ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের যত রেকর্ড

ক্রিকেটে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের খ্যাতি বর্তমানে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ছোটখাটোভাবে শুরু করলেও বড় বড় দলকে হারিয়ে বাংলাদেশও যে পারে, সেই প্রমাণ ভালোই দিয়েছে টাইগার্সরা। ক্রিকেটের বিশ্বরেকর্ডগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিতেই ভাগ রয়েছে বাংলাদেশের। আজ সেই রেকর্ডগুলো নিয়েই লেখা।

টেস্টে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি

মোহাম্মদ আশরাফুল আমাদের কারোরই অচেনা নন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম এই প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের কল্যাণে বাংলাদেশ অনেক রেকর্ডের ছোঁয়া পেয়েছে। টেস্টে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির খাতায়ও তার নাম রয়েছে। ২৬ বলে ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে মিরপুরে তাঁর করা এই হাফ সেঞ্চুরিটি বিশ্বের পঞ্চম দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি। তবে এক্ষেত্রে তাঁর অংশীদার রয়েছে পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি।

টেস্টে একই ম্যাচে ১০ উইকেট ও সেঞ্চুরি

সাকিব আল হাসানও তো বাংলাদেশের এমন একজন খেলোয়াড় যাঁর সাথে কারোরই তুলনা হয় না। বাংলাদেশের রেকর্ডের খাতায় তাঁর নাম থাকবে না এমন হওয়া সম্ভব নয়। টেস্টে একউ ম্যাচে ১০ উইকেট ও সেঞ্চুরি করার কীর্তি তিনি তৃতীয়বারের মত গড়েছিলেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৪ সালে খুলনায় গড়েছিলেন তিনি এই বিশ্ব রেকর্ড।

টেস্টে সর্বকনিষ্ঠ এবং অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান

আবারো সেই মোহাম্মদ আশরাফুল। তার সবচেয়ে বড় রেকর্ডই তো ভুলে গিয়েছি আমরা। টেস্টে অভিষেকে এবং সব মিলিয়ে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান তিনি। ২০০১ সালে তার অভিষেক টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি এই সেঞ্চুরি করেন। যদিও ম্যাচটা হেরেছিল বাংলাদেশ।

 সর্বোচ্চ রান মাশরাফির

আমাদের বস মাশরাফিকে আমরা তো অধিনায়ক আর দুর্দান্ত বোলার হিসেবেই চিনি। কিন্তু তিনি যে দলের প্রয়োজনে যে তিনি ব্যাট হাতেও জ্বলে ওঠেন তা কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়। দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে পেলেই বলকে আচ্ছামত পিটিয়ে শায়েস্তা করেন তিনি। তাই রেকর্ডের খাতায়ও নাম আছে তার। নবম উইকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ১৪ গড়ে তিনি করেছেন মোট ১৭২২ রান।

প্রথম ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাটট্রিক

জিম্বাবুয়ের সাথে টেস্টের পর থেকে আমরা নিশ্চয়ই তাইজুলকে বেশ ভালো করেই চিনি। তাইজুল ইসলাম কোনো কারণে টেস্ট খেলোয়াড় হয়ে গেলেও বিশ্বের প্রথম ওয়ানডে অভিষেকে হ্যাটট্রিকটা তার। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই তিনি গড়েছিলেন এই কীর্তি।

আরো কিছু রেকর্ড

  1. সাকিব আল হাসান তিন ফরম্যাটেই একসময় সেরা অলরাউন্ডার ছিলেন। এই কীর্তি আর কারো নেই।
  2. মুস্তাফিজুর রহমান তার অভিষেক সিরিজেই ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। প্রথম ম্যাচেই নিয়েছিলেন ৫ উইকেট।
  3. মেহেদি হাসান মিরাজও তার অভিষেক টেস্টে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। প্রথম ম্যাচেই নিয়েছিলেন ৫ উইকেট।
  4. উইকেট কিপার হিসেবে একমাত্র মুশফিকুর রহিমের টেস্টে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি আছে।
  5. উইন্ডিজ টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের স্পিনাররাই ৪০ উইকেট পুরো নিয়েছে, যা রেকর্ড।
  6. নাঈম হাসান উইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বকনিষ্ট বোলার হিসেবে এবং অভিষেকে নিয়েছেন ৫ উইকেট।

এগুলিই বাংলাদেশের মোটামুটি মনে রাখার মত রেকর্ড। এছাড়া জরিপের ক্ষেত্রে ভেতরে বাইরে অনেক স্থানে বাংলাদেশের নাম ছড়িয়ে আছে। ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে আমাদের স্থান, গর্জে উঠছি আমরা!

Share This:

Mehjabin

৮ম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত একজন ক্ষুদ্র শিক্ষার্থী। শিশু সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হওয়ায় সংবাদ, ফিচার প্রবন্ধ লেখার সামানহ অভিজ্ঞতা আছে। লেখার হাত অনভিজ্ঞ, অদক্ষ তাই দক্ষ করার চেষ্টায় আছি।

This Post Has 2 Comments

  1. চালিয়ে যাও আমি আছি

Close Menu

Content

Share This: