নীলাঞ্জনা

স্কুল জীবন বুঝতে পারছেন কতটা আনন্দ আসলে স্কুল জীবনটাই মজার জীবন, যারা স্কুল জীবন কাটাই শুধু তারাই জানেন কতটা সুন্দর এমনই একটা মেয়ে মেয়ের স্কুল জীবন শুরু হল স্কুলের প্রথম দিন স্কুলে যাবে নামঃ নীলাঞ্জনা। ও ছিল খুবই সাধারণ ঘরের মেয়ে খুবই স্মার্ট এবং ভদ্র স্বভাবের তার বাবা ছিল একজন কৃষক। তার দুই বোন এক ভাই ছিল, এখন আসি মূল কথায় স্কুলে প্রথম দিন রেডি হচ্ছে স্কুলে যাবে আম্মু তুমি কোথায় আমি কিছু খেতে দাও আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে স্কুলে প্রথম দিন একটু তাড়াতাড়ি করে যেতে হবে। (মা) হ্যাঁ আসছি যাবি তো এইতো আবার হতে আর পাচ মিনিট লাগবে কাবার রেডি খেয়ে স্কুলে যা. নীলাঞ্জনা নাস্তা করে স্কুলের পথে রওনা হল। ওর বাবার এত ক্ষমতা ছিল না যে সে গাড়ি করে যাবে স্কুলটা তার বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে ছিল তাই সে প্রথম দিন আর ঠিক করে পৌঁছাতে পারল না। স্কুলের প্রথম দিন তাড়াতাড়ি আ মাস্টারমশাই ক্লাস রুমে চলে আসলো, সবার সাথে পরিচিত হতে নীলাঞ্জনা প্রায় 15 মিনিট পরে ক্লাসে ক্লাসে ঢুকতে যাচ্ছে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে নীলাঞ্জনা কে কারো চোখে পড়তেছে না। এমন সময় হঠাৎ একটা ছেলের চোখে পড়ল ছেলেটা ওর দিকে তাকিয়ে ছিল একজন আসতে চাচ্ছে স্যার, বলল কোথায় যে আসবে সে তো বলবে যে আমি ক্লাস রুমে আসতে চাচ্ছি নীলাঞ্জনা খুব লজ্জা বোধ করছিল স্কুলের প্রথম দিন লেট করে এসেছে স্যার বলল এসো ভিতরে এসো নীলাঞ্জনা গিয়ে বসলো, স্যার জিজ্ঞেস করছে তোমার লেট হল কেন নীলাঞ্জনা স্যার আসলে পড়তে কোন গাড়ি পেলাম না তো লেট হয়ে গেল ওকে ঠিক আছে। আজকে প্রথম দিন সবাই সবার সাথে পরিচিত হয়ে নাও কারণ ক্লাসরুমে তোমরা সবাই সবার বন্ধু একে অন্যকে সাহায্য করবে এদিকে যে ছেলেটা নীলাঞ্জনা কে প্রথম দেখেছিল সে ছিল বড়লোকের ছেলে তার বাবা বিজনেস করে টাকা পয়সা কোন অভাব নেই তার নাম নিলয়। ক্লাস সিক্স নীলাঞ্জনা কে প্রথম দেখি ওর ভালো লাগে কিছু বোঝা যায় না স্কুলের প্রথম দিন সবাই খুব আনন্দে কাটাল ছুটির ঘন্টা বেজে গেল সবাই ক্লাস রুম থেকে বের হতে লাগলো। এমন সময় নিলয় নীলাঞ্জনা কে জিজ্ঞেস করল তোমার বাসা কই নীলাঞ্জনা কোন উত্তর না দিয়ে চলে গেল, ও আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে গেল কেন ওকি আমাকে ইগনোর করল আচ্ছা পরে দেখা যাবে এখন বাসায় যাই হ্যাঁ নিলাঞ্জনা ও এতক্ষণে বাসায় চলে গেল। কিরে তোর স্কুলের প্রথম দিন কেমন কাটলো আব্বু স্কুলের প্রথম দিন ছিল আজ আমি লেট করে স্কুলে পৌঁছে ছিলাম। তার বাবা মা রে কি করবি বল আমার তো এত সামর্থ্য নেই যে তোকে গাড়ি করে স্কুলে পাঠাবো। তোর বর আপু আপুকে তো আর পড়াতে পারলাম না এসএসসি পাস করল নীলাঞ্জনার বড় আপুর নাম নিসি নিশিকে এখন বিয়ে দিব ভাবতেছি ভালো পাত্র কোথায় পাই নীলাঞ্জনা আব্বু আপা কে বিয়ে দিয়ে দিবে আর কি করব রে মা আমাদের সংসার টা তো তুই জানিস কি করে চলে আমি একজন কৃষক মানুষ কত বিঘা জমি করি কোন ভাবে তো সংসার চালাতে হয় নীলাঞ্জনা হ্যা গো বুঝেছি। আমাকেও কি এসএসসি পাশ করিয়ে বিয়ে দিয়ে দিবে আব্বু আমি তো অনেক বড় হতে চাই পড়ালেখা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই আমার স্বপ্ন কি কখনো সত্যি হবে না। (আব্বু) মারে গরিবের ঘরে জন্ম নিয়েছিস এত স্বপ্ন কেন দেখিস? নীলাঞ্জনা আমি কিছু জানিনা কিছু বুঝিনা আমি পড়াশুনা করবোই করবো আমি আমার নিজের করচ নিজে জুগিয়ে নিব! (আব্বু) আচ্ছা মা পরেরটা পরে দেখা যাবে এখন চল হাত মুখ ধুয়ে খেতে আয় আসছি আব্বু তুমি যাও। দুপুর গড়িয়ে বিকাল বিকাল হল সূর্যটা অস্ত গেলো সন্ধ্যে হতে চলল নীলাঞ্জনা পড়তে বসল হঠাৎ করেই তার মনে পড়ল ছেলেটির কথা এই ছেলেটি আমাকে আজকে বাঁচালো যেই হোক পড়াশুনায় মন দেই। এদিকে নিলয় আম্মু জানু কিরে বাবা আজকে একটা মেয়ে লেট করে স্কুলে এসেছে অদ্ভুত মেয়েটা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আসার জন্য কিছুই বলছে না তাই নাকি রে হ্যাঁ আম্মু কিন্তু মেয়েটা কিন্তু খুবই মায়াবী। এই পাকা ছেলে মাত্র সিক্সে পড়ো এখনই এসব আম্মু তুমি কি যে বলো না এভাবে অনেক দিন কাটতে লাগলো। নীলাঞ্জনা বড় আপুর বিয়ে ঠিক হল পাশের গ্রামের একটা ছেলের সাথে ব্যবসা করে মোটামুটি ভালো কিন্তু একটাই সমস্যা যৌতুক দিতে হবে নীলাঞ্জনা এতে রাজি নয় তার আব্বুকে বলল আব্বু তুমি তো সবই বুঝ তাহলে যদি আপাকে বিয়ে দিতে হবে কেন! আপা তো ভালই শিক্ষিত ছেলেটা তো শিক্ষিত না তবু যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিতে হবে যৌতুক নেয়া এবং দেয়া দুটোই সমান অপরাধ নীলাঞ্জনা আমি সবই জানি কিন্তু কিছু করার নেই তোর আপার দিকে চেয়ে আমাকে এটা করতেই হবে. তোর আপার সুখের জন্য নীলাঞ্জনা আমি কিচ্ছু জানি না তুমি যা ভালো বোঝো করো. নীলাঞ্জনা মনে মনে ভাবতে লাগলো কি করতেছ আব্বু এটা যৌতুক দিয়ে আপাকে বিয়ে দিতে হবে যদি আপুর সুখ না হয় কেন জানিনা আমার মনটা এমন করছে ছেলেটাকে দেখে ও ভালো ময়না হয়নি কেন এমন হচ্ছে আমার এদিকে বিয়ের দিন ধার্য করা হলো সবকিছু ঠিকঠাক কিন্তু নীল অঞ্জনার মনটাই ভালো নেই. (নিশি) কিরে নীলাঞ্জনা আমি তো চলে যাবো তোকে একা রেখে তোর মনটা ভালো নেই কেন এটাই তো ভালো তুই একা একা খাবি বাবা মায়ের আদর খাবি. নীলাঞ্জনা আচ্ছা আপা তুমি কি বিয়েতে রাজি আছ ছেলেকে তোমার পছন্দ হয়েছে. নিশি কি বলছিস এসব আমার আব্বু আম্মু যেখানে বিয়ে দিবে সেখানে তো আমাকে বিয়ে করতে হবে আপা তুমি না লেখাপড়া করছো তোমার কি কোন পছন্দ অপছন্দ নাই আর ওই ছেলেটা তো একবার এই অশিক্ষিত. নিশি তাতে কি হইছে রে অশিক্ষিত বলে যে সে ভালো হবে না তার কি কোনো মানে আছে. নীলাঞ্জনা কি জানি আচ্ছা ঠিক আছে তোমার বিয়ে তো আর মাত্র তিন চার দিন বাকি আছে সব কিছু আমাকেই করতে হবে. নিশি এই তোর স্কুলের বন্ধুদেরকে দাওয়াত দিবিনা. নীলাঞ্জনা আমি তোমার মত স্কুলে ভর্তি হয়েছি আমার বন্ধু কোথা থেকে হবে আচ্ছা ঠিক আছে আমি আমার ক্লাসমেটদের কি বলবো সবকিছু ভালোই চলছে।আজ আর নয়। পর্ব টুতে আবার আসবো

Share This:
Close Menu

Content

Share This: