ললিতা এবং নীতার গল্প

ললিতা। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে। মা বাবার অনেক আদরের সন্তান। মা বাবা দুজনই ললিতাকে অনেক ভালোবাসেন। ললিতার একটি ভালো গুন আছে তা হলো কবিতা আবৃত্তি। ললিতা অনেক সুন্দর কবিতা আবৃত্তি করতে পারে। একদিন ললিতা তার মা বাবাকে একটি কবিতা আবৃত্তি করে শুনালো। কবিতাটি শুনার পর মা বাবা দুজনই খুশি হলেন। ললিতার মা বললেন , অনেক সুন্দর হয়েছে ! কবিতাটি কার লেখা ? ললিতা কবির নাম বলতে পারলো না। বাবা বললেন , মা কবিতাটি আমাদের পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের। ললিতা বাবার কথায় একটু অবাক হয়ে বললো , বাবা ! পল্লী কবি মানে কি ? আমি তো কোনোদিন এটি শুনি নি। বাবা বললেন , মা পল্লী কবি মানে হচ্ছে , যে মাটি মানুষ গ্রাম বাংলার সব কিছু নিয়ে ভাবেন। যার কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পাওয়া যায়। তাকেই পল্লী কবি বলে। বাবা ললিতাকে বললেন , আমরা হলাম বাঙালি। আমাদের দেশের কবি সাহিত্যিক সংস্কৃতি ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের। ললিতা বাবার কথায় মুগ্ধ হলো। ললিতা বাবাকে বললো , বাবা তুমি ঠিক বলেছো। এরপরের দিন ললিতা তার বিদ্যালয়ে গেলো। বিদ্যালয়ের সবার সাথে ললিতার অনেক ভালো বন্ধুত্ব। কিন্তু একজন ছিল ললিতার খুব কাছের বন্ধু। তার নাম নীতা। ললিতা ও নীতা তারা দুজনই সহপাঠী। একদিন নীতা ললিতাকে বললো ,ললিতা ! তুমি কি কাল রাতে জি বাংলায় নাটকটি দেখেছো ? ললিতা বললো , না। আমি ওগুলি দেখি না। নীতা বললো , কি যে বলো না। অনেক বড় জিনিস মিস করেছো তুমি ! তারপর ললিতাদের ক্লাস হয়ে। ক্লাস হওয়ার পর ললিতাদের বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যায়। এরপরের দিন ললিতা বই পড়ছে। মা এসে ললিতাকে বললেন, মা তুমি কি করছো ? ললিতা মা কে বললো , মা ! বই পড়ছিলাম। খুব সুন্দর গল্পের বই ! মা বললেন , তা কার বই পড়ছো ? ললিতা বললো , মা ! হুমায়ন আহমেদের ! আমার অনেক পছন্দের লেখক ! মা বললেন , তা বুঝেছি। তারপরের দিন ক্লাসের ফাঁকে ললিতা এবং নীতা গল্প করছে ! ললিতা নীতাকে বললো , এই কাল রাতে বিটিভিতে একটি নাটক দিয়েছিলো ! নাটকটি দেখেছো ! নীতা ললিতাকে বললো , আমার নাটক পছন্দ না। আমার পছন্দ জি টিভির নাটক !!! ললিতা বললো ,তোমার বাংলাদেশের কার অভিনয় ভালো লাগে ? নীতা বললো , আমি বাংলাদেশের কারোকে আসলে চিনি না। নীতার কথা শুনে ললিতা একটু অবাক হলো ! তারপরের দিন খাবারের টেবিলে ললিতার বাবা ললিতাকে বললো , মা তোমার পড়াশুনা কেমন চলছে ?ললিতা বললো , অনেক ভালো বাবা ! এরপর ললিতা বললো , বাবা আজ লাইব্রেরি থেকে আনা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর বই পড়েছি !অনেক ভালো লেগেছে ! মা ললিতাকে বললেন , মা বই পড়া অনেক ভালো ! আর তুমি যদি বেশি বেশি বই পড় তাহলে বেশি বেশি জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। ললিতা মায়ের কথায় খুশি হয়ে বললো ,মা আসলে আমাদের বাংলাদেশের সব কিছুই অনেক সুন্দর! ঠিক বলেছি না ? মা বাবা অনেক খুশি হলো ললিতার কথায় ! এরপরের দিন ললিতা ক্লাসে নীতাকে বললো , নীতা ! তোমার বাংলা কোন গানটি পছন্দের ! আমার না দেশের গান ভালো লাগে ! নীতা বললো , আমি তো বাংলা গান তেমন শুনি না। তবে আমার কাছে জি বাংলার একটি নাটকের গান আমার পছন্দ ! ললিতা নীতাকে বললো , আচ্ছা ! জি বাংলায় আসলে কি হয় ? যে তুমি খালি ওটার নামই বলো ! নীতা বললো , কি না দেখায় বলো !? অনেক কিছু দেখায় সেই খানে ! অনেক মজার দারুন কাহিনী দেখায় ! ললিতা কিছু বুঝতে না পেরে নীতার দিকে তাকিয়ে থাকে ! আর মনে মনে বলে , কি এমন আছে তাতে ? তারপরের দিন মা বাবা আর ললিতা বসে টিভি দেখছে ! হঠাৎ ললিতা জি বাংলায় টিপ দিলো। মা চ্যানেল বদলিয়ে ললিতাকে বললেন , মা এ সব দেখা ভালো নয়। ললিতা বললো , কেন মা ? ললিতার বাবা বললেন , কারণ এ সব অনেক ক্ষতিকর জিনিস। ললিতা বললো , কেমন ? মা বললেন , এ চ্যানেল গুলি হলো ভিনদেশি। আর এ চ্যানেল গুলিতে যা দেখায় তা মোটেও ভালো নয়। সেটা একটি সমাজের ক্ষেত্রেও নয় একটি পরিবারের ক্ষেত্রেও নয় এমনকি তোমাদের জন্য নয়। তারপর ললিতা বুঝতে পারলো মা বাবা কি বলতে চাইছে। তারপর বাবা ললিতাকে বললো , মা সবসময় নিজের দেশকে ভালোবাসবে। নিজের দেশের সংস্কৃতিকে ভালোবাসবে। তাহলে তোমাকেও সবাই ভালোবাসবে। ললিতা মা বাবার কথায় অনেক খুশি হলো। ললিতা মা বাবাকে বললো , মা বাবা তোমরা ঠিক বলেছো ! এরপরের দিন ললিতাদের বিদ্যালয়ে খবর এলো আবৃত্তি প্রতিযোগিতা হবে। সেটা নিয়ে সবার চিন্তা ! কিন্তু টিচাররা আবৃত্তির জন্য ললিতাকে পছন্দ করে রেখেছেন। ললিতা অনেক খুশি হলো। তারপরের দিন আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় ললিতা কবিতা আবৃত্তি করলো। আবৃত্তি শুনে সবাই হাত তালি দিলো ! তারপর নীতা মুগ্ধ হয়ে ললিতাকে বললো , কবিতাটি কার ? ললিতা বললো , কবিতাটি কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের ! কেন তুমি বুঝতে পারো নি ? নীতা বললো , না মানে ! এতো সুন্দর কবিতা ! ললিতা বললো , হ্যা ! দেখেছিস ! আমাদের বাংলাদেশের কবি সাহিত্যিকরা কত সুন্দর তাদের কবিতা ! আর তুমি তো খালি ভিনদেশি সিরিয়াল পাগল ! নীতা চুপ হয়ে ললিতার কথা শুনছে। ললিতা বললো , শোন আমাদের বাংলাদেশের সংস্কৃতি অনেক সুন্দর ! আর আমরা সবাই বাঙালি .কেন আমরা অন্য দেশের সংস্কৃতি দেখবো ! ? নীতা মনে মনে ভাবতে লাগলো ! ললিতা বললো , শোন দেশ যদি নিজের হয় তাহলে সংষ্কৃতিটাও নিজের হতে হবে। আর বিনোদোন এর কথা যদি বলো তাহলে তা আমাদের দেশের হতে হবে। আমাদের দেশের নাটকের গল্প দেখো চলচ্চিত্র গান নাচ দেখো তাহলে বুঝবে কোনটি ভালো আমাদের দেশের সংস্কৃতি নাকি ভিনদেশি সংস্কৃতি !? নীতা ভেবে ললিতাকে বললো , আমি আসলে বুঝতে পারি নি। আসলে তুমি যা বলেছো কথা গুলি আসলে অনেক ভালো লেগেছে আমার। আসলে আজ তোমার কবিতা আবৃত্তি শুনে আমার অনেক ভালো লেগেছে ! আমি আসলে বুঝতে পারি নি আমাদের দেশে এতো সুন্দর জিনিস আছে ! যা ওই সব ভিনদেশি সিরিয়ালেও আমি পাই নি। তারপর কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার ফল বের হলো। আবৃত্তিতে ললিতা হলো প্রথম ! বিজয়ীর পুরস্কার টি পেয়ে ললিতা অনেক খুশি হলো তার সাথে মা বাবাও অনেক খুশি হলো !

Share This:

ROSY BEGUM

আমি রসিক মানুষ। ভালোবাসি ফেইসবুক চালাতে , ম্যাগাজিন পড়তে আর ঘুমাতে।
Close Menu

Content

Share This: