নিজেকে ভালোবাসুন -৩

নিজেকে ভালোবাসুন
-৩

গত পর্বে শেষ টা এমন ছিলো যে আপনারা এতদিন যা ভেবেছিলেন যে এটা ছিল আপনার ইচ্ছে তা আসলে ছিল অন্যের ইচ্ছে ।

আমার এই আর্টিকেল টা পড়া বাদ দিন । রাতে ঘুমানোর সময় হোক , সন্ধ্যে বেলা বেলকোনিতে দাড়ায় চা খাওয়ার সময়, নাহলে রাতে ফেরার পথে বাসে যখন বসে আসেন চারপাশে অনেক আওয়াজ -কোলাহল তখন একটু নিজেকে সময় দিন । প্রশ্ন করুন নিজেকে – ” আচ্ছা আমি কি করতে ভালোবাসি? আমি যেই কাজ টা করছি এটা কি সত্যি আমি করে খুশি আছি ? ”

– আমি মানছি আমার কথা গুলো যেমন সত্য তেমনি বাস্তবতা কঠিন । আমার কথা গুলো মানতে গেলে হয়ত দিন শেষে পরিবারের আবদার গুলো পূরণ হবে না । পরিবার আপনার উপর নির্ভর করে যেমন তেমনি আপনার মন আপনার উপর নির্ভর করে । তাকে বাচিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনার । এক লেখক বলেছিলেন

মৃত্যুর রেজিষ্ট্রার আছে কিন্তু আত্মার নিঃশেষ এর কোনো রেজিষ্ট্রার নেই ।

আশা করি কথাটা বুঝতে পেরেছেন । তাই আপনি আপনার কাজের মধ্যে থেকে একটু নিজেকে প্রশ্ন করুন মরে যাওয়া আপনার মনটা কি চায় ? সেটা সম্পূর্ণ করতে না পারেন তবে মাসে একটা দিন আপনি নিজেকে দিন । আর যদি আপনার একটা পুরো পরিবার থাকে তাহলে ঐ দিন টা আপনি তাদের সাথে দিন নিজেকে দিন আপনার মরে যাওয়া মনটা বেঁচে উঠবে নিশ্চিত ।

নিজেকেই একটু ভালোবাসুন সময় দিন । তারপর পরিবার কে একটু সময় দিন তাদের সাথে বসে গল্প করুন কথা বলুন হাসুন খেলুন । বন্ধন টা দৃঢ় করুন। এমন যেন না হয় ছেলে মেয়ে অসুস্থ সেটা আপনি তাদের ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারলেন । এমন হলে পরিবারে থেকেও আপনি আর পরিবারে থাকবেন না । সারা দিন ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম টুইটার এসব করে কি হবে? যদি আপনার পরিবার থেকেও আপনি একা ? সবাইকে ভালোবাসুন। সবাইকে আপন করে নিন । এই ভার্চুয়াল পৃথিবীর বাইরে যে একটা আলাদা পৃথিবী আছে সেটা উপলব্ধি করুন । আমার এই পোস্ট বা আর্টিকেল টি যারা পড়ছেন তাদের অনেকেই হয়ত বয়সে অনেক সিনিয়র তাদের বলছি তাদের শৈশব কি রকম গিয়ে ছিলো? তারা পরিবারের সবাই মিলে এক সাথে বসে টেলিভিশন দেখতে । চ্যানেল একশ টা ছিলো না একটাই ছিলো তাই দেখতো সবাই মিলে কত আনন্দ। বাবার শাসন মায়ের আদর । আর এখন? কোথায় সেই পরিবারের ভালোবাসা?

নিজেকে ভালোবাসার মানে এটাই নিজেকে সময় দিন , নিজেকে প্রাধান্য দিন এবং নিজের পরিবারকে ভালোবাসুন। তাদের কাছে সেটা প্রকাশ করুন আপনি তাদের কতটা ভালোবাসেন দেখবেন তারাও তখন আপনাকে ততটা ভালোবাসবে এবং ধীরে ধীরে আপনার একাকিত্ব হারিয়ে যাবে । তখন আর আপনাকে নিজেকে ভালোবাসতে হবে না তাদের ভালোবাসাতেই আপনি হারিয়ে যাবেন ।

এই আর্টিকেল টা আর দীর্ঘ করতে চাই না । একটা কথাই বলতে চাই ,

ভার্চুয়াল জগত মানুষকে কাছে আনতে পারলেও আগের দূরত্বতা যেই ভালোবাসা তৈরি করতে পেরেছিলো এখন আর তা নেই ।

সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ

-রংধনু
Share This:

রংধনু

আমি আসিফ আমান জিহাদ । একজন শিক্ষার্থী যে নতুন কিছু শিখতে শেখাতে ও জানাতে পছন্দ করে। এবং সর্বদা কথা কাজ তথ্য দিয়ে মানবতার পাশে থাকতে চাই
Close Menu

Content

Share This: