ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮ দিন কেন??😨

ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮ দিন কেন??

আস্সালামু আলাইকুম । আশা করি সবাই ভালো আছেন । মাঝে কিছুদিন কোনো লেখা হয় নি । নিজেকে নিয়ে একটু ব্যস্ত ছিলাম তবে আবার আজকে অজানাকে জানানোর জন্য চলে এসেছি । আমি সব সময় চেষ্টা করেছি আমার কথা কাজের মাধ্যমে মানুষের সাহায্য করার । আজকে যে মজার ও অজানা বিষয় টি নিয়ে কথা বলতে এসেছে তা হেডলাইন দেখে অনেকেই বুঝে গেছেন । বলার আর বাকি থাকে না । ক্যালেন্ডার বা বর্ষপঞ্জিকা হলো আমাদের নিত্যদিনকার একটা প্রয়োজনীয় বস্তু । তবে এই প্রয়োজনীয় বস্তুর মধ্যে লুকিয়ে আছে অনেক মজাদার কিছু তথ্য । তার মধ্যে সব থেকে রহস্য জনক একটা মাস হলো ফেব্রুয়ারি তাই নিয়ে আজকের লেখা । দেরি না করে মূল অংশে চলে আসি ।

মূল অংশঃ

ইংরেজী ক্যালেন্ডার এর সব থেকে রহস্যজনক মাস হলো ফেব্রুয়ারি । সবার একটাই প্রশ্ন এই মাসে ২৮ দিন কেন? বছরের এত গুলো মাস রয়েছে তাহলে শুধু এই মাসটাই ২৮ দিন কেন । বাকি গুলোর যেকোনো একটা তো ২৮ দিন ২৯ দিন বা ২৭ দিন ও হতে পারতো । কিন্তু তা হয় নি । ইংরেজী বছরের ফেব্রুয়ারি বাদে বাকি মাস গুলোয় তো যেমন
জানুয়ারি, মার্চ , মে , জুলাই , আগস্ট , অক্টোবর , ডিসেম্বর এই মাস গুলো ৩১ দিন ।
আর
এপ্রিল, জুন,সেপ্টেমবর, নভেম্বর ৩০ দিন ।

তাহলে এই মাসে কেন ২৮ দিন? এটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন । সবার মুখে এই প্রশ্ন আছেই । আমিও ছোটতে এই প্রশ্ন করেছি আর এখনকার ছেলে মেয়ে এতটাই অগ্রসর যে ৫ বছরের ছেলে মেয়ে এটা জিজ্ঞেস করে আর আমাদের অনেকেই তার উত্তর দিতে পারে না আর নেটে ঘাটাঘাটি শুরু । তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক ।

প্রথমে একটু ইতিহাস জেনে নেই

ফেব্রুয়ারি হচ্ছে গ্রেগরীয়জুলিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসারে বছরের দ্বিতীয় মাস। এটাই ইংরেজি বছরের সবচেয়ে ছোট মাস এবং একমাত্র মাস যার দিনসংখ্যা ত্রিশের কম। অধিবর্ষে এমাসে মোট ২৯ দিন আর অন্যান্য সময়ে ২৮ দিন।

এখানে প্রশ্ন হতে পারে গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি কি তার সমাধান এখানে বিস্তাড়িত

ইতিহাসে ফিরে যাই

উত্তর গোলার্ধে ফেব্রুয়ারি হচ্ছে শীতের তৃতীয় মাস আর দক্ষিণ গোলার্ধে এটি অনেকটা উত্তর গোলার্ধে আগস্ট মাসের সমতুল্য (অর্থাৎ গ্রীষ্মের তৃতীয় মাস) সাধারণ বছরে ফেব্রুয়ারি, মার্চ আর নভেম্বর মাসের প্রথম তারিখ একই বার থাকে।(মিলিয়ে দেখতে পারেন । যেমন এই বছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম তারিখ শুক্রবার তার ধারাবাহিকতায় মার্চনভেম্বর মাসের প্রথম তারিখ ও শুক্রবার । কখনো এই মজার বিষয়টি খেয়াল করেছেন?) সেসময় এই মাস আর জানুয়ারির শেষ দিন এক বার পড়ে। অধিবর্ষের সময় ফেব্রুয়ারি আর আগস্ট মাস একই বার দিয়ে শুরু হয়। এই মাসের একটি মজার দিক হচ্ছে অধিবর্ষ হোক আর নাই হোক, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন যে বার থাকে, অক্টোবর মাসের শেষ দিন সেই একই বার থাকে।

জীবনে কত বছর কেটে গেলো বাসায় এত ক্যালেন্ডার কিন্তু জীবনেও একবার খেয়াল করে দেখি নাই বিষয় টি তাই ভাবছেন তো? ঠিক আমরা অনেকেই এই বিষয় গুলো খেয়াল করি না । তবে আমাদের চারপাশে এরকম অনেক মজার বিষয় লুকিয়ে আছে ।

এবার আর একটু জানা যাক

রোমান ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারি ঠাঁই পেয়েছিল “ফেব্রুয়ারিয়াস” নামে। এই ফেব্রুয়ারিয়াস শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ “ফেব্রুয়াম” থেকে, যার অর্থ বিশুদ্ধতা। জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাস দুটি রোমান বর্ষপঞ্জিতে সবার শেষে যুক্ত হয়েছিলো। জানা যায় ৭১৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে নিউমা পম্পিলিয়াস এই মাস দুটি যুক্ত করেন। সেসময় ফেব্রুয়ারি ছিল বছরের শেষ মাস। পরবর্তীতে ডেসিমভার্সের সময়কালে (প্রায় ৪৫০ খ্রি.পূ.) এটিকে বছরের দ্বিতীয় মাস করা হয় এবং আজ পর্যন্ত এই মাসটি সেই স্থানেই রয়ে গেছে। শুরুর দিকে ফেব্রুয়ারির দিনসংখ্যায় নানা পরিবর্তন হয়েছে। কখনো এর দিনসংখ্যা ধরা হয়েছে ২৩ দিন, কখনো ২৪ দিন আবার কখনোবা ২৭ দিন। বেশ পরে যখন জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে সংশোধনী আনা হয় এবং নিয়মিতভাবে অধিবর্ষ গণনা শুরু হয় তখন ফেব্রুয়ারি তার পরিচিত ২৮ দিনের রূপটি লাভ করে।

এটা না হয় গেল ২৮ দিন কেন তবে এবার জানা যাক এই মাসের কিছু মজাদার নাম

  • প্রাচীন ইংরেজিতে ফেব্রুয়ারিকে ডাকা হত সোলমোনাথ (কাদার মাস) বা কেলমোনাথ (বাঁধাকপির মাস)।
  • ফিনিশ ভাষায় এমাসকে বলা হত হেলমিক্যু বা মুক্তার মাস। শীতের দেশে এমাসে দিনে বরফ গলে পাতার ডগায় বিন্দু বিন্দু শিশির জমে। রাতের বেলা এই শিশির যখন ঠাণ্ডায় শক্ত হয়ে যায়, তখন তা দেখতে মুক্তার মতো লাগে, এজন্যই এমন নাম।
  • পোলিশ ভাষায় এই মাসের নাম ছিল ল্যুটি বা বরফের মাস।
  • ম্যাকডোনিয়ানরা ফেব্রুয়ারিকে বলতো সেচকো বা কাঠ কাটার মাস।
  • ক্রোয়েশিয়ায় এই মাসকে বলা হত ভেলজ্যাকা। এই শব্দটির মানে জানা যায় না। সম্ভবত এটি বৃদ্ধি থেকে উদ্ভূত। সেক্ষেত্রে ব্যাখ্যা হতে পারে প্রতি ৪ বছর পর পর ফেব্রুয়ারির দিন সংখ্যা এক বেড়ে যায় বলে হয়ত একে ভেলজ্যাকা বলা হত।

এই মাস টা শুধু মজাদার না এই মাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও রয়েছে যেমন

  • অন্ধকার ইতিহাসের মাস (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা।
  • জাতীয় পাখি-খাদ্যদান মাস: (যুক্তরাষ্ট্র)
  • স্বাধীনতা দিবস (শ্রীলঙ্কা): ৪ ফেব্রুয়ারি
  • আব্রাহাম লিংকনের জন্মদিন: ১২ ফেব্রুয়ারি
  • ভালোবাসা দিবস : ১৪ ফেব্রুয়ারি
  • পতাকা দিবস: (কানাডা): ১৫ ফেব্রুয়ারি
  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: ২১ ফেব্রুয়ারি
  • স্বাধীনতা দিবস (সেন্ট লুসিয়া): ২২ ফেব্রুয়ারি
  • জর্জ ওয়াশিংটনের জন্মদিন: ২২ ফেব্রুয়ারি
  • স্বাধীনতা দিবস (এস্তোনিয়া): ২৪ ফেব্রুয়ারি
  • পতাকা দিবস (মেক্সিকো): ২৪ ফেব্রুয়ারি
  • বিজয় দিবস (কুয়েত): ২৬ ফেব্রুয়ারি
  • পরিবার দিবস (কানাডা): তৃতীয় সোমবার
  • বিশ্ব পরিণয় দিবস: দ্বিতীয় রবিবার

এগুলো গেলো ফেব্রুয়ারি নিয়ে কথা । ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮ দিন হওয়ার মূল কারণ আপাতত এটাই পাওয়া গেছে যে শুরু তে যিনি এই ক্যালেন্ডার তৈরি করেন তিনি বিষয় টি এমন রেখেছেন তবে কেন তা এখনো মানুষ জানার চেষ্টা করছে । এই বিষয়ে আপনাদের মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না ।

যেতে যেতে একটা বোনাস তথ্য

কিছুদিন ধরেই ফেসবুকে একটা ভাইরাল তথ্য হয়ে উঠেছে । এটা হলো ফেব্রুয়ারি মাসে ৫১৭ বা এরকম বহু বছর পর এমন একটা ফেব্রুয়ারি মাস এসেছে যেখানে নাকি সপ্তাহের ৭ টা বার ই চারবার করে আছে । মানে হলো শুক্রবার চারটা শনিবার চারটা এমন ।

কিন্তু আপনার বাসায় যদি পুরানো ক্যালেন্ডার থাকে তাহলে খেয়াল করবেন অধিবর্ষ ছাড়া প্রত্যেক ফেব্রুয়ারি তেই চার বার করে প্রত্যেকটা বার পরে । যেমন এই বছর শুক্রবার চারটা শনিবার চারটা চলছেই ।

আচ্ছা ভেবে দেখছেন বছরের এত গুলো মাস সেগুলোয় এমন নয় কেন এই মাসেই শুধু এমন মজাদার বিষয় টা কেন? আসলে এটা গণিতের খেলা । ফেব্রুয়ারি মাসের দিন ২৮ একে সপ্তাহের ৭ টা বার দিয়ে ভাগ দেন  আসে । এখান থেকেই ৭ টা বার প্রতি ফেব্রুয়ারি মাসে ৪ বার করে আছে(অধিবর্ষ বাদে) । বাকি মাস গুলোয় ৩০৩১ থাকে যেগুলো ৭ দিয়ে ভাগ যায় না । তাই অধিবর্ষ ছাড়া ফেব্রুয়ারি মাস যেদিন ই শুরু হোক না কেন সপ্তাহের ৭ টি বার ৪ বার করে আসবে ।

পরবর্তীতে এরকম ক্যালেন্ডারের মজাদার কিছু রহস্যমূলক তথ্য নিয়ে আমি রংধনু আবার আপনাদের কাছে ফিরে আসবো । ততোদিন অপেক্ষা করুন ।

{আমার দেয়া তথ্যাদি , কথায় কোনো ভুল থাকলে কমেন্টে জানিয়ে দিবেন যুক্তি সহকারে আমি সংশোধন করে নিবো । }

সবাইকে ধন্যবাদ

রংধনু

 

Share This:

রংধনু

আমি আসিফ আমান জিহাদ । একজন শিক্ষার্থী যে নতুন কিছু শিখতে শেখাতে ও জানাতে পছন্দ করে। এবং সর্বদা কথা কাজ তথ্য দিয়ে মানবতার পাশে থাকতে চাই
Close Menu

Content

Share This: