গরীব মানেই…….

মুকুল্পুর গ্রমের এক গরীব কৃষক। নাম রহিম মিয়া।মাত্র ছেলেকে নিয়ে তার জীবন। তার স্ত্রী কিছুদিন হলো মারা গে্ছে। দারিদ্রতার কারণে নিজে লেখাপড়া না শেখার দুঃখ তার ছেলেকে নিয়ে ঘুচতে চায়। এটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। আর তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখ ও আফসোস যে তার ছেলে তাকে কখনো বাবা বলে ডাকে নি। কারন রহিম মিয়া গরিব। তাকে তার ছেলে কোনো মূল্য দেয় না। সে তার বাবার সাথে সবসময় অভিমান করে থাকতো। সে তার সকল চাহিদা পূরন করতে পারে না। কিন্তু রহিম মিয়া তার ছেলের চাহিদা মেটাতে আপ্রান চেষ্টা করে। যাই হোক, স্বপ্ন পূরনের নেশায় একদিন রহিম মিয়া তার ছেলেকে স্কুলে,কলেজের পড়ালেখা শেষ করালেন। এরপরে ভার্সিটির পড়ালেখা। যা ব্যয়বহূল। তার জন্য কষ্টকর। সে কোনোমত টাকা জোগাড় করে তার ছেলেকে ঢাকায় একটি ভার্সিটিতে ভর্তি করালেন। সেখানে সে হলে থেকে পড়াশোনা করবে। ভার্সিটিূ যাওার পূর্বে রহিম মিয়ার ছেলে তাকে ভার্সিটি যেতে মানা করে।
রহিম মিয়ার আর কি করার। সে বলল যে সে যাবে না। সেখানে যেতে নিশেধ করার কারন হলো সে চায় না যে সবাই জানুক সে গরিবের ছেলে। এতে তাকে সবার সামনে ছোট হতে হবে।
কিছুদিন কেটে যাবার পর রহিম মিয়া তার ছেলেকে দেখার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠল। সে তার ছেলের কথা রাখতে পারলো না। নানারকম খাবার দাবার নিয়ে রওনা হল। সে মনে মনে ভাব্লো এবার মনে হয় ছেলে তাকে বাবা বলে ডাকবে।
এক্ সময় সে ছেলের কাছে পৌছল। সে এটাও ভাব্লো যে ছেলে তাকে ছেলে তাকে দেখেই সালাম করবে,বাবা বলে বুকে জরিয়ে ধরবে। কিন্তু তা আর হল না। ছেলে তাকে দেখেই বলল,”তুমি কেন এসেছো? এখানে আস্তে না নিষেধ করেছি”। “দেখতে ইচ্ছা হল তাই এলাম।” রহিম মিয়া বলল। “আমার এখানে ক্লাশ আছে,তুমি চলে যাও।” ছেলে বলল। রহিম মিয়ার কি আর করার। সে বাধ্য হয়ে চলে আস্তে লাগল। তখনই এক ছেলে সেই রিমে প্রবেশ করল। সে রহিম মিয়াকে দেখে জিজ্ঞেস করল সে কে?? তার ছেলে বলল,”আমার বাসার main servent অ্থাৎ চাকর।
রহিম মিয়া মূরখ মানুষ। সে আর বুঝলো না এর অর্থ কি। সে মনে করলো ইংরেজিতে বাবাকে কত কিছুই বলে। তাকে মনে হয় তাই ডাকছে।। সে খুব খুশি হয়ে বাড়ি ফিরছে। তার বাবা ডাক না শোনার দুঃখ রইল না। কিন্তু তার খুব জাতে ইচ্ছা হচ্ছিল এর অথ কি? পথের মধ্যে এক লোককে জিজ্ঞেস করলে সে বলে এর অথ চাকর। তার স্বপ্নগুলো কাচে্র টুকরার মত ভেঙে গেলো।
কিছুদিন পর তিনি মারা যান। তার ম্রিত্যুর খবর শুনেও তার ছেলে তাকে একনজর দেখতে এল না। রহিম মিয়ার ছেলে ভাবল সে মরে যাওাতে তাকে আর কারো সামনে ছোট হতে হবে না।

রহিম মিয়ার স্বপ্ন একদিন ঠিকই পূরন হল। তার ছেলে শিক্ষিত হল। কিছুদিন পর সে একটা বিয়ে করল। তার দুটি সন্তান হল। পিতা মাতার মনে কষ্ট দিলে আল্লাহ তাকে কষ্ট দেয়। সে তার পিতার মনে কষ্ট দিয়েছে। রহিম মিয়ার জীবনে একটি আফসোস যে, সে বাবা ডাক শুতে পায় নাই। তার ছেলের ও এখন সারাজীবনের আফসোস রয়ে গেলো যে সেও তার দুই সন্তানের এক সন্তানের মুখেও বাবা ডাক শুন্তে পায় নি। বাবা ডাক না শোনার কষ্ট এখন সে বুঝে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সে তার বাবার কবরের পাশে গিয়ে চিতকার করে কাদতে লাগলো।

************************************************************************************
Thank you for reading my story.
Always stay with www.cyberbn.com

Share This:
Close Menu

Content

Share This: