গাছ লাগান,পরিবেশ বাচান!!

গাছ লাগান পরিবেশ বাচান, অনেকে হয়ত এই টাইটেলটি দেখেই ভেবে নিয়েছেন যে,এই পোস্ট টি পড়বেন না।কিন্তু আপনি কি জানেন এই একটি বাক্যর পিছনে কতগুলি যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে?
আমরা এক এক করে পৌছে গেছি ২০১৮ সালে শেষ পর্যায়ে।একসময় এই বাংলাদেশ ছিল সুজলা সুফলা ,সবুজে ঘেরা আর তা বর্তমানেও আছে কিন্তু এর আগের সেই রুপসী বাংলার মত রুপ নেই ।একদিকে যেমন বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে অন্যদিকে তেমন পরবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে।আপনারা অনেকেই জানেন যে একটি দেশের শতকরা যত ভাগ পরিমাণ গাছ বা বন থাকা দরকার,তত পরিমাণ গাছ বা বন আমাদের দেশের নেই।এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বন সম্পদ কমে যাচ্ছে।ফলে আমাদের নানা রকম দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
চলুন আপনাদের সবার আগে একটা উদাহরণ দিই।আপনি কি ভেবে দেখেছেন?গত বছরে এই সময় ঠিক কি পরিমাণ শীতের প্রকোপ ছিল বা কত ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিল? আর এখন শীতের প্রকোপ কেমন?এখন শীতের প্রকোপ এতই কম যে,অনেকে রাতে শুধুমাত্র কাথা গায়ে দেন।এখন আপনি বলতে পারেন যে,এরকম হালকা শীত পড়লে তো ভাল হয়।এতে ক্ষতির কি আছে?যদি আপনার প্রশ্ন এমন হয় ।তাহলে ভেবে দেখেন শীতকালে যদি শীতের প্রকোপ কম হয়।তাহলে গরমকাল(গ্রীষ্মকাল)এর তাপমাত্রা কেমন হবে।সেকারণে ভবিষ্যত এর কথা ভেবে আমাদের গাছ লাগাতে সোচ্চার হতে হবে।
আমাদের নিজেদেরকে বাচতে হলে, গাছসম্পদ কে বাচিয়ে রাখতে হবে। আপনাদের কাছে বিষয়টি পরিস্কার ভাবে বোঝানোর জন্য ব্যাখ্যা করে বলছি।
আপনি বলতে পারেন তাপমাত্রার সাথে গাছের কি সম্পর্ক?সম্পর্ক আছে।কারণ গাছ বায়ুমন্ডলে তাপশোষণ কারী গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমাণ কমায়।কিন্তু গাছের পরিমাণ হ্রাস হওয়াই বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়।ফলে এরা বেশি তাপ শোষণ করে।যে কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ও বেড়ে যায়।
তাই এখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথায় বলতে হয়- দাও ফিরিয়ে সে অরণ্য,লও এ নগর।
আমাদের এই দেশকে রক্ষা করতে,আমাদের নিজেদের রক্ষা করতে বেশী করে গাছ লাগাতে হবে এবং বিনা কারণে গাছকাটা বন্ধ করতে হবে।আপনি কি জানেন চাইলে আপনিও অংশ নিতে পারেন দেশ রক্ষার কাজে।আপনিও অংশ নিতে পারেন পরিবেশ কে রক্ষা করার কাজে।চলুন আমরা কিছু সিস্টেম মেনে চলি।তাহলে দেখবেন এতে আপনিও লাভবান হবেন।বাচবে আপনার পরিবার।
সিস্টেম গুলো হল:
*অধিক পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে।
*বিনাকারণে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।
*যদি কারণবশত কোনো গাছ কাটতে হয়।তাহলে অন্য যায়গায় একটি গাছের জন্য দুইটি গাছের চারা রোপন করেন।
*পতিত জায়গা ফেলে না রেখে ফলের গাছ লাগান।
*গাছ লাগানোর জন্য সকলের মনে উদ্দীপনার সৃষ্টি করুন।
*যদি পারেন উক্ত বিষয়ে লিফলেট,বুকলেট ইত্যাদি ছেপে জনসাধারণের মাঝে বিতরণ করুন।

আপনি একটিবার ভেবে দেখুন উপরের কাজ গুলো করলে কিন্তু আপনার কোনো ক্ষতি হবেনা।কিন্তু এর যে কত উপকারিতা তা হিসাব করে পারা যাবেনা।
আপনি কি জানেন? আপনাদের এ কাজে উপকার হবে একটি দেশের,একটি সমাজের,একটি পরিবেশের,একটি পরিবারের।আমরা ঔষধ সেবনের সময় এমন ঔষধ খুজি যার কোনো ক্ষতিকর দিক নেই।আর এমন ঔষধ তৈরী হয় গাছ দিয়ে।আবার গাছ লাগালেও এর কোনো ক্ষতিকর দিক নেই।কিন্তু ঐ ঔষধের মত এর ভাল দিক আছে। তাই আসুন আমরা সবাই গাছ লাগাই,পরিবেশ বাচাই। এক কথায়- গাছ লাগান,পরিবেশ বাচান।

Share This:

Shakil

আমি ব্লগ এর জগতে নতুন।তাই লেখার হাত ও এখনো অনুন্নত,উন্নত করার চেষ্টায় আছি প্রতিনিয়ত।।আর তখন ই উন্নত হবে, যখন আপনারা আমার পোস্ট সম্পর্কে মন্তব্য করবেন।সেটা খারাপ হোক বা ভালো।
Close Menu

Content

Share This: