হারানো ছোট বোন

আমি এই গল্পে আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে বলব। এই ঘটনাটি আমার জীবনের চিরস্মরণীয় একটি ঘটনা। আমার বোন প্রীতি ছিল নম্র ভদ্র এবং শান্ত প্রকৃতির। চেহারায় মাধুর্য ছিল। আর পিংকি ছিল কিছুটা দুষ্টু প্রকৃতির। গায়ের রঙ শ্যামলা। আর এই দুই বোনের মধ্যে প্রীতি ছিল অতীব জ্ঞানী। তার গুনের তারিফ না করে পারা যেত না। তারা দুই বোন একই শ্রেনিতে অর্থাৎ ২য় শ্রেনিতে পড়ালেখা করত। আমরা ৩ ভাই বোনই একই স্কুলে পড়ি। আমাদের স্কুলের নাম “বি এ এফ শাহীন কলেজ,কুর্মিটোলা” । প্রীতি-পিংকি চামেলি শাখায় পড়তো। রোল ছিল ০১(প্রীতির)এবং ০৪(পিংকি)। ২০০৯ সালে ২য় মেয়াদী পরিক্ষায় আমার ফলাফল অনেক খারাপ হয়েছিল। দুইটি বিষয়ে পাশ করতে পারিনি। আমার বাবা রাগে আমার পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। শুধু প্রীতির কথায় বাবা আমাকে মাফ করে দেন। কারণ প্রীতি কষ্ট পায় এমন কাজ বাবা কখনো করেননি। ঐ বছরে যখন শবে বরাত আসলো তখন প্রীতি সারারাত জেগে নিজের জন্য বিন্দুমাত্র দোয়া না করে আমি যেন পাশ করতে পারি সেই দোয়া করেছে। সে রাত্রে প্রীতির মহৎ কাজটি পৃথিবীর আর কোন বোন বোনের জন্য করেছে বলে আমার মনে হয় না। ৩য় মেয়াদি পরিক্ষার ফলাফলের পালা। ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ। ২৯তারিখ সারারাত প্রীতি আমার ফলাফলের চিন্তা করে ঘুমাতে পারেনি। পরদিন স্কুলে গিয়ে প্রীতি-পিংকি তাদের শাখায় এবং আমি আমাদের শাখায় চলে গেলাম। যারা পরিক্ষায় ১ম,২য়,৩য় হয়েছে তাদের ফলাফল আমাদের কলেজের মাঠে ঘোষনা করা হয়। কিছুক্ষন পর ঘোষনা এলো প্রীতি মেধা তালিকায় ৩য় স্থান অধিকার করে ২য় শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। আমিও মোটামোটি ভালভাবেই পাশ করেছি। মুহূর্তেই আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু এই আনন্দ যে আমাদের সুখ না হয়ে দুঃখ হয়ে দাঁড়াবে তা কে জানে?? এই হাসিই প্রীতির সাথে আমার শেষ হাসি ।
মা আমাদের তিন ভাই-বোনকেই কিছু খাবার কিনে খাইয়ে আবার বাসায় আসার সময় বলল,”মা, আমি অধ্যক্ষ স্যারের কাছ থেকে পুরষ্কার নিয়ে আসার সময় সবকিছু ঝাপ্সা দেখছিলাম এবং একজঙ্কে দুইজন মনে হচ্ছিলো।”সেদিন রাত্রেই প্রীতি অসুস্থ হলো। তার দুইদিন পর প্রীতি মারা গেল। প্রীতি যখন মারা গেছে তখন আমি বাসায়। আব্বুর এক বন্ধু এসে আমাকে জানালো। তখন আমার মনে হল আমি যেন আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটি হারিয়ে ফেলেছি। এখন প্রীতি নেই। কিন্তু প্রীতির স্মৃতি এখনো আমার চখে ভাসে,তার ভাইয়া ডাক এখনও আমার কানে জাগে। প্রীতির কথা মনে হতেই আমার দুচোখ অশ্রুতে ভিজে যায়। প্রীতির এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমার মনের মধ্যে দাগ কেটে আছে। আমি সারা জীবনেও ভুলতে পারবো না আমার হারানো ছোট বোনটিকে।
*************************************************Thanks For Reading.
Always stay with cyber bangla.

Share This:
Close Menu

Content

Share This: