যে যে কাজ করলে আপনি কাফির হয়ে যাবেন!!

যে যে কাজ করলে আপনি কাফির হয়ে যাবেন !!

যে ব্যক্তি কোনো ধর্মের অনুসারী নয় তার জীবনে নেই কোনো শৃঙ্খলতা , তার নেই কোনো পরকাল সম্পর্কে ধারণা নেই ইহকাল সম্পর্কে কোনো জ্ঞান।
বাংলাদেশের যেখানে ৯০.৪% মানুষ মুসলিম সেখানে বাংলাদেশ যে একটি মুসলিম দেশ তা বলার বাকি নেই আর । তবে এদেশের অনেক মানুষ ধর্ম পালন নিয়ে উদাসীন । তারা নানা ভাবে পাপ করছে , তারা জ্ঞানে, অজ্ঞানে পাপাচার করে যাচ্ছে যা তাদের ইহকালিন ও পরকালিন জীবনে বয়ে আনছে কষ্ট,দুঃখ – দূর্দশা । আমরা অনেকেই জানি না কোন কোন কাজ করলে একজন মুসলিম ব্যক্তি কুফরি করে বা কাফির হয়ে যায় ।

আস্সালামু আলাইকুম ,
আমি আসিফ আমান জিহাদ (রংধনু) , আজকে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি নতুন একটি ইসলামিক আর্টিকেল নিয়ে (সকল ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা রয়েছে । তবে অনেকের এই প্রশ্ন থাকে যে কিভাবে একজন ব্যক্তি কাফির হয়ে যায় তাই এই আর্টিকেল টা এবার লিখছি) ।শিরোনাম দেখে হয়ত কারো বুঝতে বাকি নেই আজকের আর্টিকেলের বিষয়টি সম্পর্কে । এবারের আর্টিকেলের বিষয় হলো যেসব কাজ করলে একজন ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবেন , বা যে যে সব কাজে কুফরের অন্তর্গত বা যে কাজ গুলো করলে কুফরি করা হয় ।

আর্টিকেল টি পড়া শেষ করার পড় আপনি জানতে পারবেন এই বিষয় গুলো

  • কাফির কি ?
  • কুফরি কি?
  • কুফরি কাকে বলে?
  • কাদের কাফির বলে?
  • কি কি কাজ করলে আপনি কাফির হয়ে যাবেন?
  • কুফরের পরিণতি ও কুফল সম্পর্কেও জানতে পারবেন । ইত্যাদি

আশা করি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালো করে জানতে পারবেন আর্টিকেল টির শেষে ।

চলুন দেরি না করে আজকের আর্টিকেল টা শুরু করে দেই,

কুফর এর পরিচয়

কুফর একটি আরবি শব্দ । এর বাংলা অর্থ হলো অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা(বিশ্বাস না করা), ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা , অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি । ইসলামি পরিভাষায় বা ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দীন(দীন আরবি শব্দ । এর অর্থ হলো ধর্ম) ইসলামের মৌলিক বিষয় গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস বা বিশ্বাস স্থাপন না করাকে কুফর বলা হয় ।

কুফর হলো – ইমানের বিপরীত । ইসলামের মোলিক বিষয় গুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করাকে ইমান বলে । আর এই সব বিষয়ে অবিশ্বাস করাকে বলে কুফর ।

কুফরের পরিচয় পাওয়া গেল । চলুন এবার জেনে নেই, কাফিরের পরিচয় ।

কাফিরের পরিচয়

যে ব্যক্তি কুফরে লিপ্ত থাকে বা হয় তাকে কাফির বলে । অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি ইসলামের মৌলিক বিষয় গুলো মনে প্রাণে বিশ্বাস না করে, বরং সেগুলো অবিশ্বাস করে তখন তাকে কাফির বলা হয় । কাফির অর্থ অবিশ্বাসী , অস্বীকারকারী । মানুষ নানা ভাবে নানা কাজ করার মাধ্যমে কাফির অথবা অবিশ্বাসী বা কুফরে লিপ্ত হতে পারেন ।

কুফর হলো, কাফির হলো জানা । এবার চলুন জেনে নেই কোন কাজ গুলো করার মাধ্যমে কাফির হয়ে যায় একজন মুসলিম ব্যক্তি ।

কাফিরের কার্যবলি

একজন মুসলিম নানা কাজের মাধ্যমে কাফির হয়ে যান । তার মধ্যে কয়েকটি কাজের উল্লেখ্য করা হলো নিচে :

  • আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব অবিশ্বাস বা অস্বীকার করার দ্বারা । অর্থাৎ “আল্লাহ নেই” এমন কথা বললে সে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে
  • আল্লাহ তায়ালার গুণাবলি অস্বীকার করলে। যেমন – আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা বা রিযিকদাতা না মানা ।
  • ইমানের মৌলিক সাতটি বিষয়ে অবিশ্বাস করা হ যেমন- ফেরেশতা , নবি-রাসুল, আসমানি কিতাব, আখিরাত , তকদির ইত্যাদি বিশ্বাস না করা ।
  • ইসলামের মৌলিক ইবাদত গুলো অস্বীকার করা। যেমন -সালাত , সাওম, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদিকে ইবাদত হিসেবে না মানা ।
  • হালালকে হারাম মনে কথা । যেমন- হালাল খাদ্যকে হারাম মনে করে না খাওয়া ।
  • হারামকে হালাল মনে করা । যেমন – মদ, জুয়া, সুদ, ঘুষ ইত্যাদিকে হালাল বা জায়েজ মনে করা।
  • ইচ্ছাকৃত ভাবে কাফিরদের অনুকরণ করা, তাদের ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহার করা ।
  • ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নিয়ে ঠাট্টা- বিদ্রুপ করা । যেমন- মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কিংবা কুরআনকে নিয়ে ঠাট্টা , উপহাস করা ।

এই কাজ গুলো করার মাধ্যমে একজন মানুষ কুফর করে অর্থাৎ সেই ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়। এমতাবস্থায় পুনরায় মনে প্রাণে বিশ্বাস আনতে হবে অর্থাৎ ইমান আনতে হবে এবং খাঁটি মনে তওবা করতে হবে । তারপর দৃঢ় সংকল্প করতে হবে যেন পুনরায় ভবিষ্যতে এরুপ ঘৃণিত কাজ আর না হয় তাহলেই মহান আল্লাহ তায়ালা তার অপার ক্ষমা, দয়া, করুণা গুণের কারণে ক্ষমা করে দিতে পারেন ।

এবার চলুন জেনে নেই কুফরের কারণে যে কুফল বা খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয় তা সম্পর্কে ।

কুফরের পরিণতি ও কুফল

মানব জীবনে কুফরের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ভয়ংকর । এই কুফরের মাধ্যমে ব্যক্তি শুধু দুনিয়া জীবনে বঞ্চনার শিকার হয় না বরং পরকালে বা আখিরাত জীবনে সে কষ্টের, শাস্তির জায়গা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয় । এর কতিপয় কুফল সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল –

অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতা

কুফর মানুষের মধ্যে অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতার জন্ম দেয় । আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টিকর্তা । তিনিই এই মহান সৃষ্টিজগতের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা । তিনিই আমাদের লালন – পালন করেন অর্থাৎ তিনি আমাদের পালনকর্তা ।পৃথিবীর সকল নিয়ামত তাঁরই দান । কাফির ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে অবিশ্বাস করে, এসব নিয়ামত অস্বীকার করে । সে আল্লাহ তায়ালার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয় । আল্লাহ তায়ালার বিধি- নিষেধ অমান্য করে । ফলে সমাজে সে অবাধ্য ও অকৃতজ্ঞ হিসেবে পরিচিত হয়।

পাপাচার বৃদ্ধি

কাফির ব্যক্তি আল্লাহ , মিযান, পরকাল, হাশর , জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি অবিশ্বাস করে । মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে মানুষকে তার কৃতকর্মের হিসেব দিতে হবে এরূপ ধারণাও অস্বীকার করে । তার নিকট দুনিয়ার জীবনই প্রধান । সুতরাং দুনিয়ায় ধন-সম্পদের ও আরাম আয়েশের লোভে সে নানা রকম অসৎ ও খারাপ কাজে লিপ্ত হয় অর্থাৎ পাপ কাজে লিপ্ত হয় । চুরি , ডাকাতি, ছিনতাই, মারামারি, সন্ত্রাস, জুয়া , সুদ ইত্যাদিতে সে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে । ফলে সে সমাজে পাপাচার বদ্ধি করে ।

হতাশা সৃষ্টি

স্বভাবগত ভাবেই মানুষ ভরসা করতে পছন্দ করে। আশা ভরসা না থাকলে মানুষ সুন্দর ভাবে বাঁচতে পারে না । কাফির ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাকদিরে অবিশ্বাস করে । ফলে সে যেকোনো বিপদে আপদে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ে । মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে ধৈর্যধারণ করতে পারে না । অন্যদিকে তকদিরে বিশ্বাস না থাকায় যেকোনো ব্যর্থতায় সে চরম হতাশায় পড়ে যায় । ফলে তার জীবন চরম হতাশা গ্রস্তভাবে অতিবাহিত হয় ।

অনৈতিকতার প্রসার

কুফর মানব সমাজে অনৈতকতার প্রসার ঘটায় । আখিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম, বিশ্বাস না থাকায় কাফির ব্যক্তি নৈতিকতার গুরুত্ব বুঝতে পারে না এবং দুনিয়ার স্বার্থে পাপাচার , মিথ্যাচার, সুদ-ঘুষে লিপ্ত হয়, সন্ত্রাস , অনাচার, ব্যভিচার ইত্যাদি যেকোনো পাপ ও অনৈতিক কাজে ঐ ব্যক্তি সহজেই জড়িয়ে পড়ে বিনা দ্বিধায় । নবি-রাসুলগণকে অবিশ্বাস বা বিশ্বাস না করায় , তাঁদের দেখানো পথে , তাঁদের নৈতিক চরিত্র এবং শিক্ষা সে অনুসরণ করতে পারে না । এভাবে কুফরের মাধ্যমে সমাজে অনৈতিকতার প্রসার ঘটে।

আল্লাহ তায়ালার অসন্তুষ্টি

কুফরের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস , অকৃতজ্ঞতা, অবাধ্যতা সৃষ্টি হয় । কাফির ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার আদেশ নিষেধ, তার কালামের, তার রাসূলের আদেশের কোনো পড়োয়া করে না। বরং আল্লাহ তায়ালা , ইসলাম ও মুসলমান দের সাথে বিদ্রোহ ও বিরোধিতা করে। ফলে আল্লাহ তায়ালা উক্ত ব্যক্তির উপর অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েন । আর যার প্রতি আল্লাহ তায়ালা অসন্তুষ্ট হন, সে যত ক্ষমতা ও সম্পদের মালিক হোক না কেন তার ধ্বংস অনিবার্য ।

অনন্ত কালের শাস্তি

পরকালে কাফিররা জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে । তারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে । আল্লাহ তায়ালা বলেন-

“যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শন গুলোকে অস্বীকার করবে তারাই জাহান্নামের অধিকারী । সেখানে তারা চিরদিন থাকবে ।” -সূরা আল বাকারা, আয়াত ৩৯

কুফর একটি মারাত্মক পাপ। উপরে উল্লেখিত কুফরের সংজ্ঞা, কাকে বলে, কাফির কি, কাফির কিভাবে হয় একজন ব্যক্তি কাফির হয়ে যায় তা জানতে পারলাম। এখান থেকেই বুঝা যায় কুফর বা কফরি করা কত বড় ধরণের পাপ । তার উল্লেখ্য করা আছে মহান আল্লাহর কালাম, পবিত্র কোরআনেও। সুতরাং আমাদের সকলেরই বেঁচে থাকা উচিৎ এই পাপ থেকে ।

আশা করি আমি আর্টিকেলের প্রথমে যেগুলো সম্পর্কে জানাতে চেয়েছি , সেগুলো জানাতে পেরেছি । তাই আজ এখানেই শেষ করছি ।

কোনো প্রকার পরামর্শ, অভিমত, ভুল ধরিয়ে দেয়ার হলে তা কমেন্টে জানাবেন । ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন ।

তথ্যসুত্র – ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বই (নবম দশম শ্রেণি-২০১৭)

-রংধনু

সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ

Share This:

রংধনু

আমি আসিফ আমান জিহাদ । একজন শিক্ষার্থী যে নতুন কিছু শিখতে শেখাতে ও জানাতে পছন্দ করে। এবং সর্বদা কথা কাজ তথ্য দিয়ে মানবতার পাশে থাকতে চাই
Close Menu

Content

Share This: