মৃত্তিকা ও তার গল্পলেখা

মৃত্তিকা পড়াশুনা করছে। পরিবারে মা আর বাবা আর তাদের একমাত্ৰ সন্তান মৃত্তিকা। মৃত্তিকা পড়াশুনায় অতটা ভালো না হলেও লেখালেখি অনেক সুন্দর পারে। বিশেষ করে গল্প লেখা। বলতে গেলে বিদ্যালয়ের সব ছাত্রীরাই মৃত্তিকার লেখা পছন্দ করে। কোনো সময় আছে মৃত্তিকা তার গল্প লেখা শেষ হলে স্কুলে ক্লাসে সেই গল্পগুলি তার বন্ধুদের পরে শুনায়। পড়া শেষ হলে বন্ধুরা হাত তালি দিয়ে বলে , বাহ ! অনেক দারুন হয়েছে ! বন্ধুদের প্রশংসা মৃত্তিকার গল্প লেখার মনোযোগ আরেকটু বাড়িয়ে দে।

স্কুল ছুটি হলে মৃত্তিকা তার বাড়ি দিকে রওনা হয়। মৃত্তিকার পরিবারে তার বাবাই তার গল্পের অনেক ভক্ত। যখন মৃত্তিকা গল্পের একটি মজার লাইন যখন তার বাবাকে পরে শুনায় বাবা তখন অনেক খুশি হন খুশি হয়ে বাবা তখন মৃত্তিকাকে বলেন , মা তুই অনেক বড় হো। মৃত্তিকা তখন অনেক খুশি হয়। মৃত্তিকার মা সংসারে অনেক কাজে ব্যাস্ত থাকেন। কোনসময় আছে মৃত্তিকা তার গল্প মা কে পড়ে শুনায় কিন্তু মা মৃত্তিকার গল্পের প্রতি তেমন আগ্রহী নন। অনেক সময় মৃত্তিকা যখন তার গল্প লেখালেখিতে ব্যাস্ত হয়ে পরে তখন মা মৃত্তিকাকে বলেন ,পড়াশুনায় তো একদম ভালো না তুই। এখন এই সব বাজে কাজ রেখে আপাতত পড়তে বস।

মৃত্তিকা তার মা এর কথায় একদম মন খারাপ করে না। বরং অনেক খুশি হয় কারণ মা তো বকেছে। মৃত্তিকার মনে ছিল অনেক আত্মবিশ্বাস। মৃত্তিকা যখন টেবিলে বসে গল্প লেখে আর মনে মনে বলে , আমি অনেক ভালো গল্পকার হবো। হ্যা আমি পারবো। রাতে মৃত্তিকার মা ও বাবা বসেছে খাবার টেবিলে। মৃত্তিকার মা কড়া গলায় মৃত্তিকাকে ডাকছিলেন , মৃত্তিকা। এদিকে আয়। খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলো। ডাকে সারা না পেয়ে মৃত্তিকার মা বিরক্তি হয়ে মৃত্তিকার ঘরে গেলো। তারপর দেখলো মৃত্তিকা অনেক মনোযোগ দিয়ে গল্প লিখছে। মা অনেক বিরক্তির স্বরে বললেন , আই তোকে আমি খাবার টেবিলে ডাকছিলাম শুনিছিলি না কেন ? মৃত্তিকা বললো , মা তুমি যাও। আমি আসছি। মৃত্তিকার মা রাগ হয়ে বললেন।

মৃত্তিকা আমি না বলেছি লেখালেখি বাদ দিয়ে পড়তে বস। আচ্ছা তুই যে লেখাপড়ায় এতো খারাপ পরে খারাপ করলে আমি মুখ দেখাবো কিভাবে ? এটি একবার ভাব। এসব বাদ দে। আমার কথা চিন্তা কর। এইবলে মৃত্তিকার মা তার খাবারের টেবিলে চলে গেলেন। মৃত্তিকা তার লেখা শেষ করে খাবারের টেবিলে এলো। খাবারের টেবিলে খাবার খেতে খেতে মৃত্তিকার বাবা বললেন , তা মা। তোমার কত দূর ? মৃত্তিকা হাসি দিয়ে বলে , এই তো বাবা। কিছুটা শেষ। তারপর সকালবেলা। মৃত্তিকাদের ক্লাস চলছে। ক্লাসে সব বন্ধুরা একটা কথাই বলাবলি করছে তাহলো কাল তাদের বিদ্যালয়ে গল্প লেখার প্রতিযোগিতা হবে। মৃত্তিকা ও কথাটি শুনেছে কিন্তু বিশ্বাস করছিলো না পরে শিক্ষক শিক্ষিকাদের মুখে কথাটি শুনে বিশ্বাস হলো তার। মৃত্তিকা মনে মনে বলে , আমি কি পারবো ? বিজয়ী না হই অন্তত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। আমার বিশ্বাস আমি পারবো।

তারপর মৃত্তিকা ঘরে বসে অনেক গল্প লেখে। তারপরের দিন সকালে বিদ্যালয়ে গল্পলেখার প্রতিযোগিতা শুরু হলো। শিক্ষক শিক্ষিকারা অনেক গল্প লেখা দেখলো। তারপর শুরু হলো পুরুষ্কার বিতরণী। কে হচ্ছে শ্রেষ্ঠ গল্পকার ? মৃত্তিকা তখন নির্ভয় বসে ছিল কিন্তু তার মনে একটি বিশ্বাস ছিল তাহলো সে পারবে। তারপর প্রথমে মৃত্তিকার নাম উচ্চারিত হলো। তার মানে মৃত্তিকা প্রথম হয়েছে !!!! কথাটি শুনে মৃত্তিকার প্রথমে বিশ্বাস হলো না এরপর পুরুষ্কার বিতরণীতে বিশ্বাস হলো। পুরুষ্কার পেয়ে মৃত্তিকা অনেক খুশি হলো। খুশিতে সে তার বাবাকে পুরুষ্কারটি দেখালো বাবা তো মেয়ের সাফল্য দেখে অনেক খুশি।

তারপরের দিন সকালে একটি ফোন এলো। ফোনটি করেছে মৃত্তিকার ক্লাসের এক সহপাঠী। ফোনটি ধরলো মৃত্তিকার মা। ফোন ধরে বললেন , কে বলছেন ? সহপাঠীটি বললো , আন্টি আপনি কেমন আছেন ? আমি রাফসা। মৃত্তিকাদের ক্লাসে পড়ি। তারপর মৃত্তিকার মা চিনতে পেরে বললেন , ও রাফসা ! আমি অনেক ভালো আছি মা। তুমি ভালো আছো ? রাফসা বললো , জি ভালো আছি। তা আন্টি মৃত্তিকাকে দেওয়া যাবে ? মৃত্তিকার মা তখন বললেন , মা ও তো এখন ঘুমোচ্ছে। কি দরকার আমাকে বলতে পারো। রাফসা তখ বললো , আন্টি !! আমাদের স্কুলে গল্প লেখার প্রতিযোগিতায় মৃত্তিকা প্রথম হয়েছে তাই ওকে শুভেচ্ছা জানাতে ফোন! কথাটি শুনেই মৃত্তিকার মা বললেন , তাই ? ! রাফসা তখন বললো , হ্যা আন্টি ! তখন মৃত্তিকার মা বললেন , ঠিক আছে মা। আমি এখন রাখছি কেমন ! তুমি পরে ফোন করো মা।

এ বলে মৃত্তিকার মা ফোনটি রেখে দিলেন আর মনে মনে ভাবলেন , ও তো পড়াশুনায় একদম ভালো না তার বাদে পুরুষ্কার পাওয়া তো ওর কথা না। তারপরের দিন মৃত্তিকাদের বাসায় তার ছোট ফুপি আসেন। ফুপিকে দেখেই মৃত্তিকার মনে অনেক আনন্দ ! সাথে মৃত্তিকা তার মা বাবাকে ডাকতে লাগলো মা বাবা দেখে যাও ! কে এসেছে ! সাথে সাথে মা বাবা আসলো! মৃত্তিকার বাবা বললেন , আরে ! হিমা ! তুই এসেছিস আয় আয়। মৃত্তিকার মা ও খুশি হয়ে হিমাকে বললেন , তা এতো দিন পর আমাদের কথা মনে পড়লো তোমার ? হিমা তখন বললো , কি আর করবো বলো ? ভার্সিটি ছুটি হলো তাই আসা। মৃত্তিকা তো অনেক খুশি ! ফুপি এসেছে বলে !!! পরেরদিন বিকেলবেলায় মৃত্তিকা তার পুরস্কার দেখালো তার ছোট ফুপিকে ! ফুপি তো অনেক খুশি আর অবাক হয়ে বললো , বাহ ! অনেক সুন্দর তো ! তুমি পেয়েছো ?

মৃত্তিকা তখন হাসিমুখে বললো , হ্যা ! ফুপি ! অনেক সুন্দর না !? ফুপি তখন খুশি হয়ে মৃত্তিকাকে শুভেচ্ছা জানালো। আর বললো , তুমি সামনে অনেক ভালো করো এটি তোমার কাছে আমার চাওয়া !মৃত্তিকা তখন অনেক খুশি হলো ! এরপরের দিন মৃত্তিকার মা ও ফুপি গল্প করছে গল্প করতে করতে মৃত্তিকা ফুপি বললো , তুমি জানো ? মৃত্তিকা পুরস্কার পেয়েছে ! মৃত্তিকার মা তখন বললেন , জানবো না কেন ? জানি .মৃত্তিকার ফুপি তখন বললো , এতো সুন্দর একটি খবর ! তুমি খুশি হো নি ? মৃত্তিকার মা তখন বললেন , দেখো। ও পড়াশুনায় তেমন ভালো না। কিন্তু ও যে একটা কিছুতে পুরুষ্কার পাবে তা কোনোদিন ভাবতে পারি নি। তখন মৃত্তিকার ফুপি বললো ,

পড়াশুনায় না ভালো হলে কি হবে ওর যে একটা ভালো গুন আছে সেটি অনেক যথেষ্ট। মৃত্তিকার মা তখন বললেন , কিন্তু। পড়াশুনায় না ভালো হলে এখন কিছু করা যায় না। মৃত্তিকার ফুপি তখন হেসে বললো ,কি যে বলো না ! তুমি একবার আমাদের কবি সাহিত্যিক বিজ্ঞনীদের দিকে তাকাও দেখবে তাদের মধ্যে এমন অনেককেই আছেন যারা কিনা পড়াশুনায় নয় নিজের গুনে তারা আজ প্রতিষ্ঠিত। তাদের নাম সবার মুখে। মৃত্তিকার মা মৃত্তিকার ফুপির কথায় কিছুটা অবাক হয়ে রইলেন। মৃত্তিকার ফুপি তখন বললো , ভাবি শুধু পড়াশুনা দিয়ে একটা মানুষকে বিচার করাটি ঠিক নয়।

মানুষটির ভিতরে যে কি অসাধারণ গুন আছে তা বুঝতে হবে। মৃত্তিকার মা মৃত্তিকার ফুপির কথা কিছুটা বুঝতে পারলেন। এরপরের দিন মৃত্তিকা বারান্দায় দাঁড়িয়ে তার ফুল গাছটিকে দেখছিলো হঠাৎ মৃত্তিকার মা আসলো। মা কে দেখেই মৃত্তিকা হাসিমুখে বললো , মা তুমি এসেছো। মৃত্তিকার মা তখন হাসিমুখে বললেন , হ্যা রে মা। মা রে আমাকে তুই মাফ করে দিস। আমি বুঝতে পারি নি। মৃত্তিকা তখন হাসি মুখে বললো , মা তুমি তো সারাজীবন আমার অনেক প্রিয় মা। মা মেয়ের হাসিমাখা মুখ দেখে মৃত্তিকার বাবা ও মৃত্তিকার ফুপি অনেক খুশি হলো।

Share This:

ROSY BEGUM

আমি রসিক মানুষ। ভালোবাসি ফেইসবুক চালাতে , ম্যাগাজিন পড়তে আর ঘুমাতে।
Close Menu

Content

Share This: