বিয়ে পাগল

বিয়ের জন্য আমি পাগল

চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকেই জহিরের এক গুরুগম্ভীর প্রশ্ন, আপনার ভিজিট কত?
ডা. হুমায়ূন হেলালের নিঃসঙ্কোচ জবাব, ১০০০ টাকা।
–ঠিক আছে। পাঁচ মিনিটে তো আপনি পাঁচশত টাকা নিবেন। আমি আপনাকে দশ হাজার দিব কিন্তু সময় দিবেন পনের মিনিট আমাকে এবং এই সময়টাতে আমি আপনাকে যা যা বলব আপনি তাই তাই করবেন অর্থাৎ আমার নির্দেশনা অনুয়ায়ী আপনাকে চলতে হবে । ভয় নেই তেমন কিছু আপনাকে করতে বলবো না । খুব ই সাধারণ কিছু ।
একটু ভেবে ডাক্তার বললেন, ঠিক আছে বলো কী করতে হবে আমাকে ।
জহিরর এবার একটু লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে মুচকি হেসে বলে, একটা ভুয়া প্রেস্কিপশন লিখে দিবেন আমার নামে । যেখানে কিছু ওষুধের নাম লেখা থাকবে তবে সেগুলো রোগী বেরোগী সবাই খেতে পারে। কারো যেন কোন ক্ষতি হয় না । বরং কিছু উপকার আছে বা থাকতে পারে । আর এক জায়গায় টেলিফোন করে এই পৃষ্ঠায় যা যা লেখা আছে ফটাফট সিরিয়াস মোডে বলে দিতে হবে। বলেই পৃষ্ঠাটা এগিয়ে দেয় জহির। সাথে এক হাজার টাকার দশটা নোট।
ডাক্তার সাহেব সবগুলো নিজের দিকে টেনে নেন। পৃষ্ঠার লেখাগুলো পড়ে ফিক করে হেসে দেন। প্যাডের একটা পেজ ছিঁড়ে প্রেস্কিপশনে কিছু ওষুধ লিখে প্রেস্কিপশনটা আর সাথে তার দেয়া দশ হাজার টাকা তার দিকে এগিয়ে দেন।
জহির অবাক হয়ে বলে, টাকা দিলেন কেন স্যার? আমার তো শুধু প্রেস্কিপশনটা লাগবে।
–ডা. হুমায়ূন হেলাল চেয়ারে হেলান দিয়ে আয়েশ করে বসে বলেন, ডাক্তারি শিখেছি মানুষের সেবা করতে । আজ পর্যন্ত ফ্রিতে কারো সেবা করতে পারলাম না। তোমার এই সেবাটা আমি ফ্রিতে করতে চাই।
জাহির এবার ভালোই লজ্জা পেল এবং একটা লাজুক হাসি দিয়ে বলে, কাজ হবে তো স্যার?

-সেটা আমার হাতে ছেড়ে দাও। রোগ না থাকলেও ডাক্তাররা যে কত রোগ আবিষ্কার করতে পারে সেটা আমি জানি। আমিও না হয় কিছু আবিষ্কার করব। তোমার বাবা আবার কোন ডাক্তার নয় তো?

-আরে না, ডাক্তারির D ও বুঝে না।

-তাহলে নিশ্চিন্তে যেতে পারো। কাজ হয়ে যাবে।
জহির সালাম দিয়ে সাথে একটা ধন্যবাদ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

বিকেলে জহিরের বাবার ফোনে অচেনা নাম্বার থেকে একটা কল আসে। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে গম্ভির একটা কণ্ঠ ভেসে আসে, আপনি কি জহিরের পিতা?
-জি আমি জহিরের পিতা। আপনি কে বলছেন?

 

-আমি ঢাকা থেকে ডা. হুমায়ূন হেলাল। আপনার সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা ছিল।
-জি বলুন। কী ব্যপার?

– গতকাল সকালে আপনার ছেলে স্বাভাবিক কিছু পেটের সমস্যা আর কিছু শারিরীক সমস্যা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। আমি তাকে কিছু টেস্ট আর পরীক্ষা দিই। সেগুলো দেখার পর তো আমি হতবম্ভ হয়ে যাই । আপনার ছেলের একটা ব্যতিক্রমধর্মী রোগ দেখা দিয়েছে। বিবাহিত পুরুষদের এ রোগটা হয় না। আপনার ছেলে বোধহয় অবিবাহিত। ইংরেজিতে এটাকে বলা হয়, স্টেলিজিফেক্সিয়া। এটা সাধারণত খুব কম লোকেরই হয়। এটা যেমন ভয়ঙ্কর তেমনই স্বাভাবিক। ভয়ঙ্কর হবে তখন যদি এটার পার্ফেক্ট ট্রিটমেন্ট না করা হয়। আর ট্রিটমেন্টটা খুবই সহজসাধ্য । যদিও একটু লজ্জাকর। তবুও ডাক্তার হিসেবে সেটা আমাকে বলতেই হচ্ছে,___ শারিরীক মিলন! আমি তাকে অন্য কোন অবৈধ পন্থা বলে দিতে পারতাম। কিন্তু গোপন রেখেছি। তার কাছে চেয়ে শুধু আপনার ফোন নাম্বারটা রেখে দিয়েছি। এখন আপনাকেই শুধু এ ব্যাপারে বললাম। আপনি ইচ্ছে করলে এ রোগের চিকিৎসাটা রোগ সম্পর্কে তাকে না জানিয়েই সেরে ফেলতে পারেন। তাকে বিয়ে দিয়ে দিন। কিছু ওষুধ তাকে লিখে দিয়েছি সেগুলো নিয়মিত সেবন করতে বলুন। আশা করি বরং নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, আগামী ছয় মাসে সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে। বিয়েটা যত তাড়াতাড়ি পারেন করিয়ে দিন।

-ধন্যবাদ স্যার। আপনার সাথে আমি নিয়মিত যোগাযোগ করব। আর আপনার পরামর্শ অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নিব।কখন যে ছেলে মেয়েরা কি রোগ শোক বাঁধিয়ে দেয় টেরই পাই না।…

বৃহস্পতি বার বাড়ি ফিরতে ফিরতে দুপর হয়ে যায় জহিরের । বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই সবাই হৈচৈ বাঁধিয়ে দেয়। ওই, তাড়াতাড়ি ভালো কাপড় চোপড় পরে রেডি হ। কখন থেকে অপেক্ষা করছি… ভাবি বলে একটা, ভাই বলে আরেকটা, বোন বলে আরেকটা। পরোই হুলুস্থুল কাণ্ড। কিছুই বুঝতে পারে না জহির।
গাড়িতে ওঠে পিচ্চি ভাতিজা বলে, চাচ্চু, জানো কোথায় যচ্ছি? তোমার বৌ দেখতে!
জহির তো রেগে পুরোই আগুন। গাড়িতেই আম্মুকে বকাঝকা করতে থাকে, এখন কিসের বৌ দেখাদেখি কিছুই তো বুঝলাম না। এখনো পড়ালেখা শেষ হতে দু বছর বাকি। আগে পড়ালেখা শেষ করব। চাকরি বাকরি করে নিজ পায়ে দাঁড়াব তার পর বিয়ে। আমি এখন বিয়ে করব না। গাড়ি থামাও। আমি নামব।
পেছন থেকে আব্বু ধমকে ওঠে, চুপ কর। তুই কি এখন অন্যের পায়ে দাঁড়িয়ে আছিস নাকি। আর বৌ পালব আমরা। তোর এখানে এত ঘ্যানঘ্যান কিসের। নিজ পায়ে দাঁড়াব নিজ পায়ে দাঁড়াব। এক ধমকে একদম চুপ হয়ে যায় জহির।
মেয়ের বাড়িতে নেমেই প্রথমে ফোন বের করে জহির। ডায়াল করে একটি নাম্বার। ওপাশে ফোন রিসিভ করতেই বলে সে, স্যার, প্ল্যান ওয়ার্কিং….
.
____আব্দুল্লাহ আল মাসউদ

Share This:

Abdullahalmasud

লেখক হওয়ার স্বপ্ন বুনি
Close Menu

Content

Share This: