রসায়ন সাজেশন(এসএসসি পরিক্ষা-২০১৯)

রসায়ন সাজেশন

এসএসসি পরিক্ষা-২০১৯

রসায়ন নবম দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি আবশ্যিক বিষয় । অনেকে বলে নাম রসায়ন হলেও এই বিষয়ে নাকি কোনো রস নেই। তবে আমি মনে করি যদি আপনি এই বিষয়ের রস কে আস্বাদন করতে একবার পারেন তাহলে হয়ত কখনো এই রসের স্বাদ ভুলতে পারবেন না । এবার একটু রসায়নের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যাক.

রসায়নের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

রসায়নের ইতিহাস একটি অনেক বড় বিষয়।এটি প্রাচীন ও প্রধান বিজ্ঞানগুলোর অন্যতম। বলা চলে আগুন আবিষ্কারের পর থেকেই মানব সভ্যতার হাত ধরে এগিয়ে চলেছে রসায়ন। ভারতবর্ষে প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বেই কাপড়কে আকর্ষণীয় করে তুলতে রঙের ব্যবহার শুরু হয়েছিল।রসায়ন চর্চায় প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার অবদান অনেক।প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় রসায়ন চর্চা আল-কেমি(Alchemy) নামে পরিচিত। আল-কেমি আরবি আল-কিমিয়া থেকে উদ্ভুত,যা দিয়ে মিশরীয় সভ্যতাকে বুঝানো হতো। জাবির ইবন হাইয়ানকে রসায়ন শাস্ত্রের ও ল্যাভয়সিয়েকে আধুনিক রসায়ন শাস্ত্রের জনক বলা হয়ে থাকে। মধ্যযুগে ধাতুকে সোনায় পরিণত করতে পারার পদ্ধতি আবিষ্কারের প্রচেষ্টায় শুরু হয় আলকেমি বিদ্যা, যা ল্যাভয়সিয়ে, মেন্ডেলিফদের হাতে পূর্ণতা লাভ করেছে।

বোর্ডের প্রশ্নের নিয়ম

রসায়ন একটি বিজ্ঞানের বিষয় হওয়ায় অন্যান্য বিজ্ঞানের বিষয়ের মতো এই বিষয়ে ব্যবহারিক আবশ্যিক রয়েছে ২৫ নাম্বারের যা মূল পরিক্ষার পর নেয়া হয় ।

মূল পরিক্ষা হবে সৃজনশীল ৫০ আর বহুনির্বাচনী ২৫ এর । সৃজনশীল প্রশ্ন মোট থাকবে ৮ টি তার মধ্যে থেকে পছন্দ মতো যেকোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে । প্রশ্নে কোনো বিভাগ থাকবে না তাই নিজের পছন্দ মতো যেকোনো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাবে ।

সিলেবাস

রসায়ন বোর্ড বইয়ে মোট বারোটি অধ্যায় রয়েছে । এর মধ্যে থেকেই সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে ।

রসায়ন মূল সাজেশন

সৃজনশীল অংশ

প্রথম অধ্যায়(রসায়নের ধারণা)

এই অধ্যায় থেকে খুব বেশি প্রশ্ন হয় না । তেমন কোনো বোর্ডে এই অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসে নাই । গত বছর এই অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসে নি । তবে এই বছর এই অধ্যায়ের রসায়ন পাঠের গুরুত্ব,রসায়নের সাংকেতিক চিহ্ন গুলো অধিক গুরুত্বপূর্ণ । বিশেষ করে (সাংকেতিক চিহ্ন)আগুনের শিখা, বৃত্তের উপর আগুনের শিখা, তেজস্ক্রিয়া রশ্মি চিহ্ন ।

দ্বিতীয় অধ্যায়(পদার্থের অবস্থা)

এই অধ্যায় টাও তেমন গুরুত্বপূর্ণ না । এই অধ্যায়ের থেকে বোর্ডে খুব বেশি প্রশ্ন আসে না । গত বছর কোনো প্রশ্ন আসে নি । তবে এই বছর প্রশ্ন আসতে পারে । এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলো হলো ব্যাপন , নিঃসরণ ( এদের মধ্যকার পার্থক্য ও আসতে পারে) , মোমের জ্বলন ও পদার্থের তিন অবস্থা, তাপ প্রদানের বক্ররেখা, শীতলীকরণের বক্ররেখা,উর্ধ্বপাতন । অধ্যায় টা থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা আছে (50%)

তৃতীয় অধ্যায়(পদার্থের গঠন)

এই অধ্যায় টা গুরুত্বপূর্ণ । এই অধ্যায় থেকে বহুনির্বাচনীও আসে অনেক । বিশের করে প্রকৃত ভর গুলো দিয়ে অংক ও আসে বহুনির্বাচনীও আসে।এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পরমাণুর কণিকাসমূহ, আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর নির্ণয়, আণবিক ভর, তেজস্ক্রিয় আইসোটপের ব্যবহার, পরমাণু মডেলের মধ্যকার তুলনা,শক্তিস্তর । শক্তিস্তর অংশ টা শুধু এই অধ্যায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং সব গুলো অংশে এই শক্তিস্তর প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতের জন্যেও ।

চতুর্থ অধ্যায়( পর্যায় সারণি)

এই অধ্যায় টা খুব গুরুত্বপূর্ণ । এখান থেকে বেশি যে প্রশ্ন আসে তা হলো মৌলের পর্যায় সারণিতে অবস্থান নির্ণয়, পর্যায়বৃত্ত ধর্মের ব্যাখ্যা । এবং এই অধ্যায় টা বহুনির্বাচনীর জন্য অনেক গুরুত্ব পূর্ণ পাশাপাশি ক ও খ এর জন্য ও গুরুত্বপূর্ণ । তাই বলব এই অধ্যায় টা ভালো করে পড়ার জন্য । এই অধ্যায়ের পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন পর্যায় সূত্র, মৌলের অবস্থান নির্ণয় (very very important point), মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম, মৌলের বিশেষ নাম( ক ও খ এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ) । এই অধ্যায় টা অনেক সহজ । একটু ভালো করে বুঝে পড়লেই আপনি এই অধ্যায় থেকে পরিক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্ন দিতে পারবেন ।

পঞ্চম অধ্যায় (রাসায়নিক বন্ধন)

এই অধ্যায় টা থেকে প্রতিবছর প্রশ্ন আসে । রসায়নে কম বেশি প্রতিবছর একি অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসে কারণ রসায়নের মূল কথা তো একটাই হয়ত শুধু প্রশ্নের ধরণ টা বদলে আসে । একটি কথাই দেখা যায় ঘুরিয়ে বলা হয়েছে যা । এই অধ্যায় থেকে গত বছর আয়নিক বন্ধন ও কার্বনের রূপভেদ থেকে প্রশ্ন এসেছে । তাই এই বছর খুব ই গুরুত্বপূর্ণ হলো সমোযোজী বন্ধন এবং আয়নিক ও সমযোজী যৌগের বৈশিষ্ট্য(দ্রবণীয়তা) । এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো হচ্ছে যোজনী বা যোজ্যতা,অষ্টক ও দুইয়ের নিয়ম(গুরুত্বপূর্ণ),সমযোজী বন্ধন , যৌগের বৈশিষ্ট্য, ধাতব বন্ধন । এই অধ্যায় টাও অনেকটা সহজ । একটু ভেবে উত্তর দিলেই এখান থেকে উত্তর দেয়া যাবে । তাই বলব এই অধ্যায় টা ভালো করে পড়ার জন্য ।

ষষ্ঠ অধ্যায়(মোলের ধারণা ও রাসয়নিক বিক্রিয়া)

এই অধ্যায় থেকে গত বছর প্রশ্ন এসেছে । তবুও এই অধ্যায় টা এবারের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ । এই অধ্যায় টা মূলত গাণিতীক অধ্যায় যাকে রসায়নে বলে Stoichiometry .  এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুলো হল মোল( কাকে বলে), মোলার আয়তন, মৌলের শতকরা সংযুক্তি থেকে সংকেত নির্ণয়(very very important point), মোলার দ্রবণ, শতকরা সংযুক্তি(very very important point) , উৎপাদের শতকরা পরিমাণ নির্ণয় । গত বছর লিমিটিং বিক্রিয়ক আসায় এবছর এটা কম গুরুত্বপূর্ণ । এই অধ্যায় টা থেকে প্রশ্ন আসবেই তাই গাণিতীক বিষয় গুলো ভালো করে দেখার জন্য বলা হল ।

সপ্তম অধ্যায়(রাসায়নিক বিক্রিয়া)

এই অধ্যায় থেকে গত বছর আদ্র বিশ্লেষণ,জারণ বিজারণ, প্রতিস্থাপন অংশ থেকে প্রশ্ন এসেছে । তাই এবছরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিক্রিয়ার শ্রেণিবিভাগ,জারণ সংখ্যা নির্ণয়(very very important point), দহন বিক্রিয়া, অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া, টলেন বিকারক(গুরুত্বপূর্ণ), সমাণুকরণ, লা শাতেলিয়ারের নীতি( very very very important point) । এবার এই অধ্যায়ের জারণ সংখ্যা নির্ণয় এবং লা শাতেলিয়ারের নীতি অংশ টা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ । তাই বলব একদম মিস করবেন না এই অধ্যায় টা । ভালো করে পড়বেন ।

অষ্টম অধ্যায়( রসায়ন ও শক্তি)

এই অধ্যায় থেকে গত বছর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপের প্রভাব বা ∇H এর মাণ নির্ণয় এসেছিল তাই এবার কোষ এই অধ্যায়ের খুব গুরুত্বপূর্ণ । এবার এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুলো হলো বিক্রিয়ার শক্তিচিত্র,ফটোকেমিক্যাল ধৌঁয়া কাকে বলে, ইথানলকে জ্বালানি( ব্যাখ্যা), গ্যালভানিক কোষ (গুরুত্বপূর্ণ), লবণ সেতু, ড্রাই সেল,তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ, পানির তড়িৎ বিশ্লেষ্য , NaCl এর বিশ্লেষণ, নিউক্লিয় বিক্রিয়া(গুরুত্বপূর্ণ) । এই অধ্যায় টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ । এই অধ্যায় থেকে এবার গাণিতীক অংশ না আসলেও কোষ, লবণ  সেতু আসতে পারে ।

নবম অধ্যায়(এসিড-ক্ষার সমতা)

এই অধ্যায় থেকে গত বছর এসিড বৃষ্টি এবং পানির খরতা অংশ থেকে প্রশ্ন এসেছে । এই বছর এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নাইট্রিক ও সালফিউরিক এসিডের জারণ ধর্ম, ধাতব আয়নের সাথে লঘু ক্ষারের বিক্রিয়া(টেবিল টা খুব গুরুত্বপূর্ণ), গাঢ় এসিড, pH পেপার( গুরুত্বপূর্ণ), pH এর গুরুত্ব(বহুনির্বাচনী), প্রশমণ বিক্রিয়া(ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের জন্য), পানি বিশুদ্ধতার পরিক্ষা(BOD এবং COD), পানি বিশুদ্ধকরণ । এই অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসবেই । এই অধ্যায়ে এসিড ক্ষারের বিক্রিয়া গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।

দশম অধ্যায়(খনিজ সম্পদ:ধাতু-অধাতু)

এই অধ্যায়ের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ধাতু নিষ্কাশন । গত বছর এই অধ্যায় থেকে অ্যালুমিনিয়াম, লোহা থেকে প্রশ্ন আসে । এই অধ্যায় থেকে এবছর এর জন্য প্রয়োজনীয় অংশ হলো ধাতু নিষ্কাষণ একটি বিজারণ বিক্রিয়া, NaCl নিষ্কাশন, জিংক নিষ্কাশন, লেড নিষ্কাশন, কপার নিষ্কাশন ও বিশোধন(তড়িৎ বিশ্লেষ্য বা বিশোধন) , সংকর ধাতু,সালফিউরিক এসিড (very very important) . এই অধ্যায়ের সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ।

একাদশ অধ্যায়(একাদশ অধ্যায়-জীবাশ্ম)

এই অধ্যায় থেকে একটা না একটা প্রশ্ন আসবেই (100%) । এটা সুনিশ্চিত । তবে অনেকের কাছে এই অধ্যায় টা এক ভয়ের নাম তবে ভবিষ্যতে এই অধ্যায় টা সর্বাধিক বেশি প্রয়োজন । গত বছর এই অধ্যায় থেকে অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন প্রমাণ, অ্যালকোহল প্রস্তুতি এসেছিল তাই এই এবছরের জন্য প্রয়োজনীয় অংশ হলো পেট্রোলিয়ামের বিভিন্ন অংশের ব্যবহার ( বহুনির্বাচনী ও ক এর জন্য), হ্যালোজেন প্রতিস্থাপন,পলিমার করণ, জৈব এসিড প্রস্তুতি, অ্যালকেন থেকে এসিড এসিড থেকে অ্যালকেন, ডেরলিন , টেফলন,নাইলন । এই অধ্যায় টা এবছরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ । কারণ এটাই একমাত্র অধ্যায় যেই অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসবেই । শতভাব সুনিশ্চয়তা দেয়া যায় ।

দ্বাদশ অধ্যায়( আমাদের জীবনে রসায়ন)

এই অধ্যায় টা থেকে গত বছর কোনো প্রশ্ন হয় নি । তাই এই বছর এই অধ্যায় টা খুব গুরুত্বপূর্ণ । এই অধ্যায়ের বেকিং পাউডার,ভিনেগার,টয়লেট ক্লিনার, সাবান(খুব গুরুত্বপূর্ণ), ডিটারজেন্ট(খুব গুরুত্বপূর্ণ), কাপড় পরিষ্কারের কৌশল (গুরুত্বপূর্ণ), ব্লিচিং পাউডার(ব্যাখ্যা এর জন্য), ইউরিয়া(গুরুত্বপূর্ণ) । এই অধ্যায় থেকে এবার প্রশ্ন আসবেই(80%) । তাই এই অধ্যায় টা ভালো করে পড়ার জন্য বলব ।

পরিশেষে

অনেকে মনে করবে যে আমি সব অধ্যায় ই কম বেশি পড়তে বললাম কারণ আমি সবাইকেই অপশন দিয়েছি । সবাই সব অধ্যায়ে ভালো নয় । তাই কোন কোন অধ্যায়ের কোনটা কোনটা গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো আমি বলে দিয়েছি । ইনশাআল্লাহ এখান থেকে কমন পাবেন পরিক্ষায় । মনে রাখবেন রসায়নের মূল বিষয় একটাই সেটাই ঘুরায় পেচায় দেয় প্রতিবার তাই উত্তর করার পূর্বে প্রশ্ন গুলো ভালো করে পড়বেন । উদ্দীপক না পড়ে উত্তর দিবেন না এই দেখে যে আমি তো গ পারি বা  ঘ পারি পরে উত্তর করতে যেয়ে দেখবেন আপনি উদ্দীপক টি বুঝছেন ই না কিন্তু ঐ সৃজনশীল টা না দিয়ে আপনি ঐ সময়ে অন্য একটা দিতে পারতেন যেটা পরে ছিল । কিন্তু এখন আর সময় নেই । তাই বলছি উত্তর দেয়ার আগে উদ্দীপকপ্রশ্ন ভালো করে পড়ে নিবেন । বহুনির্বাচনী ও ক খ এর জন্য পুরো বইটা ভালো করে পড়বেন । হ্যা একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা পর্যায় সারণীর প্রথম ত্রিশ টা মৌলের নাম, পারমাণবিক সংখ্যা, ভর জেনে রাখবেন তারপর কয়েকটা গ্রুপের মৌলগুলো সম্পর্কেও জেনে নিবেন । প্রশ্ন আসতেই পারে । সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন তিনি যা করেন বা করবেন মঙ্গলের জন্যই করবেন ।

ধন্যবাদ

-রংধনু

Share This:

রংধনু

আমি আসিফ আমান জিহাদ । একজন শিক্ষার্থী যে নতুন কিছু শিখতে শেখাতে ও জানাতে পছন্দ করে। এবং সর্বদা কথা কাজ তথ্য দিয়ে মানবতার পাশে থাকতে চাই
Close Menu

Content

Share This: