বাংলাদেশ সংবিধান সম্পর্কে কতটুকু জানেন??

বাংলাদেশ সংবিধান সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রহমান বলেছিলেন বাংলাদেশ সংবিধান নিয়ে

“এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা – আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে ।”

সংবিধান হচ্ছে কোনো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দলিল । কোনো রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য, আদর্শ, লক্ষ্য প্রতিফলিত হয় সে দেশের সংবিধানের মাধ্যমে । কোনো দেশের মানুষ , তাদের অধিকার, রাষ্ট্রের মূলনীতি থেকে শুরু করে কোনো রাষ্ট্র কিভাবে পরিচালিত হবে তার যাবতীয় নীতি-নিয়ামলী যে সম্মানির দলিলে সংরক্ষিত থাকে সেই দলিলটাই হলো সংবিধান । প্রত্যেক স্বাধীন সার্বভৌম দেশের একটি স্বাধীন দলীল থাকে ।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ তাই বাংলাদেশের একটি নিজস্ব স্বাধীন সংবিধান রয়েছে। যার নাম হলো ” বাংলাদেশ সংবিধান”

আস্সালামু আলাইকুম । আমি আসিফ আমান জিহাদ(রংধনু) আবার আজকে একটা নতুন বিষয় নিয়ে চলে আসছি । সেটা উপরের শিরোনাম দেখে আশা করি বুঝতে বাকি নেই কারো । হ্যাঁ আজকে আমরা আলোচনা করবো বাংলাদেশ সংবিধান নিয়ে। তাহলে দেরি না করে জ্ঞানের সাগরে একটা ডুব দিয়ে আসি । প্রথমেই

চলুন জেনে নেই এই বাংলাদেশ সংবিধান সম্পর্কে কিছু তথ্য

বাংলাদেশ সংবিধান

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। এটি একটি লিখিত দলিল। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এই সংবিধান গৃহীত হয় এবং একই বছরের ১৬ই ডিসেম্বর অর্থাৎ বাংলাদেশের বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকী হতে এটি কার্যকর হয়। মূল সংবিধান ইংরেজি ভাষায় রচিত হয় এবং একে বাংলায় অনুবাদ করা হয় । তাই এটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিদ্যমান। তবে ইংরেজী ও বাংলার মধ্যে অর্থগত বিরোধ দৃশ্যমান হলে বাংলা রূপ অনুসরণীয় হবে।

এবার চলুন দেখি এই সংবিধান সম্পর্কে কিছু তথ্য এবং এর বৈশিষ্ট্য

সংবিধানের বৈশিষ্ট্য

  • ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালের সপ্তদশ সংশোধনী সহ বাংলাদেশের সংবিধান সর্বমোট ১৭ বার সংশোধীত হয়েছে।
  • এই সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের সদস্যদের মোট সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ কোনো দিবসে সংসদে উপস্থিত মোট সদস্যের দুই তৃতীয়াংশ যদি পরিবর্তন করার পক্ষে হয় তাহলেই এটা পরিমার্জন করা এবং সংশোধন করা সম্ভব।
  • তবে পঞ্চম সংশোধনী , সপ্তম সংশোধনী , ত্রয়োদশ সংশোধনী ও পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আদেশে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, সংবিধানের মূল কাঠামো পরিবর্তন হয়ে যায় এরূপ কোনো সংশোধনী এতে আনা যাবে না; আনা হলে তা হবে এখতিয়ার বহির্ভূত।
  • বাংলাদেশের সংবিধান কেবল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনই নয়;- সংবিধানে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মূল চরিত্র বর্ণিত রয়েছে।
  • এতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা বিধৃত আছে।
  • দেশটি হবে প্রজাতান্ত্রিক, গণতন্ত্র হবে এদেশের প্রশাসনিক ভিত্তি, জনগণ হবে সকল ক্ষমতার উৎস এবং বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন।
  • জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস হলেও দেশ আইন দ্বারা পরিচালিত হবে। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা -কে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
  • এটি একটি লিখিত সংবিধান । বিচার বিভাগ এই সংবিধানের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবে ।
  • বাংলাদেশে মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা থাকবে । প্রধানমন্ত্রী হবেন এর প্রধান। রাষ্ট্রপতি হবেন নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান ।
  • এই সংবিধান বাংলাদেশে ভূখন্ডের মধ্যে সর্ব স্থানে অর্থাৎ সমগ্র বাংলাদেশে অবিলম্বে বলবৎ থাকবে ।

এই ছিলো বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য । চলুন এবার জেনে নেয়া যাক এই সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস সম্পর্কে

বাংলাদেশ সংবিধানের প্রণয়ন ইতিহাস

সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাঁরা হলেন

  1. ড. কামাল হোসেন (ঢাকা-৯, জাতীয় পরিষদ),
  2. মো. লুৎফর রহমান (রংপুর-৪, জাতীয় পরিষদ),
  3. অধ্যাপক আবু সাইয়িদ (পাবনা-৫, জাতীয় পরিষদ),
  4. এম আবদুর রহিম (দিনাজপুর-৭, প্রাদেশিক পরিষদ),
  5. এম আমীর-উল ইসলাম (কুষ্টিয়া-১, জাতীয় পরিষদ),
  6. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মনজুর (বাকেরগঞ্জ-৩, জাতীয় পরিষদ),
  7. আবদুল মুনতাকীম চৌধুরী (সিলেট-৫, জাতীয় পরিষদ),
  8. ডা. ক্ষিতীশ চন্দ্র (বাকেরগঞ্জ-১৫, প্রাদেশিক পরিষদ),
  9. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (সিলেট-২, প্রাদেশিক পরিষদ),
  10. সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ময়মনসিংহ-১৭, জাতীয় পরিষদ),
  11. তাজউদ্দীন আহমদ (ঢাকা-৫, জাতীয় পরিষদ),
  12. খন্দকার মোশতাক আহমেদ (কুমিল্লা-৮, জাতীয় পরিষদ),
  13. এ এইচ এম কামারুজ্জামান (রাজশাহী-৬, জাতীয় পরিষদ),
  14. আবদুল মমিন তালুকদার (পাবনা-৩, জাতীয় পরিষদ),
  15. আবদুর রউফ (রংপুর-১১, ডোমার, জাতীয় পরিষদ),
  16. মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ (রাজশাহী-৩, জাতীয় পরিষদ),
  17. বাদল রশীদ, বার অ্যাট ল,
  18. খন্দকার আবদুল হাফিজ (যশোর-৭, জাতীয় পরিষদ),
  19. শওকত আলী খান (টাঙ্গাইল-২, জাতীয় পরিষদ),
  20. মো. হুমায়ুন খালিদ,
  21. আছাদুজ্জামান খান (যশোর-১০, প্রাদেশিক পরিষদ),
  22. এ কে মোশাররফ হোসেন আখন্দ (ময়মনসিংহ-৬, জাতীয় পরিষদ),
  23. আবদুল মমিন,
  24. শামসুদ্দিন মোল্লা (ফরিদপুর-৪, জাতীয় পরিষদ),
  25. শেখ আবদুর রহমান (খুলনা-২, প্রাদেশিক পরিষদ),
  26. ফকির সাহাব উদ্দিন আহমদ,
  27. অধ্যাপক খোরশেদ আলম (কুমিল্লা-৫, জাতীয় পরিষদ),
  28. এম. মোজাফ্ফর আলী (জাতীয় পরিষদ হোমনা – দাউদকান্দি),
  29. অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক (কুমিল্লা-৪, জাতীয় পরিষদ),
  30. দেওয়ান আবু আব্বাছ (কুমিল্লা-৫, জাতীয় পরিষদ),
  31. হাফেজ হাবিবুর রহমান (কুমিল্লা-১২, জাতীয় পরিষদ),
  32. আবদুর রশিদ,
  33. নুরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬, জাতীয় পরিষদ),
  34. মোহাম্মদ খালেদ (চট্টগ্রাম-৫, জাতীয় পরিষদ)
  35. বেগম রাজিয়া বানু (নারী আসন, জাতীয় পরিষদ)। এনি হলেন এই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য

একই বছরের ১৭ই এপ্রিল থেকে ৩রা অক্টোবর পর্যন্ত এই কমিটি বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করে। জনগণের মতামত সংগ্রহের জন্য মতামত আহবান করা হয়। সংগৃহীত মতামত থেকে ৯৮টি সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবস) থেকে কার্যকর হয়।

এরপর এই বাংলায় অনুদৃত হওয়ার কথা

বাংলাদেশ সংবিধান(বাংলা)

সংবিধান লেখার পর এর বাংলা ভাষারূপ পর্যালোচনার জন্য ড. আনিসুজ্জামানকে আহবায়ক, সৈয়দ আলী আহসান এবং মযহারুল ইসলামকে ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে একটি কমিটি গঠন করে পর্যালোচনার ভার দেয়া হয়।

গণপরিষদ ভবন, যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন, সেখানে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে সহযোগিতা করেন ব্রিটিশ আইনসভার খসড়া আইন-প্রণেতা আই গাথরি।

সংবিধান ছাপাতে ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিলো। সংবিধান অলংকরণের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছিল যার প্রধান ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। এই কমিটির সদস্য ছিলেন শিল্পী হাশেম খান, জনাবুল ইসলাম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী ও আবুল বারক আলভী। শিল্পী হাশেম খান অলংকরণ করেছিলেন। ১৯৪৮ সালে তৈরী ক্র্যাবটি ব্রান্ডের দুটি অফসেট মেশিনে সংবিধানটি ছাপা হয়।

মূল সংবিধানের কপিটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

এই ছিল এই সংবিধান প্রণয়নের ইতিকথা । তথ্য গুলো উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া । আপনাদের জানার সুবিধার্তে আমরা এই তথ্য গুলো একত্রিত করেছে ।

আচ্ছা আপনারা কি জানেন সংবিধানের একটি প্রস্তাবনা আছে? আপনি এই স্বাধীন দেশের একজন নাগরিক এই দেশের সংবিধান মেনে চলেন সেই অনুযায়ী আরোপিত সকল আইনের প্রতি আপনারা শ্রদ্ধাশীল তবে আমি সুনিশ্চিত এখনো অনেকেই জানেন এই সংবিধানের একটি প্রস্তাবনা আছে ,

সেটি হলো

প্রস্তাবনা
সম্পাদনা

“বিস্‌মিল্লাহির-রহ্‌মানির রহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহের নামে/পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে।)

আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;

আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে;

আমরা আরও অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা- যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে;

আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেইজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য;

এতদ্বারা আমাদের এই গণপরিষদে, অদ্য তের শত ঊনআশী বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের আঠারো তারিখ, মোতাবেক ঊনিশ শত বাহাত্তর খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের চার তারিখে, আমরা এই সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করিয়া সমবেতভাবে গ্রহণ করিলাম।”

এটাই হলো সেই প্রস্তাবনা

বাংলাদেশে বাস করে যদি সেই দেশের সংবিধান সম্পর্কে আমরা না জানি তাহলে তা আমাদের জন্য লজ্জাকর বিষয় । আমাদের অনেক ক্ষেত্রেই এই সংবিধান কাজে আসবে কারণ আমাদের সকল অধিকার আইন এই সংবিধানে সুরক্ষিত আছে । যদি কেউ আমাদের সাথে অনিয়ম করে , আমাদের অধিকার আমাদের থেকে কেড়ে নেয় তাহলে আমরা এই সংবিধানের সহায়তায় তা ছিনিয়ে নিতে পারবো সঠিক উপায়ে আইনের সহায়তায় ।

পরিশেষে বলতে চাই এই সংবিধান আমাদের , একে রক্ষা করা জানা আমাদের নাগরিক হিসেবে প্রধানঅন্যতম দায়িত্ব ।

উপরে বর্ণিত তথ্যাদি বিভিন্ন স্থান থেকে নেয়া হয়েছে ।যেমন : উইকিপিডিয়া

সরকারী একটা সাইট

 

কোনো প্রকার ভুল থাকলে তা জানিয়ে দিবেন কমেন্টে সংশোধন করে নেয়া হবে । পরামর্শ ও কেমন লাগলো তা জানাতে ভুলবেনছ না। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন ।

ধন্যবাদ
-রংধনু

Share This:

রংধনু

আমি আসিফ আমান জিহাদ । একজন শিক্ষার্থী যে নতুন কিছু শিখতে শেখাতে ও জানাতে পছন্দ করে। এবং সর্বদা কথা কাজ তথ্য দিয়ে মানবতার পাশে থাকতে চাই

This Post Has 3 Comments

    1. ধন্যবাদ আপনার অভিমতটির জন্য

Close Menu

Content

Share This: