লুকায়িত প্রতিভা – না বলা স্বপ্নের কথা

নীহারিকা। মা বাবার অনেক আদরের মেয়ে। নীহারিকা ছবি এঁকে যখন সুন্দর পুরুস্কার পেয়ে হাসিমুখে বাবার কাছে এসে বলে , দেখো বাবা ! কি পেয়েছি ! বাবা তখন অনেক খুশি হয়ে মেয়েকে আদর করে দেন। মা ও তখন অনেক খুশি হয়ে উৎসাহ দিতে থাকেন। মা বাবা দুজনের উৎসাহে নীহারিকা বড় হচ্ছে। নীহারিকার একটি গুন আছে সেটি হলো নীহারিকা অনেক সুন্দর বেহালা বাজাতে পারে। নীহারিকার বেহালা বাজানো শুনলে বন্ধুরাও অনেক মুগ্ধ হয় ! নীহারিকার এই উৎসাহ দেখে মা বাবা নীহারিকাকে শিশু একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। নীহারিকা তো অনেক খুশি ! নতুন নতুন বন্ধু পাবে সেইখানে ! আসলে শিখার মধ্যে যে কি আনন্দ তা নীহারিকা মধ্যে দেখা যায় !!! ক্লাস শেষে নীহারিকা বাসায় ও অনেক অনুশীলনী করে !! মা বাবা নীহারিকার বেহালা বাজানো শুনে অনেক খুশি হন ! মা বাবা দুজনেই হাত তালি দিয়ে বলেন চমৎকার !!!!

অন্যদিকে নীহারিকারদেরই পাশের বাসায় থাকে একজন প্রতিবেশী। তাদের এক ছেলে। ছেলেটির নাম প্রভাত। ছেলেটির সবকিছুতে মা বাবা কেমন জানি করেন। তবে ছেলেটির একটি ভালো গুন আছে ! সেটি হলো ভালো ছবি তুলা !যে খানে যাবে সাথে থাকবে ক্যামেরা ! গাছগাছালি পাখপাখালির ছবি তুলতে ওর বেশ ভালো লাগে ! একদিন ছেলেটি তার বারান্দায় একটি ছোট পাখিকে বসে থাকতে দেখলো ! সেই কি আনন্দ ! ক্যামেরা নিয়ে পাখিটির ছবি তুলে নিলো ! হাসিমুখে তার মা বাবার কাছে গেলো ছবিটি কেমন হয়েছে তা জানতে। বাবাকে ছবিটি দেখাতেই বাবা মুখটি ভার করে বললেন , প্রভাত। এই সব ছবি তুলা বাদ দাও। তারপর প্রভাত তার ছবিটি মা কেও দেখালো। কিন্তু মা প্রভাতের ছবি দেখে বললেন ,প্রভাত। যেগুলো দিয়ে কোনো কাজ হয় না কোনো উন্নতি হয় না সেগুলি কেন করো ? আর ছবি তুলা একটি জিনিস হলো ?

প্রভাত মা এর কথায় কিছুটা মন খারাপ করে। ঘরে একা একা বসে ভাবে সে আর মনে মনে বলে ছবি তুলা যদি খারাপ ই হতো তাহলে পৃথিবীতে কেন মানুষ ছবি তুলবে ? হাত দুটি গালে দিয়ে বসে থাকে সে। এদিকে সকালে নীহারিকা তার বেহালা বাজানোর অনুশীলন করছে তার বেহালার শব্দ গেলো পাশে বাসায় ও ! প্রভাতের মা বাবার ঘুম ভেঙে গেলো ! প্রভাতের মা মনে মনে বললেন , এতো সুন্দর শব্দ কোথা থেকে আসছে ? এরপরেদিন প্রভাতের মা নীহারিকাদের বাসায় গেলেন , নীহারিকার মা প্রভাতের মা কে দেখেই খুশিমনে বললেন , আরে ভাবি ! আপনি ? আসুন আসুন। বসুন। প্রভাতের মা একটু হাসি দিয়ে বসলেন। নীহারিকার মা বললেন , তারপর ভাবি ! কেমন আছেন ? চা দিবো না কফি ? প্রভাতের মা বললেন , না না ভাবি। লাগবে না।

জানেন ভাবি, খুব সকালে খুব সুন্দর শব্দ শুনে ঘুম ভাঙলো। তাই ভাবলাম আপনাদের এইখান থেকে এসেছে কি না। নীহারিকার মা হেসে বললেন , হ্যা ভাবি। আমাদের মেয়ে অনেক সুন্দর বেহালা বাজাতে পারে। প্রভাতের মা বললেন , এতো সুন্দর !? নীহারিকার মা হেসে বললেন , দোয়া করবেন ভাবি। তারপর নীহারিকার মা বললেন , তা প্রভাতকে দেখছি না যে ?! ও তো অনেক ভালো ছবি তুলতে পারে দেখলাম। প্রভাতের মা একটু আনমনা নিয়ে একটু হাসলেন। নীহারিকার মা বললেন , আসুন না আজকে খেয়ে যাবেন আর খাওয়ার পর আমার মেয়ের সুন্দর বেহালা বাজানো শুনবেন। প্রভাতের মা হেসে বললেন , না ভাবি আজ নয়। আচ্ছা ভাবি ও যে বেহালা বাজায় ওর সময় নষ্ট হয় না ? নীহারিকার মা হাসিমুখে বললেন , ভাবি ! এতে সময় নষ্ট হওয়ার কি আছে ? বাচ্চারা যা শিখতে চায় তাদের তো তাই শিখানো উচিত। প্রভাতের মা বললেন , তা তো অবশ্যই। কিন্তু তবুও আপনাদের কোনো ইচ্ছে নেই কি হতে হবে কি পড়াবেন ? নীহারিকার মা বললেন , ভাবি ! আমাদের একার ইচ্ছাই সব নয়। আমাদের বাচ্চাদের কথাও ভাবা লাগবে। ওদের মধ্যে যে কি সুন্দর একটি প্রতিভা আছে তা তো আমরা কেউই জানি না। জানার পর যদি আমরা তাদের সেই প্রতিভাগুলিকে কাজে লাগাতে শিখাই তাহলে খারাপ কোথায় ? আর বাচ্চাদের প্রতিভাকে গুরুত্ব দেওয়াটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। প্রভাতের মা মনোযোগ দিয়ে নীহারিকার মা এর কথা গুলি শুনতে থাকে।

এরপর ঘরে এসে প্রভাতের মা কথাগুলি ভাবতে থাকেন আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে বলেন , তাহলে এতো দিন যা করেছি তা সব ভুল ছিল ?তারপর প্রভাতের মা কিছুটা অনুতপ্ত হয়ে বলেন , না প্রভাতকে আমার কথাগুলি বলা একদম উচিত হয় নি। এরপরেরদিন সকালে প্রভাতের মা বাবা নাস্তার টেবিলে প্রভাতের মা প্রভাতের বাবাকে বিষয়টি বললেন। প্রভাতের বাবাও অনেক অনুতপ্ত হলেন বিষয়টি বুঝতে পেরে। প্রভাতের বাবা বললেন , হ্যা আমরা আসলে আমাদের ছেলেকে বুঝতে পারি নি। আমরা শুধু ওর বাহিরটাই দেখলাম ভিতরে যে কি সুন্দর একটি জিনিস লুকিয়ে আছে তা আমরা বুঝতে পারি নি। তারপর প্রভাতের মা প্রভাতের ঘরে ঢুকলেন প্রভাতকে আদর করতেই প্রভাত জেগে উঠে বললো , মা মা আমি আর ছবি তুলবো না। এই নাও ক্যামেরা। প্রভাতের মা হাসিমুখে প্রভাতকে আদর করে বললেন , না বাবা। এতো সুন্দর ক্যামেরা ফেলে ছবি তুলবে না ?! তা কি হয় ? প্রভাতের বাবা বললেন , হ্যা তাই তো ? বাবা তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি আমরা আসলে বুঝতে পারি নি।

আমাদের ক্ষমা করে দাও। প্রভাতের মা বললেন ,আজ থেকে তুমি অনেক ছবি তুলবে ! তোমাকে অনেক সুন্দর ক্যামেরা কিনে দিবো ! তুমি যতগুলি পারো ছবি তুলবে ! প্রভাত মা বাবাকে হাসিমুখে বললো , সত্যি বলছো মা বাবা। আমি ছবি তুলবো ?! আমার যে কি খুশি লাগছে ! ছেলের খুশি দেখে মা বাবাও অনেক খুশি হলেন।

Share This:

ROSY BEGUM

আমি রসিক মানুষ। ভালোবাসি ফেইসবুক চালাতে , ম্যাগাজিন পড়তে আর ঘুমাতে।

This Post Has 2 Comments

Close Menu

Content

Share This: