সবার প্রিয় ডোরেমনের পূর্ণ ইতিহাস জানুন

ছোটদের প্রিয়, সবচেয়ে ভালোবাসার কার্টুন ডোরেমন। কোনো বাচ্চা শুধু ডোরেমন দেখেই কাটিয়ে দিতে পারে সারাদিন। আমাদের দেশে ডোরেমনের জনপ্রিয়তা এতই বেশি যে অনেক স্থানে ডিজনি চ্যানেল ব্যান করে দেওয়া আছে, বাচ্চারা হিন্দি শিখে বাংলা ভুলে যাবার আশংকায়। আজ ডোরেমনের ইতিহাস নিয়ে কথা বলব আমরা।

ডোরেমন দেখে বাচ্চারা কাটিয়ে দিতে পারে সারাদিন।

ডোরেমন হলো একটি মাঙ্গা সিরিজ। সারা বিশ্বের সবচেয়ে অর্থ উপার্জনকারী আনিমেটেড ফ্রাঞ্চেইজি হিসেবে এটি পরিচিত। সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ ছোট বাচ্চারা এই কার্টুনটি দেখে। সেই ১৯৬৯ সাল থেকে এটি চলে আসছে। আমাদের দেশে ২০০৯-২০১০ সালে থেকে এটি প্রচুর জনপ্রিয়।

সবার প্রিয় সদা হাস্যোজ্জ্বল ডোরেমন

ডোরেমনের কাহিনিটি ছিল ভবিষ্যৎ থেকে আসা একটি রোবটীয় বিড়ালকে নিয়ে যে ২২শ শতাব্দী থেকে বর্তমানে আসে নোবিতা নোবি নামক এক স্কুল ছাত্রকে সাহায্য করতে। ডোরেমন বিড়াল হলেও সে ইঁদুর খুব ভয় পায়। নোবিতা খুবই বোকা যাকে জিয়ান ও সুনিয়ো অনেক বিরক্ত করে। নোবিতা সিজুকাকে খুবই পছন্দ করে। এসব কিছুতে নোবিতাকে ডোরেমন সাহায্য করে। নোবিতা হোমওয়ার্ক করে না, ভালো বেসবল খেলতে পারে না, সাঁতার কাটতে পারে না এবং আরো অনেক দিক দিয়ে দুর্বল। এজন্য তাকে সবসময় অপমান ও বকা খেতে। কিন্তু ডোরেমন, নবিতা, সিজুকা, জিয়ান ও সুনিয়ো অনেক ভালো বন্ধু। তারা একসাথে অনেক জায়গায় ঘুরে, অনেক কিছু করে।

তারা সবাই ভালো বন্ধু, বেস্ট ফ্রেন্ডস

এই ডোরেমনে পেছনে কিন্তু এক আসল ইতিহাসও রয়েছে। নোবিতা নোবি নামে এক বালক সত্যিই ছিল জাপানে। সে স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত ছিল। এই রোগের রোগী অবাস্তব অনেক কিছু কল্পনা করতে এবং একসময় তাকে বাস্তব ভাবতে শুরু করে। নোবিতাও ডোরেমনকে কল্পনা করতে শুরু করে। নোবিতার রোগের কারণে তাকে নিয়ে সবাই খুব ঠাট্টা-তামাসা করত। সে কল্পনা করে ডোরেমন তাকে সেসব থেকে বাঁচায়। ডোরেমন এবং নোবিতা একসাথে সমস্ত দুনিয়া চষে বেড়াতে থাকে। তাদের মনে কোনো বাঁধা থাকে না।

এভাবে একসময় নোবিতা নিজেকে তার রুমে বন্ধ করে দেয়। সেখান থেকে আর বের হয় না। এ অবস্থা দেখে তার বাবা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার অনেক কষ্টে তাকে বুঝায় যে ডোরেমন মাত্রই তার কল্পনা, এর বেশি কিছু নয়।

নোবিতা ডাক্তারের কথা বুঝতে পেরে বাড়ি আসে এবং প্রচণ্ড নিঃসঙ্গ অনুভব করতে থাকে। একসময় সে আত্মহত্যা করে কারণ ডোরেমনবিহীন জীবন তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

ডোরেমনবিহীন নবিতা সম্ভব নয়

জাপানি কমিক এবং মাঙ্গা লেখক ফুজিও এফ ফুজিকো এ কাহিনীর অবলম্বনে লেখা শুরু করেন যা আকাশছোঁয়া সাফল্য পায়।

ফুজিও এফ ফুজিকো

তিনি একসময় এর প্রকৃত সত্যটা দিয়ে কাহিনি শেষ করতে গেলে ডোরেমন ভক্তদের মধ্যে চরম আন্দোলন তৈরি হয়। সবাই এর বিপক্ষে চলে আসে। তখন ফুজিও ফুজিকো লেখা না ছেড়ে লিখে চলেন। পরবর্তীতে তা সফল অ্যানিমেটেড কার্টুন সিরিজে পরিণত হয়।

ডোরেমনের জন্য আন্দোলন

ফুজিও এফ ফুজিকো ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ডোরেমন লেখেন। তবে তার মৃত্যুর পরও এটি চলতে থাকে। যারা এগুলো লিখত তারা এটি শেষ করার জন্য দুইবার প্রচেষ্টা চালায়।

একবার ডোরেমনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যায় এবং নোবিতা সেই শোকে অন্যরকম হয়ে যায়। দীর্ঘ ৩৫ বছর সে সাধনা শেষে একসময় সে নিজেই ডোরেমনকে ঠিক করতে সফল হয়। এই এপিসোডটি প্রচণ্ড সাফল্য পেলেও ভক্তরা আরো এপিসোদের দাবি চালিয়ে যায়।

ডোরেমনের জন্য নোবিতার প্রচণ্ড ভালোবাসা ছিল, যা থেকেই ব্যাটারি শেষ হবার পরও ৩৫ বছরের সাধনায় সে ডোরেমনকে ঠিক করে তোলে।

দ্বিতীয়বার নোবিতা তার ছোটবেলার বান্ধবী সিজুকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সে তা গ্রহণ করলেও একজনের ষড়যন্ত্রে নোবিতা ভুল খবর পায় যে সিজুকা তাকে গ্রহণ করে নি। সেকারণে নোবিতা আত্মহত্যা করে। এই এপিসোডটি তেমন জনপ্রিয়তা পায় না, উল্টো এর বিরুদ্ধে আরো বেশি আন্দোলন শুরু হয়।

ভুল খবর পেয়ে আত্মহত্যা করে নোবিতা

এরপর আর কেউ এটি শেষ করার চেষ্টা করেনি। বর্তমানে ডোরেমন সারা পৃথিবীতে কার্টুন হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। নোবিতা-ডোরেমনের অভিযানের ওপর নির্ভর করে প্রায় ৩২ টি মুভি তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে ‘স্ট্যান্ড বাই মি’ মুভিটি ছিল ডোরেমন কীভাবে নোবিতার জীবনে আসে এবং তার জীবনটা ডোরেমনের ওপর চলে আসে।

স্ট্যান্ড বাই মি (আমার দ্বারা দাঁড়াও)

আগে আমাদের দেশে হিন্দিটা প্রচারিত হলেও ২০১৪ সাল থেকে আমাদের দেশে এর বাংলা ডোরেমন শুরু হয়েছে। ডোরেমনের আদলে জাপানিরাই কিটেরেটসু, মুজাকো, নিনজা হাত্তোরি, চিম্পুই, শিনিচ্যান ইত্যাদি এর মতো কার্টুন নির্মাণ করলেও কোনোটিই ডোরেমনের আগে যেতে পারেনি।

ডোরেমন হলো একটি অমর বন্ধুত্বের, নোবিতা এবং ডোরেমনের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতীক। এটি কৃত্রিম হলেও এর ভেতরে দেখানো নোবিতা ডোরেমনের ভালোবাসা অকৃত্রিমই মনে হয়। সেকারণে ডোরেমন সবার এত্ত প্রিয়। ডোরেমন হলো শিশুদের বর্তমান এবং বড়দের অতীত। ফুজিও এফ ফুজিকোর অমর সৃষ্টি।

অমর বন্ধুত্বের নজির ডোরেমন
Share This:

Mehjabin

৮ম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত একজন ক্ষুদ্র শিক্ষার্থী। শিশু সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হওয়ায় সংবাদ, ফিচার প্রবন্ধ লেখার সামানহ অভিজ্ঞতা আছে। লেখার হাত অনভিজ্ঞ, অদক্ষ তাই দক্ষ করার চেষ্টায় আছি।

This Post Has 2 Comments

  1. সত্যিই অনেক দারুণ লাগলো। এটা আগে জানা ছিলো না।
    ধন্যবাদ আপু।

    1. 🙂 সবার ভালো লাগাই আমার সার্থকতা।

Close Menu

Content

Share This: