দুষ্টু দোয়েল

আমার নাম মুনজুর।আমি তখন অনার্স ১ম বর্ষে পড়ি।আমাদের বাসায় নতুন পানির ট্যাংক,ট্যাপ কল এবং হাত মুখ ধোঁয়ার বেসিন বসানো হয়েছে।তো একদিন সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে যখন দাঁত ব্রাশ করতে নতুন বেসিন আর আয়নার কাছে গেছি গিয়ে দেখি ব্রাশ নেই।আগেই বলে রাখি আমার বাবা বাজার থেকে দেখতে হুবুহু একই রঙের দুইটা ব্রাশ নিয়ে এসে।তাই আমি আমার ব্রাশ সহজে চেনার জন্য আমার ব্রাশে চিহ্ন হিসাবে সুতা দিয়ে একটি গেরো দিয়ে রেখেছিলাম।আর একই রকমের দুইটা ব্রাশ পাশাপাশি রাখা হয়েছিল।তো সকালে উঠে আমি যখন ভুল করে মা এর ব্রাশ নিতে গেছি তখন মা বলল যে তোমার ব্রাশে তো এটা না।আমার তখন মনে পড়ল আমার ব্রাশে তো সুতা দিয়ে গেরো দিয়ে রেখেছিলাম।তো আমি আর ব্রাশ খুজে পাই না।তখন মা আমাকে খুব বকা দিল যে আমি নাকি নিজের জিনিস সামলে রাখতে পারি না।তখন আমি ভাল করে খেয়াল করি দেখি আমার ব্রাশ ঘরের বারান্দার এক কোনে পড়ে রয়েছে।তো সেদিন আমি বুঝতে পারি নি কিভাবে এটা হল।তারপর দিন সকালে দেখি একটা দোয়েল আমাদের বেসিনের কাছে এসে বেসিন লাগানো আয়নাতে ঠোকর মারছে কি ভেবে জানি না।আমার মনে হল দোয়েল হয়তো নিজের ছবি দেখছে আর না হলে নিজের হারিয়ে যাওয়া সঙ্গী কে খুজছে আর আয়নায় নিজের ছবি দেখে মনে করছে এখানে তার সঙ্গী কে কেউ আটকে রেখেছে তাই আয়নায় ঠোকর দিয়ে তাকে মুক্ত করার চেষ্টা করছে
তো আমি মনে মনে ভাবলাম দোয়েল ও আজকাল আয়না দেখছে।তখনি দোয়েল আমার মেজাজ খারাপ করে দিল।তার পা দিয়ে আমার ব্রাশ খানি লাথি মেরে আছড়ে ফেলল দশহাত দূরে।তাকে তক্ষুনি আমি তাড়া করলাম আর মাকে বললাম মা এই দোয়েল আমার ব্রাশ রোজ রোজ দূরে আছড়ে ফেলছে আর তুমি আমাকে বকা দিচ্ছ।তারপর দেখলাম সে আমাদের বাড়ির পিছনের ছোট পেয়ারা গাছে গিয়ে বসল।তারপর পরে দেখা যাবে বলে সেই দিনকার মত ক্ষান্ত হলাম।তার পরের দিন আবার ও দোয়েলের উৎপাত।বলে রাখা ভালো আমি ভালো গেরো দিতে পারতাম না।আর তাই ব্রাশে দেওয়া গেরো টা আলগা হয়েছিল।তো পরের দিন সকালে দোয়েলকে তাড়া করার সাথে সাথে সে আমার ব্রাশ টা মুখে নিয়ে পালাল আর তার বাসায় নিয়ে গেল।আমি ও ওকে তাড়া করলাম আর বললাম আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।মনে মনে ভাবলাম আজ ওকে মেরেই ফেলব।কিন্তু ওর বাসায় গিয়ে দেখলাম ওর দুইটা ছোট্ট ফুটফুটে বাচ্চা আছে।এবার ওর প্রতি আমার খুব মায়া হল।আমি ওকে মন থেকে ক্ষমা করে দিলাম আর বাজার থেকে নতুন ব্রাশ কিনে আনলাম।আমি যখন ওর বাসায় গিয়েছিলাম তখন ও ওর বাচ্চাদের পরম যত্নে ওর মুখ থেকে লালা নিংসৃত নরম খাবার খাওয়াচ্ছিল।আর খাবার খেয়ে ও মাকে কাছে বাচ্চাদের আনন্দ দেখে ওদের মা দোয়েল কে ক্ষমা করে দিলাম।আর মাঝে মাঝে মা দোয়েল টা আমাদের বিরক্ত করতে আসত।তো এভাবে কিছুদিন চলার পর কয়েকদিন দোয়েল আমাদের বাড়িতে আসে না।পরে জানলাম আমার এক প্রতিবেশী দোয়েলটাকে মেরে ফেলেছে। তখন আমার মন ঐ দুষ্টু দোয়েলটার জন্য কেঁদে উঠল।ওর বাসায় গিয়ে দেখলাম বাচ্চারা মায়ের জন্য ডাকছে কিন্তু মা আর আসেনা।তারপর আমি মাঝে মাঝে দোয়েল ছানা দুইটাকে দেখে আসতাম আ চুপি চুপি চাউল ভাঙা ওদের খাওয়ার জন্য রেখে আসতাম।আজ ও মাঝে মাঝে আমার ঐ দোয়েলটার কথা মনে পড়লে মন কেঁদে উঠে।

Share This:

Munjur

lam a student.I read Hons secondyear bsc in mathematics.
Close Menu

Content

Share This: