না শব্দটি বাদ।

 

না শব্দটি বাদ

 

চিত্রা। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে। পরিবারের একমাত্ৰ মেয়ে। চিত্রার অনেক ভালো ভালো গুণআছে ! চিত্রার এ গুণগুলি তার বাবা অনেক পছন্দ করলেও মা তাতে নারাজ। একদিন খুব সকালে চিত্রা তার হারমোনিয়াম টি নিয়ে গান গাইছিলো হঠাৎ মা চিত্রার রুমে এসে বললেন , আই তোকে খাওয়ার জন্য ডাকছিলাম কোথায় ছিলি ? চিত্রা মা কে বললো , এ তো মা গান গাইছিলাম। মা হারমোনিয়াম টি দেখে বললেন , গান গাইছিলি ? তোর গলায় তো গান হয় না। আজ পর্যন্ত একটি সুর ও ভালো ভাবে তুলতে দেখলাম না। চিত্রা তার মা কে বললো , মা হয়ে যাবে। চেষ্টা তো করছি। মা বললেন , তুই আসলে কিছুই পারবি না এখন তাড়াতাড়ি খাবারের টেবিলে আয়। এ বলে মা চলে গেলেন। তারপরের দিন চিত্রা স্কুলে যাবে তাই খাবারের টেবিলে এলো সকালের নাস্তা খেতে। বাবা বললেন ,মা তোমার গান কেমন চলছে ? চিত্রা বললো , হ্যা বাবা ভালো। তারপর চিত্রা তার খাবারটি খাচ্ছে হঠাৎ মা বললেন , চিত্রা তুই এ ভাবে খাচ্ছিস কেন ? বাচ্চারা কিভাবে খায় দেখিস নি ? এটা কোনো খাবার খাওয়া হলো না। আসলে না তুই কিছুই পারবি না। মায়ের কথায় চিত্রা একটু মন খারাপ হলেও বাবা বললেন , মা তুমি পারবে। তোমার না অনেক সুন্দর সুন্দর গুণ আছে ! বাবার কথায় চিত্রা একটু উৎসাহ পায় !তারপরের দিন চিত্রাদের পরীক্ষার ফল বের হয়। চিত্রা মা স্কুলে গেলেন চিত্রাদেরই ক্লাসে পরে নাম তার যুথি। যুথির মা কে দেখতে পেয়ে চিত্রার মা বললেন , ভাবি ! আপনার মেয়ে কি রকম ফল করেছে ? যুথির মা হাসিমুখে চিত্রার মা কে বললেন , ভাবি আমার মেয়ে অনেক ভালো করেছে। চিত্রার মা কথাটি শুনে খুশি হলেন তারপর ঘরে এসে চিত্রার পরীক্ষার ফল দেখে রাগ হলেন সাথে সাথে চিত্রা কে বললেন , সব বিষয় এতো কম নাম্বার কেন ? চিত্রা একটু চুপ করে রইলো। মা বললেন , সারাটি দিন কি করো ? যে পরীক্ষায় ভালো নাম্বার তুলতে পারো না। কই ? তোমাদের ক্লাসের যুথি। ওতো ফার্স্ট গার্ল। সব বিষয় কত সুন্দর নাম্বার তার। তাকে দেখে শিখো বুঝলে ? আসলেও তোমাকে দ্বারা কিছুই হবে না। তারপর চিত্রা মন খারাপ করে চলে এলো। জানলার পাশে দাঁড়িয়ে আছে চিত্রা। হঠাৎ বাবা এসে চিত্রাকে বললেন , মা তুমি তো অনেক ভালো করেছো। আমি দেখেছি। চিত্রা মন খারাপ গলায় বললো , কিন্তু বাবা মা তো খুশি না। আসলেও আমাকে দ্বারা কিছুই হবে না। বাবা বললেন , কে বলেছে কিছু হবে না ? অবশ্যই কিছু হবে। আমি তো জানি আমার মেয়ে কতটা গুণী ! বাবার কথায় চিত্রার মন একটু হলেও ভালো হয়ে যায়। তারপরের দিন চিত্রা টেবিলে বসে ছবি আঁকছিলো হঠাৎ মা এসে বললেন , কি করছিস ? চিত্রা বললো , এ তো মা ছবি আঁকছিলাম . তারপর চিত্রা অনেক উৎসাহ নিয়ে মা কে নিজের আঁকা ছবিটি দেখালো ! মা ছবিটি দেখে বললেন , তুই তো ছবিও আঁকতে পারিস না। তোদের ক্লাসের যুথিকে দেখেছিস তার রোল ১ তাও আবার সে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হয়েছে। আর তুই ? তোকে দ্বারা না কিছুই হবে না। মায়ের কথায় চিত্রা একটু মন খারাপ হলেও বাবার কাছে গিয়ে তার মন খারাপ চলে যায়। চিত্রা তার বাবাকে ছবিটি দেখালো। বাবা খুশি হয়ে বললেন , বাহ ! তুমি একেঁছো ? চিত্রা খুশি হয়ে। বাবা বললেন , বাহ ! অনেক সুন্দর হয়েছে ! তুমিই পারবে মা। আমি এ ছবিটি পত্রিকায় ছাপাবার ব্যবস্থা করছি ! যাও আরো ছবি আঁকো ! চিত্রা বাবাকে অনেক আদর করে চলে গেলো ! তারপরের দিন চিত্রার মা চিত্রাকে স্কুলে দিয়ে যুথির মায়ের সাথে কথা বলছেন। যুথির মা চিত্রার মা কে দেখে বললেন , আরে ভাবি ! আপনি এসেছেন ! বসুন বসুন। চিত্রার মা বসলেন। তারপর যুথির মা বললেন , তা ভাবি ? কেমন আছেন ? চিত্রার মা বললেন , এ তো কোনো রকম ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন ভাবি ? যুথির মা বললেন , হ্যা ভাবি ! ভালো আছি ! চিত্রার মা যুথির মা কে বললেন ভালো তো আপনাদেরই থাকার কথা। মেয়ে এতো ভালো করে। ভালো তো আপনার থাকাটাই স্বাভাবিক। তারপর যুথির মা বললেন , তা চিত্রা কেমন আছে ? ও তো অনেক ভালো মেয়ে ! আমার মেয়ের মুখে ওর নাম শুনি। চিত্রার মা একটু আনমনে হয়ে বললেন , হ্যা ভালো। তারপর চিত্রার মা যুথির মা কে বললেন ,আচ্ছা ভাবি ? আমি না একটা জিনিস দেখে অবাক হই ! তা হলো আপনার মেয়ে কিভাবে এতো ভালো করে ?! যুথির মা হেসে বললেন , ভাবি এতে অবাক হওয়ার কি আছে ? আমরা সবাই যদি আমাদের ছেলে মেয়েদের সাপোর্ট দি তাহলে আমি মনে করি সবই সম্ভব। চিত্রার মা একটু অবাক হয়ে বললেন , কেমন ভাবি ? যুথির মা বললেন , ভাবি আমরা যদি আমাদের ছেলে মেয়েদের সবকিছুতে না শব্দটি বলি তাদেরকে যদি আমরা অবহেলা করি তাহলে আমি বলবো তা একদম ঠিক নয়। কারণ এতে তার মানুষিক বিকাশ হতে পারে না। মা বাবা যদি তার বাচ্চাকে সর্বক্ষণ তার সব কাজে না শব্দটি ব্যবহার করে যেমন এটি তুমি পারবে না , এটি করবে না এ ধরণের কথা যদি তার বাচ্চাকে বলে এতে বাচ্চাটির মানুষিক বিকাশের অনেক ক্ষতি হয় এতে তার নিজের কাজের প্রতি উৎসাহটি কমে যায়। তার প্রতি তার বিশ্বাস কমে যায়। আস্তে আস্তে সে খারাপ করতে থাকে। চিত্রার মা যুথির মায়ের কথায় তার মুখ কেমন জানি হয়ে গেলো ! যুথির মা বললেন , এ জন্য ভাবি সবসময় আমাদের মা বাবাদের দরকার বাচ্চাদের প্রতিভাকে মূল্য দেওয়া বাচ্চা যে কাজেই করুক না কেন সেটা সুন্দর ভাবে তাকে বুঝানো উচিত। আর বাচ্চাকে সবসময় সব কাজে উচিত সাপোর্ট দেওয়া। যেমন হ্যা শব্দটি ব্যবহার করা। এতে করে বাচ্চাটির তার নিজের প্রতি যে আগ্রহ বিশ্বাস ছিল সেটি আর হারাবে না। এতে বাচ্চাটি অনেক সুস্থ থাকবে। আর আমাদের তো তাই করা উচিত কি বলেন ভাবি ? চিত্রার মা বললেন , হ্যা তাতো ঠিক। তারপর চিত্রাদের স্কুল ছুটি হয়ে যায়। ছুটি হওয়ার পর চিত্রার মা চিত্রাকে বাসায় আনেন। বাসায় আসার পর বাবা চিত্রাকে মিষ্টি মুখ করান ! চিত্রা কিছু বুঝতে না পেরে বাবাকে বললেন ,বাবা ! কি হয়েছে ! বাবা একটি পেপার এনে চিত্রাকে দেখালো ! পেপার দেখে তো চিত্রা অনেক অবাক আর খুশি হলো ! খুশি হয়ে বাবাকে বললো , বাবা ! এটি তো আমার হাতে আঁকা ছবিটি ! বাবা বললেন , হ্যা মা ! বলেছি না তুমি পারবে ! চিত্রা অনেক খুশি হলো ! তাদের খুশি দেখে হঠাৎ মা এলেন। মা কে দেখে চিত্রা মনে মনে একটু ভয় পেলো। মা একটু নরম গলায় বললেন , আমি সব শুনেছি। চিত্রা ও তার বাবা অবাক হলেন। তারপর চিত্রার মা বললেন ,আমাকে ফোন করে যুথির মা ই সব বললো। আমি প্রথম প্রথম বিশ্বাস করি নি তারপর যখন পেপার টি দেখলাম তখন সত্যি আমার বিশ্বাস হলো। আমি তখন মনে মনে একটু অনুতপ্ত হলাম। তারপর চিত্রার মা চিত্রাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন , মা তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমি আসলে জানতাম না যে আমার মেয়ে সব পারে ! মা রে তুই আমার অনেক লক্ষী একটা মেয়ে ! তুই অনেক কিছু পারবি হ্যা আমি বলছি তুই পারবি। তারপর মা মেয়ের আদর দেখে বাবাও অনেক খুশি হলেন।

Share This:

ROSY BEGUM

আমি রসিক মানুষ। ভালোবাসি ফেইসবুক চালাতে , ম্যাগাজিন পড়তে আর ঘুমাতে।
Close Menu

Content

Share This: