চৈতালি

চৈতালি কলেজে পড়ছে। মা বাবা পরিবারের অনেক আদরের মেয়ে। মা বাবা চৈতালির সব রকমের চাহিদা পূরণ করে দেন। চৈতালি ও অনেক খুশি হয় তাতে। একদিন চৈতালি বাবাকে বললো , বাবা কিছু টাকা দাও কোচিংয়ে লাগবে। বাবা খুশি হয়ে দিলেন আর বললেন , এই নাও মা। খুশি ? চৈতালি খুশি হয়ে চলে যায়। মায়ের কাছে চৈতালি আরো আদরের। একদিন চৈতালি তার মা কে বললো , মা কি পড়ছো ? মা বলছেন , এ তো পেপার দেখছি। তারপর চৈতালির দিকে তাকিয়ে বললেন , তা মা তোমার পড়ালেখা কেমন চলছে ? চৈতালি বললো , হ্যা মা। ভালো হচ্ছে। তারপরের দিন সকালে চৈতালি কলেজ উদ্দেশ্যে রওনা হলো। এরপর বিকেলবেলায় কোচিংয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কপালে লাল টিপ হাতে অল্পখানেক লাল চুড়ি তারপর একটা কামিজ। মা বিষয়টি লক্ষ্য করলেন। তবে কিছু বললেন না। এরপরের দিন দেখা গেলো রাতের বেলা চৈতালি কার সাথে যেন কথা বলছে। মা বিষয়টি লক্ষ্য করলেন। মা চৈতালিকে বললেন , মা কে ফোন করেছিল ? চৈতালি তার ফোনটি শেষ করে তারপর মা কে বললো , ও মা। আমার একটা বন্ধু। এ বলে চৈতালি চলে গেলো। মা মনে মনে বললেন , ইদানীং মেয়েটি আমার কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে ? তারপর চৈতালি অনেক সেজে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিলো মা চৈতালিকে দেখে বললেন , সেজে কোথায় যাচ্ছ ? চৈতালি একটু বিরক্ত হয়ে বললো , মা তুমি জানো না ? এ সময় আমাদের কোচিং থাকে। এ বলে চৈতালি তার বাবার কাছে চলে গেলো আর বললো , বাবা আমাকে টাকা দাও। বাবা বললেন , মা টাকাটি দরকারে খরচ করো কেমন। চৈতালি বললো , বাবা তুমি কোনোদিন দেখেছো ? আমি অদরকার এ টাকা ব্যবহার করছি ? বাবা একটু হেসে বললেন , না মা। তুমি তো আমার অনেক আদরের। কি ঠিক না ? চৈতালি খুশি হয়ে চলে যায়। রাতের বেলা খাওয়া শেষ করে চৈতালি তার বাবার কাছে গেলো গল্প করতে। গল্প করতে করতে হঠাৎ তার বাবাকে বললো , বাবা জানো মা জানি কেমন হয়ে যাচ্ছে। বাবা বললেন , কেমন ? চৈতালি বললো , কেমন আবার। আমি সাজলে অথবা বন্ধুদের সাথে কথা বললে মা জানি কেমন করে। তুমি ই বলো বাবা এটি কি ঠিক ? বাবা বললেন , না একদম ঠিক না আবার এটি যে বেঠিক সেটিও না। চৈতালি বাবার কথায় একটু অবাক হয়ে বললো , কেমন বাবা ?! বাবা বললেন , মা রা তো অনেক কিছুর কারণে এমন থাকে। তুমি হয়তো কোনো ভুল করছো তিনি হয়তো সেটি ধরিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন। বাবার কথায় চৈতালি একটু ভাবলো। তারপরের দিন চৈতালি কোচিংয়ে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে মা এদিকে বই পড়ছেন যাওয়ার আগে চৈতালি বললো , মা আসি। মা বললেন , মা তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিল। চৈতালি বললো , কি কথা মা ? মা চৈতালিকে বললেন , তোমার হাতে কি সময় আছে থাকলে একটু বসো। চৈতালি মায়ের কাছে বসলো। মা চৈতালিকে বললেন , এখন তোমাদের যে বয়স চলছে তাতে তোমাদের কাছে সব রঙ্গিন মনে হতে পারে। এ বয়সে অনেকেই বুঝতে পারে না কোনটি খারাপ কোনটি ভালো। এ বয়সটি হলো আবেগের। এ বয়সের ছেলে মেয়েরা কোনো কাজ করার আগে বুঝে উঠতে পারে না যে সে কি করছে ? তারপর চৈতালির মা চৈতালিকে বললেন , মা এখন তোমার যে বয়স চলছে এখন হয়তো তোমার কাছে সব রঙ্গিন লাগতে পারে। আবেগময়ী লাগতে পারে। তাই যে কোনো কাজ করার আগে অবশ্যই ভেবে চিন্তে করবে। চৈতালি মায়ের কথা মন দিয়ে শুনছে মা চৈতালিকে বললেন , মা এখন ক্যারিয়া গড়ার সময়। এ বয়সটাকে যত কাজে লাগাতে পারবে ততই তোমার জন্য ভালো হবে। আর এখন শুধু তোমার একটাই চেষ্টা সেটি হলো লক্ষ্যের দিকে আগানো। তার পরের দিন চৈতালি মায়ের সব কথা বুঝতে পেরে বললো , মা তুমি আমাকে যা বলেছো আমি বুঝতে পেরেছি। তুমি আমায় ক্ষমা করে দাও মা। তারপর মা মেয়ের খুশি দেখে বাবা একটি ছবি তুলে ফেললো।

Share This:

ROSY BEGUM

আমি রসিক মানুষ। ভালোবাসি ফেইসবুক চালাতে , ম্যাগাজিন পড়তে আর ঘুমাতে।
Close Menu

Content

Share This: