খোলা হাওয়া

প্রীতম। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। মা বাবার অনেক আদরের সন্তান। মা বাবা দুজনে ব্যাস্ত থাকেন অফিসের কাজে। এই দিকে প্রীতম সারাদিন একা বাসায় থাকে। সারাদিন সময় কাটে তার মোবাইলের গেম খেলে। কত গেম ! প্রীতম অনেক উৎসাহের সহিত দেখে। প্রীতমের মা বাবা অফিস থেকে আসতে আসতে বেলা শেষ হয়ে যায়। প্রীতমের মা বাবা বাসায় আসলে প্রীতমের পছন্দের জিনিসটি নিয়ে আসে। সেটি আর কিছু নয় ! চকলেট ! প্রীতমের অনেক প্রিয় খাবার ! মা অনেক আগ্রহের সহিত প্রীতমের কাছে গেলো। মা বললেন , প্রীতম ! দেখো বাবা ! তোমার জন্য তোমার পছন্দের চকলেট এনেছি ! প্রীতম অনেক মনোযোগ দিয়ে গেম খেলছে তাই মা কি বলছে তাতে কোনো মনোযোগ নেই। প্রীতম মা কে বললো , মা তুমি এখন যাও। আমি খেয়ে নিবো। মা একটু আনমনা হয়ে বললেন ,আচ্ছা। প্রীতম শুধু দিনে নয় রাতেও এমনকি সারাটি দিন তার গেম নিয়ে পরে থাকে। গেম আর গেম। একটির পর একটি নতুন গেম ! গেম এ জয়ী হলে প্রীতম বলে ,ইয়েস !! এ দিকে প্রীতমের মা বাবা প্রীতমকে খাবারের টেবিলে ডাকছে। মা বাবা যে ডাকছে প্রীতম তাতে কোনো শব্দ করলো না। পরে বাবা এসে প্রীতমকে বললেন , প্রীতম। বাবা তুমি কি করছিলে ? এসো খাবে চলো চলো। প্রীতম বাবা কে বললো , বাবা !! এখন না। পরে। তুমি যাও। প্রীতমের বাবা একটু চিন্তিত হয়ে চলে গেলেন। শুধু খাবারের ক্ষেত্রে নয় প্রীতমের পড়াশুনার ক্ষেত্রেও মা বাবা অনেক চিন্তিত। পড়াশুনার প্রতি প্রীতমের কোনো মনোযোগ নেই। সারাটি দিন হাতে শুধু একটি জিনিস তা হলো স্মার্টফোন। মা বাবার সাথে বসে যে একটু গল্প করবে তা করার ও কোনো সময় নেই তার। মা বাবা প্রীতমকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। খুব সকালে মা প্রীতমকে ঘুম থেকে জাগাচ্ছেন। মা বলছেন , প্রীতম। বাবা এখন সকাল হয়েছে। উঠে পরো। প্রীতম মা কে বললো , মা। আমি আরেকটু ঘুমোবো। তুমি এখন যাও। মা বললেন , বাবা। তুমি এখন উঠো। তুমি না লক্ষী ছেলে ! প্রীতম একটু বিরক্ত হয়ে উঠলো। তারপর প্রীতম তাকাতেই বললো , মা তুমি কোথায় ? মা একটু বিস্মিত হয়ে বললেন , এই তো বাবা আমি তো তোমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছি। প্রীতম কান্নার স্বরে বললো , মা। সবকিছু এতো ঝাপসা আর দূরের মনে হচ্ছে কেন ? আমি সবকিছু ঝাপসা দেখছি মা। প্রীতমের মা ঘটনাটি দেখেই প্রীতমের বাবা কে ডাকলো। মা বাবা দুজনই প্রীতমকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো। ডাক্তার প্রীতমকে দেখছে। তার পাশে মা বাবা চিন্তিত হয়ে ডাক্তারকে বলছে , কি হয়েছে আমাদের প্রীতমের ?ডাক্তার প্রীতমকে দেখে বললেন ,অতিরিক্ত আসক্তির ফলে এটি হয়েছে। প্রীতমের মা বাবা চিন্তিত হয়ে বললেন , আসক্তি ? ডাক্তার বললেন , হ্যা। আসক্তি। তার মূল কারণ হচ্ছে স্মার্টফোন। এই স্মার্টফোনের কারণে অনেক বাচ্চা আসক্তিতে পরিণত হচ্ছে। আর তার মূল কারণ হচ্ছে আমাদের মা বাবারা। তারা বাচ্চাদের ছোটবেলায় তাদের হাতে তুলে দে স্মার্টফোন। আর তাতে হয় কি ? বাচ্চারা সেই সব নিয়ে অনেক আসক্তি হয়ে পড়ছে। আর সেই আসক্তির একটি কারণ আপনাদের ছেলের মধ্যে দেখা দিয়েছে। প্রীতমের মা অনেক কান্নার স্বরে বললেন ,এখন কি হবে ডাক্তার ?? ডাক্তার বললেন , ভেঙে পড়বেন না। ওকে ঘরের পরিবেশ থেকে একটু খোলামেলা বাইরের পরিবেশের সাথে খাপখাওয়াতে হবে। খোলামেলা সবুজের মাঝে নিয়ে গেলে আশা করি ওর এটি ভালো হয়ে যাবে। তখন ই মা বাবা তাদের সিন্ধান্ত নিলো। পিকনিক করতে তারা চলে গেলো বান্দরবানে !বান্দরবানের পাহাড়ী ঝর্ণা , সেই খানকার পরিবেশ দেখে প্রীতম অনেক খুশি !!! তারপর তারা সবাই গান গাইতে গাইতে পিকনিকে অংশ নিলো !

Share This:

ROSY BEGUM

আমি রসিক মানুষ। ভালোবাসি ফেইসবুক চালাতে , ম্যাগাজিন পড়তে আর ঘুমাতে।
Close Menu

Content

Share This: