মহামুর্খ কালিদাস কিংবা পন্ডিত কালিদাস। (কিছু তথ্য)।

একদিন এক বোকা লোক গাছের এক ডালে বসে ওই ডালটাই কাটছিল লাকড়ির জন্য। গাছের পাশ দিয়ে একলোক যাচ্ছিল। তার এমন কাজ দেখে তাকে সাবধান করার আগেই লোকটি গাছের ডাল থেকে পড়ে গেল। লোকটি এমনিই ছিল বোকা ও গন্ডমুর্খ, যার কারণে তার স্ত্রী সবসময় তাছিল্য করত। যেই লোকটি তার এমন কাজ-কর্ম দেখে ফেলেছিল সেই লোক এই ঘটনা গ্রামের সবার কাছেই বলে দিল। এমনই স্ত্রীর এমন অত্যাচার তার ওপর গ্রামের মানুষের টিটকারি আর সহ্য করতে না পেরে নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু এই কাজেও সে ব্যার্থ হল। তার আরাধ্যা দেবি স্বরস্বতী (মতান্তরে কালি দেবি) তাকে উদ্ধার করলেন, আর তাকে বর হিসেবে দান করলেন প্রচুর মেধা শক্তি আর কবিত্ব।

বলুনতো এই বোকা লোকটি কে? হ্যা, ইনিই মহাকবি কালিদাস। সংস্কৃতের “উইলিয়াম সেক্সপিয়র”। আমরা ধাধার বইয়ে বা অন্য কোথাও নিশ্চই কালিদাস পন্ডিতের নাম শুনেছি। যেমনঃ কালিদাস পন্ডিতের বাল্যকালের কথা, নয়হাজার তেতুল গাছে কয় হাজার পাতা?

চলুন তার সম্পর্কে জেনে নিই কিছু তথ্যঃ

তার জন্ম কোথায় বা কত সালে তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। এ নিয়ে একেক পন্ডিতের একেক রকম মতামত। যার জন্য কবি গুরু বলেছেন “হায়রে কবে কেটে গেছে, কালিদাসের কাল/ পন্ডিতেরা বিবাদ করে, লয়ে তারিখ-সাল। তবে অনুমান করা যায় তার জন্ম বা বাসস্থান ছিল ভারত/ হিমালয়/ কলিঙ্গ/ উজ্জয়িনি। আর তার জন্ম খ্রীষ্টিয় চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দিতে। তিনি ছিলেন একজন কবি ও নাট্যকার। গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সভাকবিও ছিলেন তিনি। মহাকবি তার অনেক রচনায় চন্দ্রগুপ্তের রাজ্য, রাজধানি উজ্জয়নী ও তার রাজসভার কথা উল্লেখ্য করেছেন। তিনি তার লেখায় হিন্দু পুরানের স্পষ্ট ছোঁয়া রেখেগিয়েছেন। সপ্তম শতাব্দীতে হর্ষচরিত নামক গন্থে মহাকবি কালিদাসের কথা সপ্রশংস ভাবে উল্লেখ করা আছে। তার উল্লেখ্যযোগ্য কাব্য হলোঃ (১) মেঘদুতম্[মেঘদুত] (২) কুমারসম্ভবম্ [কুমারসম্ভব] (৩) রঘুবংশম্ [রঘুবংশ] (৪)ঋতুসংহার (৫)পুস্পবান বিলাস (৬)নলোদয়। অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ তার উল্লেখ্যযোগ্য নাটক। “অভিজ্ঞানশকুন্তলম্” ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদিত হয়েছিল যার নাম অনুবাদিত হওয়ার পরে হয়েছিল শকুন্তলা।
অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ অবলম্বনে ১৯৬১ সালে ভি শান্তারাম ‘স্ত্রী’ নামক চলচিত্রটি তৈরি করেন। তামিল পরিচালক আর আর চন্দ্র (R R Chandra) কালিদাসের জীবনকাহিনি অবলম্বনে ১৯৬৬ সালে তৈরি করেন তামিল ছবি মহাকবি কালিদাস। ১৯৮৩ সালে কন্নর ভাষায় তৈরি হয় ‘কবিরত্ন কালিদাস’ নামক চলচিত্রটি। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের কাব্যে দীক্ষা হয় কালিদাসেরে একটি শ্লোকের মাধ্যমে। বিখ্যাত সেই শ্লোকটি হলোঃ
““মন্দাকিণী-নিঝর-শিকরানাং বোঢ়া মূহু কল্পিত- দেবদারু
যদাবায়ুরন্বিষ্ঠমৃগৈঃ কিরাঃ তৈরাসেব্যতে ভিন্ন শিখন্ডীতবর্হঃ।।””
এই শ্লোকটি ‘কুমারসম্ভবম্’ থেকে নেওয়া যা হয়তো বালক রবীন্দ্রনাথের মনে অব্যক্ত বেদনার সঞ্চার করেছিলো।
যাই হোক কালিদাস পন্ডিতের কিছু ধাধা দিয়ে আমি আমার পোষ্ট শেষ করছি, উত্তরগুলো কমেন্টে জানাবেন।
(১)কালিদাস পন্ডিতে কয়
কাঁসার সার ছাড়া, পাঠার পা ছাড়া, লবঙ্গের বঙ্গ ছাড়া বলতো কি হয়?
(২)কালিদাস পন্ডিতে কয়,
জন্ম তার জলে নয়, জন্ম নয় খালে
হস্ত নাই পদ নাই, দুই চরণে চলে।
বলতো তারে কি বলে?
(৩)কালিদাস পন্ডিতের বাল্যকালের কথা
নয় হাজার তেতুল গাছে কয় হাজার পাতা?
(৪)শুভ্রবসন দেহ তার, করে মানুষের অপকার
চিতায় তারে পুরিয়া মারে তবু সে উহ্ আহ্ না করে।
পোষ্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। ভাল লাগলে শেয়ার করবেন।

Share This:

Daniel Rozario

আমি ডানিয়েল রোজারিও। Biographical Info-তে লিখার মতো কিছুই নেই। আমার বৈশিষ্ট্য হলো আমি বৈশিষ্ট্যহীন।

This Post Has 7 Comments

  1. অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা তথ্য গুলোর তথ্য সুত্র উল্লেখ করে দিবেন।

  2. জ্বী আচ্ছা পরের পোস্ট থেকে দিব। এখানের তথ্যগুলো উইকিপিডিয়া থেকে মুল তথ্যগুলো নিয়ে নিজের মতো সাজিয়ে লিখেছি।

    1. আমরা তা বুঝতে পেরেছি। আর আমরা এরকম পোস্ট খুবই কদাচিৎ এপ্রোভ করি। কিন্তু কালিদাস সম্পর্কে অনলাইনে এমন পোস্ট খুব কমই আছে তাই আপনার পোস্টটি এপ্রোভ করেছি।
      তাছাড়া এই পোস্টটি একবার পড়ে দেখুন, এবং আপনার সেরা ১০ অ্যাপ এর পোস্টটির মান আরকটু উন্নত করার চেষ্টা করুন যেন আমরা তা খুব সহজেই এপ্রোভ করতে পারি। আর অন্য কোন সাইট থেকে ছবি যোগ করবেন না।
      ধন্যবাদ

      1. ভুল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু ছবি যোগ করব কিভাবে???

        1. আপনার পোস্ট যদি ভালো মানের হয় তাহলে আপনাকে অথোর বানানো হবে। তখন আপনি ছবি আপনি ছবি যোগ করতে পারবেন।

  3. তবে কিছু পোষ্টেতো ছবি যোগ করা প্রয়োজন। সেখানে???

    1. আপনি আগে ভালো ভালো কিছু পোস্ট দেন, আমরা প্রয়োজন অনুসারে ছবি যোগ করে নিব। আর আপনার পোস্টে আমরা সন্তুষ্ট হলে আপনাকে অথোর পদ দেওয়া হবে।

Close Menu

Content

Share This: