বাইরের জগৎ

রোদেলা। মা বাবার অনেক আদরের। রোদেলা এখন নবম শ্রেণীতে পড়ে। পড়াশুনার পাশাপাশি যে একটি আলাদা জ্ঞান অর্জন করা যায় তা তার মধ্যে নেই। ঘরে বাইরে সবসময় তার হাতে থাকবে স্মার্টফোন। আর স্মার্টফোনে সবসময় যেটি করতে ওর ভালো লাগে তাহলো ফেইসবুক। সারাটিদিন যায় ফেইসবুক দেখে। একদিন মা বললেন , রোদেলা। মা আমার এই কাজটি করে দে তো মা। রোদেলা তখন বলে , না মা। আমি পারবো না। দেখছো না আমি ব্যাস্ত। মা তো রোদেলার কথায় কিছুটা বিস্মিত হলেন। রোদেলার বাবা বাজার থেকে এসে পানি চাইলেন কিন্তু সেই খানেও রোদেলার একই কথা। সারাদিন রোদেলা ফেসবুকে কি করে ? মা বাবা জানতে চাইলে রোদেলা বলে , ফেসবুকে কি না করা যায় ! সবার সাথে কথা বলা যায় ! অনেক মজাদার গল্প পড়া যায় ! আরো কত কি ! মা বাবা রোদেলার কথা শুনে থাকে। একদিন রোদেলাদের বাসায় তাদের গ্রাম থেকে একটি মেয়ে আসে। মেয়েটির নাম লিপি। খুব সম্ভবত আত্মীয় হবে। মেয়েটি ঢাকায় পড়া শুনা করার জন্য এসেছে। দরজা খুলতেই রোদেলার মা লিপিকে দেখে চমকে হাসি মুখে বললেন, আরে ! লিপি ! তুমি এসেছো ? আর আমাদের একটাবার বলার প্রয়োজন ছিল না ? মা লিপিকে তাড়াতাড়ি করে বসালো তারপর লিপি বললো ,কি আর করবো বলো ? ঢাকায় তো আমার পরিচিত কেউ নেই। তোমরাই তো আমার সব। লিপির মা হেসে বললেন , আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি অনেক দূর থেকে এসেছো হাতমুখ ধুয়ে নাও আমি খাবারের ব্যবস্থা করছি। বিকেলবেলা রোদেলার মা চা বানিয়েছে লিপি তা রোদেলার বাবাকে দিলেন লিপি রোদেলার বাবাকে বললেন , আঙ্কেল আপনি কেমন আছেন ? রোদেলার বাবা বললেন , হ্যা মা আমি ভালো আছি। আল্লাহ যেমন রেখেছেন। তুমি কেমন আছো ? তোমার বাবা মা ? ওনারা কেমন আছেন ?ঢাকায় কি কারণে আসা ? লিপি বললো , হ্যা আঙ্কেল। আমি ভালো আছি। মা বাবাও অনেক ভালো আছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা এইসবের জন্যই ঢাকায় আসা। আঙ্কেল রোদেলাকে দেখছি না যে ? রোদেলার বাবা বললেন , ও ! ও তো সারাদিন ব্যাস্ত থাকে। ও পাবে কিভাবে। লিপি বললো , কি নিয়ে আঙ্কেল ? রোদেলার বাবা বললেন , তা ওর কাছে গেলেই দেখা যাবে। তারপরের দিন লিপি গেলো রোদেলার রুমে। লিপি রোদেলাকে বললো , কেমন আছো রোদেলা তুমি ? রোদেলা ফেসবুকে দেখতে দেখতে বললো , হ্যা ভালো। তুমি ? লিপি বললো , আমি ও ভালো। তারপর লিপি রোদেলাকে বললো , তোমার পড়া শুনা সব কেমন চলছে ? লিপি বললো ,হ্যা অনেক ভালো। তারপর লিপি হাসি মুখে রোদেলাকে বললো , চলো আমরা ছাদে যাই ! অনেক গল্প করবো আজ কেমন ! তুমি ঘুড়ি উড়াতে পারো ?লিপি একটু বিরক্তিস্বরে বললো , লিপি আপি। তুমি এখন যাও তো। বিরুক্ত করো না। লিপি বললো , আচ্ছা। তারপর রোদেলা অনেক হাসি মনে ফেইসবুক চালাচ্ছে। তারপাশের রুমে লিপি বই পড়ছে। বই পড়ার পর লিপি রোদেলার কাছে এলো। লিপি রোদেলাকে বললো , রোদেলা। কি করছো ? রোদেলা ব্যাস্ত হয়ে বললো , দেখছো না কি করছি ? তারপর রোদেলা লিপিকে বললো , এইবার কি হলে থাকবে ? লিপি বললো , হ্যা। তারপর লিপি রোদেলাকে বললো , তোমার বুঝি ফেইসবুক আছে ? রোদেলা বললো , হ্যা আছে। কিন্তু তুমি জানলে কিভাবে ? লিপি বললো , ফেসবুকে তো বেশি ব্যাস্ততা ! তারপর লিপি রোদেলাকে বললো , ফেসবুকে কি কি আছে ? রোদেলা উৎসাহ হয়ে বললো , ফেসবুকে কি না আছে ? বিশ্বের সব কিছু ফেসবুকে। এটি না চালালে হয় না কি ? লিপি বললো , তাই ! রোদেলা বললো , হ্যা। তারপর লিপি রোদেলাকে একটি প্রশ্ন করলো বললো ,আচ্ছা বলো তো দেখি বাংলাদেশে কয়টি জেলা রয়েছে ? রোদেলা একটু চিন্তিত হয়ে বললো , কয়টি ? লিপি তখন বললো , বাংলাদেশে ৬৪ টি জেলা রয়েছে। রোদেলা তখন একটু বিস্মিত হলো। লিপি তখন রোদেলাকে একটি বই দিয়ে বললো , নাও বইটি পড়লে তোমার অনেক ভালো লাগবে। তখন রোদেলা তার হাতে স্মার্টফোনটি রেখে বইয়ের প্রতি মনোযোগ দিলো। একদিন রোদেলা লিপিকে বললো , লিপি আপি তুমি কোথায় যাচ্ছ ? লিপি তখন রোদেলাকে বললো , লাইব্রেরীতে কেন ? তুমি যাবে ? রোদেলা তখন বললো , হ্যা। লিপি তখন রোদেলাকে নিয়ে গেলো। লাইব্রেরীতে গিয়ে রোদেলা অনেক মজার মজার বইয়ের সাথে পরিচিত হলো। অনেক বই আবার নিয়ে ও এলো ! আস্তে আস্তে রোদেলার মধ্যে বই পড়ার নেশা জমতে লাগলো। রোদেলার এই পরিবর্তন দেখে মা বাবা ও অনেক খুশি। মা বাবা খুশি হয়ে লিপিকে বললেন , মা তুমি লিপির মধ্যে অনেক সুন্দর পরিবর্তন এনেছো। আগে আমরা ওকে শুধু একটা জিনিস নিয়ে পরে থাকতে দেখতাম তাহলো ফেইসবুক। লিপি তখন হাসি মুখে বললো , আজকাল অনেক বাচ্চাই ফেসবুকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে এতে করে তারা বাইরের যে সুন্দর জগৎ আছে সেই বিষয় তাদের জ্ঞান থাকে না। আর আমি মনে করি জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে ভালো জিনিসটি হচ্ছে বই। বই ই পারে মানুষকে বদলে দিতে। রোদেলার মা বাবা তখন অনেক খুশি হলেন লিপির কথা শুনে।

Share This:

ROSY BEGUM

আমি রসিক মানুষ। ভালোবাসি ফেইসবুক চালাতে , ম্যাগাজিন পড়তে আর ঘুমাতে।
Close Menu

Content

Share This: