদি একটু বাইরে গিয়ে দেখি,তাহলে হয়তো ঠিকই দেখতে পারবো আমাদের তুলনায় এমন অনেক লোক ই আছে যাদের অভাব আমাদের তুলনায় কয়েকগুন বেশি।আমাদের অনেকের হয়তো সেই অভাব গুলো পূরণের জন্য কেউ একজন আছে,কিন্তু তাদের কেউ নেই বলে আজ আমরা তাদের রাস্তায় অন্যদের কাছে অনুরোধ করতে দেখি। তাই নিজে নিজের যা আছে তাই নিয়ে খুশি থাকি আর চেষ্টা করি এই খুশি টুকু তাদের কাছে পৌঁছে দিতে যারা আমদের চেয়েও খারাপ অবস্থায় থেকে সামান্য চাহিদা মনে পুষে রেখে দিন কাটাচ্ছে।আসুন হাত বাড়িয়ে দেই তাদের দিকে।

সবাইকে অসংখ‍্য ধন্যবাদ।

Share This:

হিমাংশু

আমি নুশিন এশরাক নিপুন।একজন শিক্ষার্থী।ভালোবাসি পড়তে,জানতে ও জানাতে।নতুন কিছুর সন্ধানে নিজেকে সামিল করতে পছন্দ করি।
Close Menu

Content

Share This: