সময়ের পরিহাস

রাত ১১ টা নিশি ফোনটা রিসিভ করে কোনমতে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল,হ্যালো…
ওপাশ থেকে উত্তর এলো,নিশি আমি আসিফ।তুমি কাল সকাল ১০ টার সময় পার্কে দেখা কর।।তোমার সাথে জরুরী কথা আছে।
-ওরে বাবা এত ব্যস্ত কেন?একটু ধীরে ধীরে তো বলতে পারো।আচ্ছা ঠিক আছে আমি আসব।
-রাখলাম।
-উফফ! কি ছেলে রে বাবা।এতরাতে ফোন দিয়ে ঘুম টা নষ্ট করল।আর এখন বলছে রাখলাম।
ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে আসিফ ফোন কেটে দিয়েছে।
তার ব্যবহার টা যেন নিশির কাছে একটু অদ্ভুৎ লাগলো।কারণ আসিফ তো এমন নয়।এতদিনে যতবার তার সাথে আসিফের ফোনে কথা হয়েছে।সবসময় নিশিই ফোনটা আগে কেটে দিয়েছে।কিন্তু আজ হল কি ছেলেটার?এসব ভাবতে ভাবতে নিশি ঘুমিয়ে পড়ল।সকালে সে বাড়ি থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেল।।আসিফ তাকে যেতে বলেছিল ১০ টার সময়।কিন্তু নিশি তার আধাঘন্টা আগেই পার্কে উপস্থিত।দেখে পার্ক একদম নির্জন।কেউ নেই।নিশি আবার ভাবতে লাগল আসিফ কেন তাকে এখানে ডাকলো?
হঠাৎ করে কেউ নিশির চোখ ঢেকে বলল আই লাভ ইউ।নিশি আজকের দিনটা তুমি ভুলে যেতে পারো কিন্তু আমি ভুলিনি।হ্যাপি প্রপোজ ডে।
মানে?
প্রপোজ ডে মানে প্রপোজ ডে।
না মানে এতদিন ভ্যালেন্টাইন ডে শুনেছি।কিন্তু প্রপোজ ডে র কথা তো শুনিনি।
কেন যেদিন সবাই বিয়ে করে সেটা তাদের এ্যানিভারসারি হয়।তাহলে যেদিন আমি তোমাকে প্রপোজ করেছিলাম সেটা কেন প্রপোজ ডে হয় না।
আসিইইইইফফ তুমি জানো কালকে তোমার ফোন পাওয়ার পর থেকে আমি কত চিন্তা করেছি।
ঠিক আছে।।আর চিন্তা করতে হবেনা।এবার চলো..
কোথায়?
কাজী অফিসে।
কি??
ইয়ে মানে বন্ধুর বিয়ে,তাই ভাবছিলাম তুমি আমি ও,,,
হ্যা তারপর(খুশী হয়ে)
বিয়ে
হ্যা বিয়ে?
বিয়েতে এ্যাটেন্ড করি।
ধুর ভাল্লাগেনা।দিলে তো মোড টা নষ্ট করে।আমি গেলাম।
বাবা!কি রাগ।তুমি কি বলতে চাইছো তা আমি বুঝতে পারছি।কিন্তু তুমি তো জান শশুর মশাই কে রাজি করাতে পারছিনা।
তাই বলছি চলনা কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে ফেলি।
নিশি আমরা চাইলে সেটা করতে পারতাম।কিন্তু এতে তোমার বাবা-মা কত কষ্ট পেত।
শোনো না তুমি তো আমার বাবার কথা বললে ।তোমার পরিবার কি আমাকে মেনে নিবে?
চলো আমার সাথে।।।
কোথায়?
কাজী অফিসে না মানে আমার বাড়িতে।
নিশি আর আসিফ ট্যাক্সি নিয়ে আসিফের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হল।
আজকে আসিফ আর নিশির প্রেমের একবছর পূর্ণ হল।কিন্তু আসিফ নিশিকে ভালবাসে প্রায় চার বছর ধরে। আসিফ আর নিশির দেখা হয় স্কুল থেকে।সেখান থেকেই আসিফের মনে নিশির জন্য একটু একটু করে ভালবাসা জমতে থাকে।অবশেষে কলেজে পা দিতেই আসিফ নিশিকে প্রপোজ করে।কিন্তু নিশি তা রিজেক্ট না করে পেন্ডিং এ রাখে।এরপর আস্তে আস্তে নিশি ও আসিফকে ভালবেসে ফেলে।এখন দুজন দুজনকে এতটাই ভালবাসে যে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত কেউ তাদের আলাদা করতে পারবেনা।
আসিফ ট্যাক্সি থেকে নেমে বিল দিয়ে নিশিকে একটা বাড়ি তে নিয়ে গেলো।নিশি লক্ষ্য করে দেখলো বাড়ির সকল জায়গায় লেখা 9.12.15.21.5. 14.9.19.8.9
নিশি আসিফকে কিছু জিজ্ঞেস করবে আগেই নিশিকে বলল,আমি আমার বাড়ির সমস্ত জায়গায় শুধু তোমার নাম লিখে রেখেছি(i love u nishi).
মা এ হল নিশি।তুমি তো জানো আমি আর নিশি…
বাহ কত সুন্দর দেখতে!এসো মা ভেতরে এসো।
বাড়ি থেকে বাহিরে এসে নিশি বলল মা আর বাবাকে কিন্তু আমার পছন্দ হয়ে গেছে।
তাই।।তো মহারাণী চলেন যাওয়া যাক।
আবার কোথায়?
শশুর মশাইয়ের বাড়িতে।
তুমি যাবেনা।
কেন?
আমার ভয় করতাছে।বাবা যদি তোমাকে কিছু…
ও তুমি ভেবোনা।আমি ম্যানেজ করে নেব।
সত্যিই?
সত্যি।
চলো।
নিশির বাবা এবারে ও আসিফ কে বার করে দিলে।এতে নিশি ও কাদতে কাদতে আসিফের সাথে চলে যায়।
এখন নিশির বাবা ভাবেন,নাহ ওদেরকে মেনে নিই।এই ভেবে তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন আসিফের বাসায় যাবে বলে।কিছুদূর গিয়ে তার ট্যাক্সি জ্যামে আটকে যায়।ট্যাক্সি থেকে বাহির হয়ে এসে কারণ জানতে চাইলে(এখানে সচরাচর জ্যাম হয়না।) এক ট্যাক্সি ড্রাইভার জানায়,সামনে এক্সিডেন্ট হয়েছে।এক্সিডেন্টে নাকি দুইজন মারাও গেছে।নিশির বাবা দূঘর্টনা স্থলে গিয়ে দেখেন,তার প্রাণের টুকরা রাস্তায় পড়ে আছে মৃত অবস্থায়।সঙ্গে আসিফ ও।সেখানেই নিশির বাবা র হার্ট এ্যাটাক হয়।এখন সে কমাতে।

Share This:

Shakil

আমি ব্লগ এর জগতে নতুন।তাই লেখার হাত ও এখনো অনুন্নত,উন্নত করার চেষ্টায় আছি প্রতিনিয়ত।।আর তখন ই উন্নত হবে, যখন আপনারা আমার পোস্ট সম্পর্কে মন্তব্য করবেন।সেটা খারাপ হোক বা ভালো।
Close Menu

Content

Share This: