সফলতা কারো হাত ধরে আসেনা।

রাত ১ টা বেজে ৩৫ মিনিট|যখন ঘুমিয়ে গেছে দেশের সকল মানুষ|কে বলবে যে তখন ও কোনো কিশোর জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছে|স্বপ্ন দেখছে কিভাবে দেশের উন্নতি তে অংশ নেয়া যায়|স্বপ্ন দেখছে কিভাবে একজন ভাল উকিল হওয়া যায়|ওহ!আপনাদের বলাই হয়নি যে,এই কিশোর টা কে?হ্যা এই কিশোর টার নাম আফজাল শরীফ মোহাম্মদ পলাশ|পলাশের সেই ছোটবেলা থেকেই একটাই স্বপ্ন সে একজন উকিল হবে|কিন্তু সে জানেনা যে তার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা?কেননা তার জন্ম একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে|একজন উকিল হওয়ার সকল গুণ ই তার আছে|কিন্তু একজন উকিল হতে যত টাকা লাগে তত টাকা তো আর তার নেই|এদেশে আর যাই হোক পড়ালেখা তো আর ফ্রি তে করা যাবেনা|আবার ভাল চাকরি নিতে গেলেও মামা-খালুদের সাথে ঘুষ লাগবে|এবার সে কেবল জে এস সি পরীক্ষা দিয়েছে|বর্তমানে প্রায় দেড়মাস ছুটি ও পেয়েছে সে|কিন্তু এটা যে তার জন্য ছুটি নয়|বরং এই ছুটিতে তাকে ভর্তি হতে হল একটি হোটেলে|সেখানে সে বেয়ারার কাজ পেল|ব্যস ছুটির এই আনন্দের দিন গুলিতে তাকে কাটাতে হচ্ছে এই নিরানন্দ বেয়ারার কাজ করে|কি বা করত এছাড়া ।সে তো আর ধনী পরিবারের ছেলে না।এভাবে কাজ করতে করতে প্রায় ১মাস শেষ।একদিন একটি টেবিলে সে খাবার সার্ভ করতে যেয়ে দেখে ফ্লোরে একটি মানিব্যাগ পড়ে আছে।সে মানিব্যাগ টি তার আসল মালিকের কাছে ফেরত দেয়।এতে ঐ ব্যক্তি খুশি হয়ে এবং পলাশের সততা,ট্যালেন্ট দেখে পলাশকে তার ছোট মেয়ে মিষ্টির জন্য প্রাইভেট টিচার নিযুক্ত করেন।এতে পলাশের পড়া ও হবে আবার কিছু টাকা ও পাওয়া যাবে।আজকে তার পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে ।তাই তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে স্কুলে চলে গেল।আগে হ্যা যা ভেবেছেন ঠিক তাই,পলাশ সত্যিই সত্যিই এবার ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে।তাই তার মালিক মিষ্টির সাথে বৃষ্টিকে ও পড়ার দায়িত্ব দিয়ে দেয়।ওহ!বলায় হয়নি মিষ্টি পড়ে ক্লাস ওয়ানে আর বৃষ্টি পড়ে ক্লাস সেভেনে।সে বৃত্তি পাওয়াই খুব সহজে এস এস সি পরীক্ষা দিতে পেরেছে।এখন সে প্রাইভেট পড়ায় এবং তার পড়ালেখা চালিয়ে যায়।সে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে আইন বিভাগে।এদিকে পলাশ আর বৃষ্টি ভালবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।ব্যাপার টা বৃষ্টির বাবা জানলে ও তিনি কিছুই বলেননা।কারণ বৃষ্টির বাবা জানে পলাশ ভাল ছেলে।তাই সে পলাশের পড়ালেখায় সহযোগিতা করে।আজ পলাশ দেশের স্বনামধন্য উকিলদের মধ্যে একজন।এখন আর তার কোনো সাহায্য লাগেনা।বরং সে অন্যদের সাহায্য করে।পলাশ আইন বিভাগ নিয়ে পাশ করার পর তাদের মানে পলাশ ও বৃষ্টির বিয়ে হয়।এখন তারা একটি সুখী পরিবার এর অধিকারী।
এটি কোনো রোমাঞ্চকর গল্প না। এই গল্পের মূল বক্তব্য হল:ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।এবং সবসময় একটাই লক্ষ্য কে ঠিক রেখে চলতে হবে।এবং যতই বাধা বিপত্তি আসুক না কেন নিজের সততা কে বজায় রেখে ক্রমাগত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।তবেই ঐ ব্যক্তি সফল হতে পারবে।
গল্পটি তে যদি কোন ভূল হয়ে থাকে তবে কমেন্টে জানান।

Share This:

Shakil

আমি ব্লগ এর জগতে নতুন।তাই লেখার হাত ও এখনো অনুন্নত,উন্নত করার চেষ্টায় আছি প্রতিনিয়ত।।আর তখন ই উন্নত হবে, যখন আপনারা আমার পোস্ট সম্পর্কে মন্তব্য করবেন।সেটা খারাপ হোক বা ভালো।
Close Menu

Content

Share This: