সমাপ্তিকে শুরু পর্ব -১

পৃথিবীর সব মানুষের ভাগ্য এক হয়না।সবার আশা আবার পূরন ও হয়না। যে যা চায় তা সব সময়ই আবার মিলে না। দুনিয়ার মানুষ বিচিত্রময়।কেউ হাসে কেউ কাঁদে তাই বলে কিন্তুু কেউ থেমে নেই। সব কিছুই চলছে আপন গতিতে।
সব কিছুই যে নিজের মতো পাবোনা এটা ভেবে মন খারাপ করে থাকলেতো চলবেনা।সব তো আল্লাহই ঠিক করবেন।আমি ওসবে কান দেবো কেন।আল্লাহ পাক বলেছেন আমি তোমাদের জোড়ায় জোড়ায় সৃস্টি করেছি।জন্ম মৃত্যু বিয়ে সব আল্লাহই ঠিক করবেন।
ও হ্যাঁ আমার পরিচয়টা দেওয়া হয়নি আমি তাহিরা অনার্স ১ম বর্ষ।আমার ছোট দুইটা ভাই বোন আছে।বাবা একটা ছোটখাটো চাকরি করেন আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের ছোট সংসারটা খুব ভালোভাবেই চলছে।সকালে ফজরের নামাজটা পড়েই দিন শুরু করি। ফজরের নামাজ হলো শয়তানের বিরুদ্ধে প্রথম জয়।আমি আব্বুর কাছেই আগে গেলাম আব্বুু একটু কেমন না ডাক দিলে উঠেনা।আব্বু, আব্বু ও আব্বু শুনছো ফজরের আজান দিয়েছে ওঠো মসজিদে যাবে। আব্বু:মারে আজ একটু বাসায় বসেই পড়ি। তাহিরা:না আব্বুু মা ডাক দিছো মায়ের কথা শুনো।তুমি ওঠো আমি তানিশা আর তানিম কে ডেকে দিচ্ছি।এই তানু তানিশা ওঠ আযান দিছে ফজরের নামাজ টা পড়ে নে। তানিম&তানিশা:আপুরে প্রতিদিনতো পড়ি আজ একটু থাক না। তাহিরা চোখ রাঙ্গিয়ে বললো এই তোরা উঠবি???আচ্চা আপু উঠছি তোমার মত একটা আপু থাকলে আর কিছু লাগেনা।তাহিরা:হয়েছে হয়েছে বেশি পাকা পাকা কথা না বলে নামাজ পড়ে আয় আব্বু মসজিদে গেছে।
আমি নামাজ পড়ে কোরআন পড়বো।
আম্মু নামাজ পড়ে ডাকলো তাহিরা মা এদিকে একটু আয়তো। তাহিরা :ওহ আম্মু তুমি একা একা রান্না ঘরে এসেছো আবার তোমার তো শরীর খারাপ আমি বলছিনা তুমি বিশ্রাম নিবা।।
আচ্ছা ঠিক আছে বাবা নেবো এ বার চট করে রুটিগুলো বানিয়ে দেতো আমি আলু বাজিটা করে নেই তোর আব্বু অফিসে যাবে তুই তো কলেজ যাবি।
তাহিরা:হুম আচ্চা আম্মু।
আব্বু:কই আমার তাহিরা মা কই খাবার হয়েছে?
তাহিরা জ্বী আব্বুু হয়েছে তুমি বস আমি সব নিয়ে আসছি।
আমি আব্বুু খাবার দিলাম খেয়ে চলে গেলো।
আব্বুু ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বিসমিল্লাহ তাওয়াক্কালতু আলাললাহি লা-হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়ে বের হবা।তাহের আহমদ: আচ্চা আমার পাকনা মা আসসালামু আলাইকুম।
সালমা বেগম:তাহিরা এবার তুইও বস ওদের ডেকে একসাথে খেয়ে বের হ।
নিরবে সায় দিল তাহিরা জ্বী আম্মু।
তাহিরা প্রতিদিনের মত হাত পা মোজা সুন্নতি হিজাব পড়ে কলজে যায় আম্মুু আমি আসি আসসালামু আলাইকুম।
সালমা বেগম: ওয়ালাইকুমুস সালাম।
তাহিরা নিচু মাথা দিয়েই সব সময় হাটে সামনে কিছু বখাটে ছেলে আছে তাহিরা ভয় পাবেনা নিশ্চয় কারন সে জানে নিশ্চয়ই আল্লাহ সাহায্য কারি।
একটু কাছে যেতেই শুনে দেক দেক আজকালও কি এমন মেয়ে আছে কেমন ভুতের মতো লাগেনা মর্ডান যুগের মেয়ে হয়ে কি আদি বেশ ধরছে।
তাহিরা কোন কথা না বলে চলে গেল।
ঘরির টাইম দেখলো আজ একটু তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে আম্মুু অসুস্থ।
দরজায় নক করলো তাহিরা আইছো জ্বী আম্মুু আসসালামু আলাইকুম।
তাহিরা:আম্মুু আমি আজ রান্না করবো।
রান্না ঘরে তেমন বাজারও নেই আম্মু তুমি তো ভোলা মন হয়ে গেছো আব্বুকে বলোনি কেন??আচ্ছা এবেলায় চলে যাবে।।
সালমা বেগম:শোন তাহিরা পুঁইশাক আর মাছ রান্না করবি। তাহিরা :আচ্চা আম্মু।
রান্না শেষ আম্মু আব্বুু কোথায় নামাজে গেছে নাকি?সালমা বেগম :হ্যারে মা তোর আব্বুু আর নামাজ ছাড়েনা তুই বলার পর।
তাহিরা:মাশাআল্লাহ আম্মু।তানিম তানিশা তোরা তাড়াতড়ি আয় আব্বুু এসে গেছে এক সাথেই খাবো।
আমি আজ চমক দিবো সবাইকে।তাহিরা কলেজ থেকে এসেই চেয়ার টেবিল সরিয়ে ফেলেছে।দস্তরখানা বিছিয়ে রাখছে আগে থেকেই।তাহিরা ডাকলো সবাইকে।
তাহের আহমদ:কিরে মা আজ নিচে খাবার দিলি ক্যান?তাহিরা:আব্বুু আমাদের প্রিয় নবী(সাঃ) দস্তরখানায় বসে খাবার খেয়েছেন আমরাও খাবো।ইনশাআল্লাহ।
তাহের আহমদ:আব্বুু খাবার খাচ্ছে আর মুচকি হাসছে তাহিরার চোখ এরাতে পারেনি।কিন্তুু আব্বু নিশ্চয়ই আম্মুকে বলবে তখন জেনে নেবো।
সবাই খাবার শেষে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে নিল।

বিকেল বেলায় তাহিরার আম্মু আয়তো মা তোর মাথায় তেল দিয়ে দেই।তেল দিতে দিতে আম্মু বলে জানিস তাহিরা তোর বাবা আজ তোর রান্নার খুব প্রশংসা করছে আজ অনেকদিন পর পেট ভরে খাবার খেল।আমারে কয় দেখছো আমার মায়ের রান্না মা আমার কত সুন্দর রান্না করছে।
তাহিরা :আচ্চা আম্মুু আব্বু আমায় কখনো মা বলে ডাকছে? আমি তো শুনিনি কখনো।আম্মু কি বলিস তোর আব্বুর ছিলি তুই কলিজা তুই আমাদের ঘরে রহমত হয়ে এসেছিসরে।
তোর আব্বু বলতো যে ঘরের প্রথম সন্তান কন্যা সন্তান হয় সে ঘর সব চেয়ে বেশি বরকত ময়।

তোর আব্বুু তোরে কত আম্মু করে ডাকছে চুমা দিছে।
তাহিরা :আচ্চা আম্মু আব্বুুরে একটু কইও তো আমায় সামনে মা ডাকতে আমি শুনবো মুচকি হেসে বললো আম্মু বললো আচ্চা।
রাতে সবাই খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ছে কিন্তুু তাহিরার ঘুম আসছেনা কাল কলেজ গেলে ওই ছেলে গুলো আবার কি না কি বলে।
এই ভাবতে ভাবতে মোবাইলে ৩:০০টার এলার্ম দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য।তাহাজ্জুুদ নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করে আম্মু আব্বু ভাই বোন সবার জন্য দোয়া করলো।ফজরের আজান দিছে আজ আর কাউকে ডাকতে হলোনা সবাই নামাজ পড়লো।
সকালের খাবার খেয়ে আব্বুু অফিস চলে গেল।তাহিরা:তানিম তানিশা আজ আমার সাথে তোরা যাবি এক সাথেই যাবো।আচ্চা আপু।
তাহিরা:আম্মু আমরা আসি আসসালামু আলাইকুম।
তাহিরা ভাই বোনদের ছেড়ে কলেজ যাচ্ছে আজও সেই ছেলেগুলা দাড়িয়ে আছে।সামনে যেতেই এই যে মেয়ে এমন ঘোমটা মাথায় কোন মাদ্রাসার মুসল্লি তুমি হুম এভাবে গাইয়া ভাবে যে যাচ্ছো।
তাহিরা:আসসালামু আলাই কুম মাথা নিচু ভাবে দাঁড়িয়ে দেখেন এভাবে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে বাজে কথা বলবেনা পর্দা করা ফরজ আর আল্লাহ পাক কোরআনে বলেছেন-নারী পুরুষ উভয় যেন দৃস্টি নত রাখে।একটা ছেলে বলে উঠলো আপু এটা কোথায় লিখা আছে??জ্বী এটা কোরআনে ১৮পারার ৩০নং আয়াত বের করে দেখবেন।তাহিরা এই বলে চলে গেল।

বাসায় আসলো আগের মতোই সালাম দিয়ে ঘরে ঢুকলো।আম্মর নজর এড়াতে পারেনি আজ তাহিরাকে যেন কেমন লাগছে। সালমা বেগম তাহের আহমদ এর ঘরে গেল তাহিরার আব্বু তুমি একটু কথা শুইনোতো। আচ্চা শুনবো কি কথা?

তুমি বাইরে আসো।
আম্মু :তাহিরার মনটা আজ যেন কেমন ভালো লাগলো না মেয়েটা একা একা কলেজ যায় দিনকালও ভালোনা মেয়ে বড় হয়েছে। বিয়ে দিয়ে দিলে ভালো হতো তুমি কি বলো তাহিরার আব্বু?
তাহের আহমদ:মনটা কেমন হয়ে গেলো মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার কথা শুনে।নিশ্বাস ফেলে বললো তাহিরার আম্মুু আমার ঘরের রহমত কোন ঘরে যাবে বলতে পারো??মা আমায় নিজের ছেলের মতো শাসন করে। সালমা বেগম:ওসব বললে তো আর মেয়েকে সারাজীবন কাছে রাখতে পারবানা মেয়ে যখন হয়েছে বিয়ে তো দিতেই হবে।
তাহের আহমদ :আচ্চা আগে তাহিরা মাকে জিজ্ঞেস করি কলেজ যাওয়ার পথে কোন সমস্যা হয় কিনা।
তাহিরা ঐ দিকে ছোট ভাই বোনদের সাথে গজল নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে কে কয়টা পারে।তাহিরার কন্ঠ খুব মিস্টি। আপু তোমার কন্ঠ এতো সুন্দর দুস্টমি করে ভাই বোন বললো।
তাহিরা:এই তোরা কন্ঠ নিয়ে পরে থাক আমি গেলাম।
তানিশা&তানিম:না আপু আর একটা শুনিয়ে যা নারে। তানিশা রাগ্বানিত স্বরে এই নামাজ পড়বি আসরের চল।
সবাই নামাজ পড়লো সন্ধ্যায় তাহিরার আব্বুু তাহিরাকে ডাকলো তাহিরা মা আমার কই গেলি শুনে যাতো।তাহিরা:আহা বাবার মুখে মা ডাক শুনতে বেশ ভালোই লাগে কেমন যেন একটা ভালোলাগা তাহিরা হাসতে হাসতে আব্ব্বুর কাছে গেল।তাহিরা:আমায়,ডেকেছো আব্বু/?
তাহের আহমদ :হ্যারে মা একটু বস কথা আছে তোর সাথে।মেয়ের হাত দুটি ধরে কাছে বসিয়ে তাহের আহমদ বলে মারে তুই বড় হয়েছিস একা একা কলেজ যাস কেউ কি কিছু বলে পথে ঘাটে?
তাহিরা :মিথ্যা কথা বলার মেয়ে না সে আর যাই করুক মিথ্যা বলতে শেখেনি।কেমন ভীতু ভাবে তাহিরা বললো আব্বু জানো আজ দুদিন কেলজ যাওয়ার পথে কিছু ছেলে রাস্তায় দাড়িয়ে আমায় বলে আমি গাইয়া মর্ডান যুগে জন্ম নিয়ে কি হুজুরনির বেশ ধরেশি।
তাহের আহমদ:আচ্চা মা শোন ভয় পাবিনা আর আমি তোকে কাল থেকে এগিয়ে দিয়ে আসবো।তাহিরা:আব্বুু তোমার কস্ট করতে হবেনা।আমায় নিয়ে চিন্তা করোনা আমার সাথে আল্লাহ আছেন।

Share This:

Shathi

Dhaka Bangladesh
Close Menu

Content

Share This: