ছুরি এবং ছোট্ট মেয়ের কথা!!

একটি ছোট্ট মেয়ে চাঁদের মত সুন্দর! জোসনার মত স্নিগ্ধ! এবং ফুলের মত পবিত্র!
এমন মেয়ের কপালে হঠাৎ নেমে এলো বড় এক দুর্ঘটনা! ছুরি দিয়ে হাতটা কেটে গেলো মারাত্মক ভাবে!! রক্ত ঝরলো প্রচুর!! কিন্তু চাঁদের মত সুন্দর মেয়েটি জোসনার মত শান্তস্নিগ্ধ ছিলো! চিৎকার করে ঘরশুদ্ধ মানুষ জড়ো করেনি; এমনকি মাকেও কিছু বলেনি।
কাটা হাত দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ঝরছে, আর চোখ দিয়ে নিরবে অশ্রু ঝরছে।
তার সমস্ত কষ্ট গিয়ে পড়লো দুষ্ট ছুরিটার উপর। মাসুম বাচ্চার হাত কেটে দেয় যে ছুরি, সে দুষ্টই তো!! সে কখনো ভালো ছুরি হতে পারে না। ভালো ছুরি কখনো মাসুম বাচ্চার হাত কাটতে পারে না।

তাই ছোট্ট মাসুম মেয়েটির কষ্ট হলো দুষ্ট ছুরিটার উপর। দিন পার হলো। রাতে মেয়েটি চুপি চুপি রান্না ঘরে গেলো। প্রথমে সে ছুরিটার দিকে তাকালো রাগ রাগ চোখে, তারপর অভিমান ভরা চোখে, তারপর একটু আদর- মাখা চোখে। তারপর বললো- এই ছুরি, আমি তো তোমাকে অনেক ভালো মনে করতাম। সুন্দর ধারালো তুমি! পেয়াজ আলু, গাজর কত সুন্দর করে কেটে দাও।
আম্মু যখন তোমাকে হাতে নেন, আর আলু – গাজর কাটেন দেখতে কী যে ভালো লাগে তোমাকে!

ছুরি 😀( একটু খুশি হয়ে) : মিষ্টি খুকি আগে তো কেউ আমার এমন করে প্রশংসা করেনি! তুমি তো খুব ভালো মেয়ে!
ছোট্ট মেয়েটি : ভালো মেয়েই তো! জানোই যখন, আমার হাত কাটতে গেলে কেনো?
– আমার কি দোষ! তুমি আমাকে হাতে নিলে কেন?
– বারে, আমি তো হাতে নিয়েছি লেবু কাটার জন্য। নানাকে শরবত বানিয়ে দিবো যে!
– কিন্তু তোমার আম্মু যে কত করে বলেছে, ছুরি হাতে নিয়ো না!
– আর আল্লাহ যে তোমাকে বলেছে, মাসুম বাচ্চার হাত কেটো না!
– তাই নাকি! জানতাম না তো! এখন জানা হলো, আর কাটবো না! এবার মাফ করে দাও খুকি!
– আচ্ছা মাফ করে দিলাম। আর কিন্তু আমার হাত কাটবে না।
– তুমিও মনে রেখো আম্মুর কথা! কখনো আমায় হাতে নিয়ো না। যখন বড় হবে তখন না হয়….
– আম্মু তো বড়। সেদিন নাকি তুমি আম্মুর হাত কেটেছিলে?
– আমি তো গাজর কাটছিলাম! তোমার আম্মু বুয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বেখেয়াল হলেন, তাতেই না হাতটা কেটে গেলো। আমি কাটিনি তো!
– তুমি আসলেই দুষ্ট তোমার সঙ্গে কথায় পারার জো নেই!
– খুব কষ্ট হচ্ছে খুকি! ডাক্তার দেখলাম ইনজেকশন দিলেন!
– ওম্মা, রান্নাঘর থেকে তাও দেখেছো!!
– দেখবো না, ভুল করে না হয় হাতটা কেটেছি। কিন্তু তোমাকে ভালোবাসি তো! জানো, পারে না আমারো অনেক কষ্ট হয়েছে তোমার কথা ভেবে।
– সত্যি, তাহলে তোমাকে আর দুষ্ট ছুরি বলবো না!
– ঐযে তোমার আম্মু আসছেন। আবার তোমাকে বকবে। তারাতারি যাও!
– বারে, যাবো কেন! আম্মুকে বলবো না ছুরিটার সঙ্গে আমার ভাব হয়েছে। ছুরিটা আর আমার হাত কাটবে না! আম্মু শুনে কততো খুশি হবেন!
– না খুকি! তুমি শিগগির যাও। আমার ভয় করছে। তোমার আম্মু হয়ত রাগ করে আমাকে বাইরে ফেলে দিবেন।
– কেন?
– বারে, মেয়ের হাত কেটে দিলে কোন মায়ের না রাগ হবে!
– চিন্তা করো না আম্মুকে আমি বুঝিয়ে বলবোখন!!

Share This:
Close Menu

Content

Share This: