জীবনের স্রোত – ছোট গল্প পর্ব ১

রাত ১১টা। শীতের রাত। শিশিরভেজা হাসনাহেনা ফুলের মন – মাতানো সুভাস নাকে এসে পড়ছে যখন আমি গদগদ করে নাক ডেকে ঘুমোচ্ছি।বরাবর এর মত প্রতিদিন ফোনটা অফ করে ঘুমানোর হালকা অভ্যেস, কিন্তু কেন যেন সেদিন অন রেখে দিলাম। হঠাত অচেনা নাম্বার থেকে মিসড কল আসা শুরু করল। আমার ঘুমটা ভেঙে গেল, কিন্তু ফোন ধরলাম না কারণ গত ২ সপ্তাহ ধরে পাগলা কুকুরের মতো চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েও বারবার পরাজিত হয়েও আজ নিজেকে রবার্ট ব্রুস এর সেই অসহায় অবস্থার প্রতীক হিসেবে মনে হচ্ছে, কিন্তু পরক্ষণে এসব দার্শনিক চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে মনস্থীর করলাম যে একবার কল করেই দেখি। যাক সাথেই সাথেই রিসিভ করে ফেললো। আমাকে বলল আপনি গত সপ্তাহ এ আমাদের অফিসে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু আমরা কোনো আশ্বাস দেইনি, তবে মশাই চিন্তার কারণ নেই, আমাদের অফিসের একটি পোস্ট খালি আছে, সেখানে আপনাকে নিয়োগ দিতে যাচ্ছি। পরশুদিন যথাসময়ে চলে আসবেন তাহলে, রাখছি। এই ১০/১৫ মিনিটের এই সুসংবাদটি আমি শুধু নিশ্চুপ হয়ে শুনছিলাম, আমার পা জোড়া যেন তখন নাচন ভঙ্গিতে, যেন স্বপ্নের বাসতব রূপায়ন ঘটেছে, হ্যা সত্যিই তাই। এই সুসংবাদটা প্রথমে মার কাছে গিয়ে পাড়লাম, মা তো খুশিতে আত্মহারা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা, মা এরপর বললো যা শিগগির মিষ্টি কিনে নিয়ে আয়,,বিতরণ করতে হবে তো। আমি ৬ কেজি মিষ্টি কিনে আনলাম আর বললাম বিতরণের কাজটি তোমাকে করতে হবে মা,আমার এখন অনেক কাজ, ট্রেন এর টিকিট কাটতে যেতে হবে, পরশুদিন অফিস।আমি সরাসরি স্টেশনে চলে গেলাম, ঈদ মৌসুম নয় বলে টিকিট পাওয়াকে একেবারে ডান হাতের খেলা বলা যায়।যাই হোক এসি টিকিট কিনলাম, ৭টার ট্রেন। সময় গড়িয়ে যাওয়ার দিন এসে গেল,আমাকে বিদায় দিতে সঙ্গে মা আসছে, যেহেতু বাবা নেই তিনিই আসছেন। যাই হোক ট্রেন ছাড়ার সময় হয়েছে, মা আমাকে টাটা দিচ্ছে আমি ও মাকে টাটা দিচ্ছি। ঢাকা-চটগ্রাম রুট এ সুবর্ণ এক্সপ্রেস কে আমি দ্রুত গতির ট্রেন বলে মনে করি। যাই হোক আমি দিব্যি অরিজিৎ সিং এর গান শুনতেই আছি, হালকা ঘুমও আসছিল। তার গান না শুনলে আমার আবার জারনি টা বৃথা মনে হয়।কমপারটমে টাতে টিভিও ছিল।সিকান্দার বক্সের নাটক চলতেছিল।সালা নাটকটা এত নাম করসে যে এই নাটকের সিরিজ খালি বের হতেই আসে। যাই হোক, সবকিছুই এঞ্জ্য করছি তন্মধ্যে খুদায় অস্থির। ট্রেন এর খাবার কিনে খাওয়া মানে গলায় পারা দেওয়া ছাড়া কিছুই না, তাপরেও মনের উচ্ছাস সংবরণ করতে না পেরে কিনলাম খাবার, ১ বক্স ৮০। টাকা, যাই হোক্ হালকা খুদা নিবারণ করলাম।এমনি করেই পুরো jouney টা গেল। ২টো বাজে ঢাকায় পৌছালাম। বারিধারায় ছোটবেলার এক বন্ধুর বাসায় উঠব তা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম, কনটেক্ট ও হয়েছিল তার সাথে। যাক স্টেশন এ সে আমাকে নিতে এল।গেলাম তার বাসায়। সেখানে সে আর তার মা থাকে, আংকেল থাকেন বিদেশে। দুপুরের খাওয়া বেশ খেলাম, সাথে হালকা আড্ডা ও হলো। রাতে হালকা ইচ্ছে হলো হাজির বিরিয়ানি খেতে যাব।গেলাম বন্ধুসহ। বিরিয়ানির কোনো তুলনাই হবে না,পুরোটাই মাংসে ভরপুর আর সাথে হালকা লাচ্ছি। যাই হোক বাসায় ফিরে হালকা একটা ঘুম দিলাম,জলদি উঠতে হবে সকালে। রাত পেরিয়ে সকাল হলো। হালকা নাস্তা করে দৌড় দিলাম অফিসে, ভাগ্য ভালো যে বাস পেয়েছিলাম।যাই হোক অফিসটা হাতিরঝিলেই, জলদি পৌছালাম সেখানে, কোনো জ্যাম ছিলনা। অফিসটা বেশ সুনদর।আমি সবার আগে বস এর সাথে দেখা করতে গেলাম, বেশ অফিস ড্রেস এ আমি।অফিস সম্পর্কে কিছু হালকা কথা বলে ম্যানেজার কে ডেকে আমার। টেবিলবটা দেখাতে বললেন, গেলাম সেখানে,ম্যানেজার কাজ বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।আমার সিট এর পাশে দেখলাম আরেকজন;একজন যুবতী বলা যায়,খুব চেনা চেনা লাগছে, হলুদ শাড়ী পড়া, যেন ১২বছর আগের তার চেহারার সাথে তার হুবহু মিল।সর্বশেষ তার একটি হলুদ স্কারট পড়া ছবি আমার কাছে ছিল,তার হলুদ খুব প্রিয় ছিল,আমি উত্তেজনা প্রশমন করে যুবতীটিকে হাই বললাম।।

#বাকী অংশ কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে 💜

Share This:
Close Menu

Content

Share This: